ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 April 2018, ৬ বৈশাখ ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে গভীর শঙ্কায় বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার : কারাগারে আটক বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে গভীর শঙ্কার কথা জানিয়েছে বিএনপি। একইসাথে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ‘প্রতিহিংসার আরেকটি রোডম্যাপ’ হিসেবে দেখছে দলটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়  গতকাল সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,  এখন তার  ( শেখ হাসিনা)  টার্গেট হচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাকে টার্গেট করে প্রধানমন্ত্রীর যে মনের ক্ষোভ, তার যে মনের প্রতিহিংসা- এটা চরিতার্থ করতে তিনি আরেকটা রোডম্যাপ খোলার চেষ্টা করছেন। আমি বলতে চাই, সেটাতে লাভ হবে না, এটাতে কখনো লাভ হয়নি। কারণ প্র্িথবীর সব দেশ তো শেখ হাসিনার মতো নিষ্ঠুর একনায়কতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক দেশ নয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ গণতান্ত্রিক দেশ, সেখানে মানবিক মূল্যবোধ আছে, সেখানে অনেককিছু মানবাধিকারের সাথে জড়িত আছে। তারা জানে এই সরকারের প্রকৃতি কী, এই সরকারের নিষ্ঠুতার কী এদেশে কি ধরনের বীভৎস পৈশাচিকতা শাসন বিদ্যমান আছে সেটা তারা জানে।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সারোয়ার, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, এম এ মালেক, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আসাদুল করীম শাহিন,মুনির হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, এটা তো আওয়ামী বিচার হচ্ছে, এটা তো শেখ হাসিনার বিচার, প্রকৃত বিচার  নয়। কারণ আইনের শাসনকে তারা কালো কাপড়ে জুড়ে রেখেছে। অনেক সময় বিচারকরাই কখনো কখনো ন্যায়ের পক্ষে রায় দিলেও সেই বিচারক দেশে থাকতে পারেন না।
তিনি বলেন, যেখানে শেখ হাসিনার আইন বিদ্যমান, তার রায় বিদ্যমান, তার সাজানো মামলায় সাজা দিতে হবে। যদি বিচারক রায় না দেন তাকে পালিয়ে যেতে হবে মালয়েশিয়ায়। এখানে প্রকৃত আইনের শাসন চলছে না। তিনি যেমন অন্যায়ভাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রেখে জুলুম নির্যাতন করছেন। তার যেমন চিকিৎসাও করতে দিচ্ছে না। তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করছেন, হয়রানি করছেন, পর্যুদস্তু করছেন।
মঙ্গলবার লন্ডনে ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে (ওডিআই) এক সেমিনারে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন। তার মূল বক্তব্য উপস্থাপন শেষে প্রশ্নোত্তরে এক সাংবাদিক বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশে দ-িত অপরাধী হয়ে কীভাবে এদেশে আছেন? তাকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ সরকারের আছে কি না? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের দরজা সবার জন্যই খোলা, যে কেউ উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় নিতে পারে এটা সত্য। কিন্তু এই ব্যক্তি দ-িত এবং আমি বুঝতে পারি না যুক্তরাজ্য একজন দ-িত ব্যক্তিকে কীভাবে আশ্রয় দেয়। তাই এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের জনগণকেই প্রশ্ন করাই শ্রেয়।
রিজভী বলেন,  মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বৃটেনের স্বনামধন্য টিভি চ্যানেল-ফোর এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিরোধী দল ও মতের ব্যক্তিদের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি প্রশ্নটি এড়িয়ে যান, কিছু বলেননি। কিন্তু বাংলাদেশে কিছু মিডিয়া এটাকে কিন্তু নিউজে নিয়ে আসেনি। তারা নিয়ে এসেছে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনা হবে। মানে কিভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। গণতন্ত্র আজকে ধুলিসাৎ, আজকে মানুষের বাক স্বাধীনতা মৃত্যুপ্রায়,  নাগরিক স্বাধীনতা ঠুকরে ঠুকরে কাঁদছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা  জেলখানায় না হলে আঁধারে-অন্ধাকারে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ঠিক সেই মুহুর্তে বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যম একেবারে নিলর্জ্জভাবে আত্মা বিক্রি করে দিয়েছে এই নির্দয় অবৈধ সরকারের কাছে। একটা জাতি যখন ভয়ংকরভাবে দুদর্শায় পড়ে তখন গণমাধ্যম একটা বিবেকের ভুমিকা পালন করে। আজকে সেই বিবেকের ভুমিকা নসাৎ হয়ে গেছে কিছু গণমাধ্যমের কাছ থেকে। তবে দেশের এরকম পরিস্থিতিতে যেসব গণমাধ্যম’ সাহসী ভুমিকা পালন করছে তাদের প্রতি ‘সংগ্রামী সালাম’ও জানান রিজভী
কারাগারে খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্য ‘ডাহ্যা মিথ্যা’ বলেছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, কারাবন্দি দেশনেত্রী স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে আমরা বার বার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কারাকর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগই গ্রহন করছেন না। বরং স্বাস্থ্য বলেছেন বেগম খালেদা জিয়াকে যথাযথ মর্যাদায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ডাহ্যা মিথ্যাচার। সরকারের মেডিকেল বোর্ড দেশনেত্রীকে অর্থোপেডিক বেডসহ যেসব চিকিৎসার সুপারিশ করেছিলো তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। তার যে অসুস্থ দিনকে দিন বাড়ছে। কারাগারে তার কোনো চিকিৎসাই হচ্ছে না। মনে হচ্ছে এতে গভীর চক্রান্ত রয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষে টালবাহানায় দেশনেত্রীর জীবন নিয়ে আমরা গভীর শঙ্কা প্রকাশ করছি। খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার দাবি আবারো জানান রিজভী।
বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও তার জামিন স্থগিত করা ঐ চক্রান্তেরই অংশ। সুতরাং বিশ্বের অন্যান্য দেশের নির্দয় স্বৈরশাসকদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি নির্মম আচরণের মতো বাংলাদেশের স্বৈরশাসকও দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে নির্দয় আচরণ করে তাকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলতে মারাত্মক চক্রান্তজাল বুনছে। তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও অসুস্থাকে আড়াল করতে সরকারের ফন্দিফিকির বন্ধ করে তার নিজস্ব চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অবিলম্বে দেশনেত্রীকে তার পছন্দানুযায়ী রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য আবারও জোর দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ