ঢাকা, বুধবার 18 April 2018, ৫ বৈশাখ ১৪২৫, ১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চাঁদা না দেয়ায় ডুমুরিয়ায় শালতা নদীর খনন কাজ বন্ধ

খুলনা অফিস: ধার্যকৃত চাঁদা না পেয়ে এক যুবকের নেতৃত্বে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শালতা নদী খনন কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ঘটনাটি শুনেছেন। তবে ঠিকাদান প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, চলতি অর্থ বছর গত একমাস ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড সরকারি অর্থায়নে (জিওবি) ৭৬ কোটি টাকা ব্যয় ৩০ কিলোমিটার জুড়ে খনন কাজ শুরু করে। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগীতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫ ভাগ ওই নদী খনন কাজ শেষ হয়েছে। ঘটা করে গত শনিবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব ডুমুরিয়া এলাকার আব্দুল হালিম গাজীর ছেলে পল্টু গাজীর (২৮) নেতৃত্বে অজ্ঞাত বেশ কয়েকজন যুবক পূর্ব-ডুমুরিয়া নদী খনন এলাকায় উপস্থিত হয়। এ সময় খনন কাজে নিয়োজিত সাব-ঠিকাদার মো. নুরুল ইসলাম শেখকে ডেকে বলা হয়, খনন কাজ বন্ধ করতে।
কারণ জানতে চাইলে পল্টু বলেন, এখানে নদী ও নদীর দু’পাড়ের সব জমি আমার বাপ-দাদার। আমি এই এলাকায় যা বলি তাই হয়। এখানে নদী খনন করতে হলে আমাকে (পল্টু) পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। আর টাকা না দিলে স্কেমিটারের চাকা ঘুরবে না। যারা জোর করে স্কেমিটার ঘুরাবে, তাদের লাশ ওই নদীতে পড়ে থাকবে। তাছাড়া গত শনিবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত পল্টু সরাসরি দেখা করে ও মোবাইলে তার ধার্যকৃত চাঁদা পরিশোধ করে, খনন কাজ শুরু করতে বলেছে। তবে আমি (নুরুল) পল্টুকে বলেছি চাঁদার বিষয়টি আপনি সরাসরি মূল ঠিকাদারকে বলেন। এসব অভিযোগগুলো কথা বলেছেন, শালতা নদী খনন কাজে নিয়োজিত সাব-ঠিকাদার মো. নুরুল ইসলাম শেখ।
এ ব্যাপারে পল্টু গাজীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি (পল্টু) খনন কাজ বন্ধ করেছি। চাঁদা তো চাইনি, বিভিন্নজনের জমি নষ্ট হচ্ছে তাই জনস্বার্থে খনন এলাকায় জমি বাবদ ক্ষতিপূরণ চেয়েছি মাত্র।
ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আছফার হোসেন জোয়াদ্দার বলেন, এক শ্রেণী মানুষ বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এ অপচেষ্টা। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী।
শালতা নদী খননের ঠিকাদার ‘ওমর এন্টারপ্রাইজে’র মালিক ওমর বিশ্বাস ও শেখ মিজানুর রহমান জানান, পল্টু গাজী পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে। টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত নদী খননের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
খনন কাজে নিয়োজিত বলে, সন্ত্রাসীদের ভয়ে রয়েছি। তাছাড়া গত চারদিন খনন কাজ বন্ধ। ওই সময়ের মধ্যে আধা কিলোমিটার নদী খনন হয়ে যেতো। এখন ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি।
ডুমুরিয়া থানার ওসি মো. হাবিল হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহম্মাদ আশেক হাসান বলেন, বিষয়টি গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শুনেছি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।
এ ব্যাপারে খুলনা পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, শালতা নদী খনন এলাকায় পল্টু নামের এক যুবক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এমনকি ভয়ভীতি দেখিয়ে খনন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বলেছি থানায় মামলা করতে। আর এ বিষয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ