ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 April 2018, ৬ বৈশাখ ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাড়ছে বৈষম্য কমছে কর্মসংস্থান

সংগ্রাম রিপোর্ট : দেশে বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। গরীবরা ধনী হচ্ছেন না বরং ধনীরা হচ্ছেন আরও ধনী। আর গরিবরা হচ্ছেন আরও গরিব। গরীব থেকে উত্তোরণের গতি কমে গেছে। কমে গেছে কর্মসংস্থান। সরকারের মধ্যে থেকেও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হতে চললেও বাস্তবতা হচ্ছে দেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। দুর্নীতিপ্রবণ দেশ দারিদ্র্য বিমোচনে সফলতা অর্জন করতে পারে না। এক্ষেত্রে সুশাসনের বিষয়টি জড়িত। এটা পরিসংখ্যানে প্রমাণিত যে, সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে দারিদ্র্য বিমোচনেও সফলতা পাওয়া যায় না। যেসব দেশ দুর্নীতির সাথে জড়িত সে দেশ দারিদ্র্য বিমোচনে সফলতা পায় না। সুতরাং আমাদের এসব বিষয়ে মনোযোগী হতে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পর্যবেক্ষণ বলা হয়েছে, ২০১০  থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে মানুষের আয়ের বৈষম্য বেড়েছে। ২০১৬ সালে দেশের মানুষের মোট আয়ের ০.২৩ শতাংশ আসে সবচেয়ে দরিদ্রদের পাঁচ ভাগ থেকে যা ২০১০ সালে ছিল ০.৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৬ সালে মোট আয়ে সবচেয়ে ধনী পাঁচ শতাংশের অবদান ২৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ যা ২০১০ সালে ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ ধনীরা ২০১০ সালে যা আয় করতেন ২০১৬ সালে এসে এরচেয়ে বেশি আয় করছেন। অন্যদিকে আয় কমেছে গরিবদের। সবচেয়ে দরিদ্র পাঁচ শতাংশের খানা প্রতি আয় (হাউজহোল্ড ইনকাম) ২০০৫ সালে ছিল ১১০৯ টাকা, যা কমে ২০১৬ সালে ৭৩৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ধনী পাঁচ শতাংশের খানা প্রতি আয় ৩৮ হাজার ৭৯৫ থেকে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৪১ টাকা। ২০১০ সালে দেশের মোট সম্পদের ৫১ দশমিক ৩২ ভাগ ছিল সর্বোচ্চ ধনী পাঁচ শতাংশের কাছে। অন্যদিকে ০.০৪ ভাগ ছিল সবচেয়ে দরিদ্র পাঁচ শতাংশের কাছে। ২০০০ থেকে ২০০৫ সালে দারিদ্র্য হ্রাসের হার ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ যা ২০১০ থেকে ২০১৬ সালে নেমে হয়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৩ থেকে কমে হয়েছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ।
সিপিডির তথ্যে উল্লেখ করা হয়, সরকারের হিসাবে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। প্রবৃদ্ধি দিয়ে তো আমাদের কিছু হবে না। আসল কথা হচ্ছে কর্মসংস্থান ও আয় হলো কি না। উচ্চতর প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ শোভন কর্মসংস্থান। কারণ যে কর্মসংস্থানটুকু সৃষ্টি হয়েছে সেটা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যেখানে আয় কম। এই পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচনের বছর বাজেট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযত সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দিকে নজর রাখতে সরকারকে পরামর্শ দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে সিপিডির গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে প্রবৃদ্ধির সুফল পৌঁছায়নি। গরিবরা আরও গরিব হচ্ছে। ধনীরা হচ্ছে আরও ধনী।
সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, প্রবৃদ্ধির গুণগত মানের অভাবে সামষ্টিক অর্থনীতির অগ্রযাত্রার মধ্যে বৈষম্য বেড়েছে। বাংলাদেশ গত এক দশক ধরে একটি শোভন প্রবৃদ্ধির হার রক্ষা করতে পেরেছে। কিন্তু এই শোভন প্রবৃদ্ধির হারের নিচে যে অন্ধকারটি রয়েছে সেটি হল দেশের ভেতরে সে তুলনায় কর্মসংস্থান হয়নি। দারিদ্র্য বিমোচনের হার শ্লথ হয়েছে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই বৈষম্য শুধু আয়ে আর ভোগে বৃদ্ধি পায়নি। বৃদ্ধি পেয়েছে সম্পদের বৈষম্য। অর্থনৈতিক বৈষম্য ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ