ঢাকা, রোববার 21 October 2018, ৬ কার্তিক ১৪২৫, ১০ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

‘কালো সোনা’র চাষে কৃষকের মুখে হাসি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় পেঁয়াজ বীজ চাষে হাসি ফুটেছে ফরিদপুরের কৃষকদের মুখে। আর তাই একে তারা 'কালো সোনা' নামকরণ করেছেন। 

ফরিদপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে আড়াই হাজারের অধিক হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় জেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে পেঁয়াজ বীজের চাষ। চলতি মৌসুমে ফরিদপুর জেলায় ১ হাজার ১২৭ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ফরিদপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ তিনকর চন্দ্র দাস বলেন, চলতি মৌসুমে ফরিদপুর অঞ্চলের চার হাজার মণের বেশি পেঁয়াজ বীজ উৎপাদিত হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৮ কোটি টাকার মতো। এরমধ্যে ১ হাজার ১২৭ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বীজ শুধু ফরিদপুর জেলাতেই উৎপাদন হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সংগৃহীত মোট পেঁয়াজ বীজের ৬০ শতাংশ ফরিদপুর জেলা থেকে আসে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ও ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে এখন পেঁয়াজ বীজ তোলায় চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল থেকেই পরিবারের বিভিন্ন বয়সীদের নিয়ে জমি থেকে বীজ তোলার কাজ শুরু করেন জেলার চাষিরা। অনেকে আবার জমিতে চুক্তিতে কাজ করছেন।

অম্বিকারপুর এলাকার গোবিন্দুপুর মাঠে কৃষক হারিজ মোল্লা, জুলেখা বেগম, ফাতেমা খানমের মতো আরো অনেকেই জানালেন, 'এই মৌসুমে আমরা বীজ তোলার কাজ করে যে পেঁয়াজ পাই তা দিয়ে সংসারের সারা বছরের পেঁয়াজের চাহিদা মিটে যায়।'

ভালো আয়ের আশায় দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকও আসে এসময়। মাঠে গিয়ে দেখা যায়, অনেক কৃষক এসেছে রাজশাহী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর জেলা থেকে।

এদের মধ্যে আব্দুর রহমান ও হাফিজুর শেখ জানান, 'পেঁয়াজ বীজ তোলার সময় আমাদের মতো অনেকেই ফরিদপুরে আসে। এই সময়টায় আমাদের ভালো আয় হয়।'

এলাকার পেঁয়াজ বীজ চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজ বীজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিঘা প্রতি তিন মণের বেশি বীজ উৎপাদন হবে। বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতি মণ পেঁয়াজ বীজের দাম ৭০ থেকে ৮০ হাজারের অধিক টাকা। আর খরচ প্রতি বিঘায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে বিঘা প্রতি আড়াই লাখ টাকার বেশি লাভের আশা করছেন কৃষকরা।

ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর গ্রামের মো. বক্কার খান বললেন, পেঁয়াজের বীজের কালো দানা আমাদের এলাকার 'কালো সোনা' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বাজারে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে পেঁয়াজ বীজ আমাদের কাছে সোনার মতন।

তিনি জানান, আমাদের এই অঞ্চলের বীজ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকার বিএডিসির মাধ্যমে সরবরাহ করে।

তার দাবি, বিএডিসি প্রতিবারের ন্যায় এবারও যেন সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে এই বীজ সংগ্রহ করে। তবেই চাষিরা লাভবান হবে উৎসাহিত হবে এই বীজ চাষাবাদে।

গোবিন্দুপুর গ্রামের আরেক পেঁয়াজ বীজ চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া বীজ উৎপাদনে জন্য খুবই উপযোগী। এই বছরে জমিতে যে ফলন দেখছি তাতে বাম্পার উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। 

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংকগুলো শুধু জমির মালিকদের ঋণ দেয়, আমার মতো বর্গা চাষিদের ঋণ দেয়া হয় না। আমরা বাধ্য হয়ে এনজিও কাছ থেকে অধিক সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ বীজ চাষ করি।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, 'এ বীজ উৎপাদন করে রবি মৌসুমে চাষিরা অধিক মুনাফা করে। এই কারণে এই ফসলকে কালো সোনা হিসাবে অভিহিত করা হয়।

তিনি জানান, 'কৃষি বিভাগ জেলা পেঁয়াজ বীজ চাষিদের নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকে, যে কারণে দিন দিন পেঁয়াজ বীজের আবাদ বাড়ছে।'

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, ফরিদপুরের পেঁয়াজ বীজ বিএডিসির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলাতে সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও এ বীজ চাষে অনেক বেকার যুবকরা তাদের কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পেয়েছে। কারণ অল্প খরচে অধিক মুনাফা লাভ করার সহজ উপায় হলো পেঁয়াজ বীজ চাষ।

এদিকে পেঁয়াজ বীজ চাষ করে ফরিদপুর সদর, ভাঙ্গা, নগরকান্দা, সদরপুর ও সালথা উপজেলার চাষিদের এখন আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।-ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ