ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 April 2018, ৬ বৈশাখ ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্যক্তিগত নোংরামির রাজনীতি ছেড়ে জবাবদিহিতার নেতৃত্ব চর্চার আহ্বান

খুলনা অফিস : বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ব্যক্তিগত, প্রতিহিংসা ও নোংরামির রাজনীতি ছেড়ে আসুন খুলনাবাসীর কাছে স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক নেতৃত্বের চর্চা করি। খুলনাবাসী আমাদের কাছে সঠিক নেতৃত্বের আশা করে। আমরা নেতৃত্বে থেকে আগামীর জন্য সৎ, যোগ্য ও আর্দশিক রাজনীতিবীদ গড়ে তুলতে চাই। যাতে কোন ব্যবসায়ী এসে আমাদের পদ-পদবী কেড়ে নিতে না পারেন। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে প্রেসব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। গত মঙ্গলবার মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রেসব্রিফিংয়ের প্রতিবাদে এ প্রেসব্রিফিংয়ের পরে আওয়ামী লীগ আর নোংরামি না করতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। স্বচ্ছতা চাই, জবাবদিহিতামূলক রাজনীতির আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতেই বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে দল কেসিসি নির্বাচনে অংশ নিয়ে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করিনি; নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু করবো। ওয়ার্ডপর্যায়ে সাংগঠনিক সভা, ভোট কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচর পরিচালনা কমিটি গঠনের কাজ চলছে। পোলিং এজেন্টদের তালিকা প্রস্তুত চলছে। প্রচারসহ ১২টি উপ-কমিটি প্রস্তুত হয়েছে, তারা কাজ করছে। এ প্রস্তুতি কাজে জেলা ও নগর বিএনপি, অঙ্গ সহযোগী সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা মূখ্য ভূমিকা পালন করবেন। এসব কমিটির সকল কাজ হবে দৃশ্যমান। মিডিয়াকর্মীদের কাছে কতৃজ্ঞ যে, প্রতিদিন আমাদের ভাবনা ও প্রস্তুতি জাতির সামনে তুলে ধরছেন। খুলনা সিটি করপোরেশন নিয়ে আমাদের ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা সব বিষয়-ই আমরা তুলে ধরছি। আগামী ২৪ এপ্রিল নির্বাচনী ইশতিহারে জনগণের কাছে আমাদের কর্মপরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা জানিয়েই যাত্রা শুরু করবো ইনশাআল্লাহ্---। এ নির্বাচনে বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করবে।
দলের চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ; দেশের রাজনৈতিক সংকট চলছে। বিএনপিকে রাজনীতি করতে দেয়া হয় না; কথা বলতে দেয়া হয় না। এমন একটা মুহূর্তে আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি আন্দোলনের অংশ হিসেবেই। এ নির্বাচনের মধ্যদিয়েই দেশে গণতন্ত্রের সংকট, সরকারের অনিয়ম-দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অর্থনীতির দুরাবস্থাসহ সব বিষয় আমরা জাতির সামনে তুলে ধরবো। যেহেতু আমাদের রাজনীতি করার সুযোগ খুবই সীমিত। আর বিএনপি এ সুযোগকে কাজে লাগাতেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের দিক-নির্দেশনা মোতাবেক আমরা কাজ করছি। ঐক্যবদ্ধ বিএনপি, ঐক্যবদ্ধ ২০দল নিয়েই আমরা এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ্ খুলনা ধানেরশীষ’র শহর, বিএনপি’র শহর। গত কোন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হয়নি; ইনশাআল্লাহ্ ভবিষ্যতেও হবে না। আমরা সেই বিজয় ধারাকে রক্ষা করতে চাই।
তিনি বলেছেন, আশা করবো, তফসিল ঘোষণার পরদিন নির্বাচন কমিশনে নয় দফা দাবির যে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম; সে দাবিগুলো  মেনে নিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ রচনা করবেন। কিন্তু আমরা এতোদিনে নির্বাচন কমিশনা বিশেষ করে খুলনার রিটার্নিং অফিসার আমাদের কোন দাবি বাস্তবায়ন করার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই। তিনি বলছেন, সিইসি আসবেন, তিনি আপনাদের সাথে বসবেন, তিনি-ই পদক্ষেপ নেবেন। আমরা সিইসি আসার অপেক্ষায় আছি। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি সিইসি’র দপ্তরে গিয়ে আমাদের দাবির কথা উল্লেখ করেছেন। আমরা এ নির্বাচনের স্বচ্ছতা আশা করি, সকলের অংশগ্রহণ ও সমান সুযোগ-সুবিধা আশা করি। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উৎসবমূখর পরিবেশে নির্বাচন আশা করি। প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে, পুলিশ নিরপেক্ষ থাকবে, রাষ্ট্রযন্ত্র নিরপেক্ষ  থাকবে, আমরা আশা করবো- সরকারি দল বিগত তিনটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের ভোট ডাকাতির অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগাবেন না। আমরা আশা করবো- নোংরামি, হুমকি, ভয়ভীতি ও খুলনা শহরে সরকারি দলের দুষ্কৃতিকারী সন্ত্রাসীরা যেনো এ নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে। নিবাচন কমিশন ও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আমরা চাই- একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং সরকারের ডাকসাইটে নেতারা যাদের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কোন বৈধতা নেই তাদেরকে দুরে রাখার জন্য আমরা আহ্বান জানাবো। নির্বাচনী আচরণবিধি কেউ লঙ্ঘন না করেন সেদিকে নির্বাচন কমিশনকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, হটাৎ একটি সংবাদ আমাদের চিন্তায় ফেলেছে- আওয়ামী লীগের মাহবুব উল আলম হানিফ সাহেব এসে খুলনার প্রবেশদ্বারে মিটিং করেছেন। নেতারা আসবেন শহরে বসেই তাদের কাজ করবেন। দৃষ্টি আড়াল করার জন্য এধরণের কূটকৌশল বর্জন করবেন। এটা জনগণ সন্দেহ করে, যে কোন বার্তা নিয়ে এসেছেন? কি করতে চান? এব্যাপারে আমরা রাজনৈতিক চোখ-কান খোলা রাখবো; যাতে কোন প্রশাসনকে সরকারি দলের কোন নেতা কোন ম্যাসেজ দিতে না পারেন। জনগণকে সাথে নিয়ে সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় বিএনপি; এটা বিএনপি’র চ্যালেঞ্জ। সকল বাঁধা-বিপত্তি মোকাবেলা করে বিএনপি সামনে এগোবে। সেই দৃঢ়তা খুলনা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মধ্যে আছে। আমাদের বিরুদ্ধে শত মিথ্যাচারের জবাব আমরা দেবো।
তিনি বলেছেন, দৃঢ়তার সাথে বলছি- চরিত্রহননের কোন প্রক্রিয়া সরকারি দলের সফল হবে না। জনগণের কাছে বিএনপি’র জবাবদিহিতা আছে। জনগণ আমাদের চেনে-জানে। খুলনার জনগণের সামনে আমরা জন্ম নিয়ে মানুষ হয়েছি। আমাদের জীবন-যাপন অত্যন্ত স্বচ্ছ। আমিসহ খুলনা বিএনপি’র কোন নেতার বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সম্পদ লুটপাট, মাদক ব্যবসার ভয়াবহ প্রসারে ভূমিকা, সন্ত্রাস ও মাদককে প্রশ্রয়, টেন্ডারবাজী, মানুষের সম্পদ দখল, ভূমিদস্যুতা এমনকি প্রতারণার কোন অভিযোগ নেই। উচ্চ কণ্ঠে বলতে পারি শত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি। আমাদের আঞ্চলিক নেতারা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব। এ কথার মধ্যে বলতে চাই না, আওয়ামী লীগের সকল নেতা খারাপ। সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে এ শহরের নেতাদের রাজনৈতিক চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। বিএনপি’র একজন নেতার বিরুদ্ধে এর একটি অভিযোগ যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখনও ছিল না; আজও নেই। এই শহরের কোন দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে খুলনা বিএনপি’র একজন নেতাও জড়িত নয়। সেই দলের নেতাদের ইঙ্গিত করে কিছু বক্তব্য গতকাল আওয়ামী লীগ রেখেছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে বলতে চাই মরহুম সৈয়দ ঈসা একজন সাংবাদিক ও রাজনীতিক ছিলেন। তিনি ইন্তিকালের পর তার ব্যাংক এ্যাকাউন্টে দুই/চারশ’ টাকার বেশি ছিল না। এ রকম নেতা আমাদের অনেক আছেন, যারা উৎসর্গ করেছেন তাদের জীবন রাজনীতিতে। সেই নেতাদের সম্পর্কে নোংরা ভাষায় কটূক্তি করার আগে তাদের বুক কাঁপেনি। আমরা তাদের অতীত ইতিহাস নিয়ে চর্বিত চর্বন করবো না, খুলনাবাসী জানেন।
নগর বিএনপি’র সভাপতি মঞ্জু বলেন, প্রার্থী হিসেবে আমার বক্তব্য বলতে এসেছি। আমি সীমিত আয়ের মানুষ। আমার পিতার একটি বাড়ি আছে, দুইটি ব্লিডিং চারতলা ও একতলা। সেখান থেকে ত্রিশ/বত্রিশ হাজার টাকার মতো ভাড়া পাই। আমি কয়েকবার ব্যবসা করার চেষ্টা করে উদ্যোগ নিয়েছি; আমার আর মনি ভাইয়ের একটান যৌথ লাইসেন্স আছে সিএন্ডএফ’র। যদিও সেটায় কাজ করা যায় না। আমি নিজে কয়েক বছর চেষ্টা করেও মংলা বন্দরের কোন কাজ ধরতে পারি নাই। যেখানেই কাজ ধরতে যাই, সেখানেই তালুকদার সাহেবের হস্তক্ষেপ। সেই ব্যবসায়ীকে বলে দেয়া হয়, মঞ্জুকে কাজ দেলে জাহাজ এখানে মাল নামানো যাবে না। এই কথাটি আমি খালেক সাহেবকে বলেছি, যে আমরা কি না খেয়ে থাকবো? আমি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নোংরামির কথা বলতে চাই না। আমরা একটি গাড়ি আছে, যেটি আমি এমপি থাকাকালীন শুল্কমুক্ত পেয়েছিল। বিশ লাখ টাকা ব্যাংক লোন ও পৌনে চার লাখ নিজে দিয়ে আমি গাড়িটি কিনেছিলাম। পরে সংসদে প্রাপ্ত সম্মানী থেকে ব্যাংক লোন পরিশোধ করেছি। আমরা যখন অর্থ সংকট হয়; তখন আমি গাড়ি ছেড়ে রিকশায় চলাচল করি; মোটরসাইকেলে চরি- সকলেই তা জানেন। আমি সবসময় একা চলি; আমার কোন বাহিনী নেই। আমার বিশেষ পাহারা নেই।
আমার স্ত্রীর ও আমাদের বাড়ি ভাড়া মিলে পৌনে পাঁচ লক্ষ টাকা বার্ষিক আয়। আমার দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ তাদের মামারাই বহন করেন। আমার স্ত্রীর পরিবার সম্পর্কে সকলেই জানা, এই শহরের একটি ধণাঢ্য পরিবার। আমার কর্মীরা মাঝে-মধ্যে আমাদের রসিকতা করে বলেন, মঞ্জু ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ী আছেন। আমার মেয়ে চারটি টিউশনি করে তার পড়ার খরচ নির্বাহ করছে। এটা আমি বলতে চাইনি। যেহেতু আওয়ামী লীগের নেতারা কু-ইঙ্গিত করেছেন; যাতে আমি আহত হয়েছি। বাংলাদেশের কোন এমপি বা বড় নেতার সন্তানেরা হাউসটিউটর হয়; আমার জানা নাই। আমার দু’সন্তান হাউসটিউটর; আমি গর্বের সাথে বলতে পারি- এটা আমার সন্তানদের ত্যাগ। আলীশান বাড়িতে আমি থাকি না; এই শহরের সবচেয়ে ছোট্ট বাসায় ছোট ছোট দু’টো রুম নিয়ে আমি থাকি। যার ভাড়া হচ্ছে নয় হাজার টাকা। আওয়ামী লীগের নেতারা এসব বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন। সাংবাদিকদের তার বাসা দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন; তবে সকলে একসাথে গেলে সবাইকে একত্রে বসতেও দিতে পারবেন না দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
গিয়ে দেখে আসবেন, ২৬ বছরের পারিবারিক জীবনে আমার বাড়িতে ২৬ বছরের পুরানো ফার্নিচার এবং ২৬ বছর আগের টিভি। আধুনিক কোন কিছুই আমার বাড়িতে নাই। আমার যখন বিয়ে হয়েছিল, তখন একটা ভাঙা খাট নিয়েই দাম্পত্য জীবন শুরু হয়েছিল। ঘরের আসবাবপত্র গুলো স্ত্রীর চাকরির টাকায় ও শ্বশুর বাড়ির দেয়া উপহার। রাজনীতি করাটা আমার বাবা পছন্দ করতেন না বলে আমাকে বাড়ির বাইরে থাকতে হয়েছে দীর্ঘ নয় বছর। যেদিন আমার গায়ে হলুদ সেদিন একটা ভাঙা স্যুটকেস নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করি। আমার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আওয়ামী লীগ কটাক্ষ করেছে। এসময় অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
তিনি আরও বলেন, আমার নিজের নামে কোন সম্পদ নাই। আমার ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা নাই, আমার নামে কোন ইউনিভার্সিটি নাই। অথচ যারা এর মালিক হয়েছেন তারা চালোনের একটা ছিদ্র দেখলেই হাস্যসর করেন, হাজারো ছিদ্র বাদ দিয়ে। সেই প্রার্থী আমাদের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছেন; হুমকি দিয়ে লাভ নেই। কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না। সত্যের পথে আমরা, ন্যায়ের পথে আমরা। এই শহরে সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আমরা। আমাদের নিয়ে মানুষের মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। জনগণের ঘরের মানুষ আমরা। আমাদেরকে মঞ্জু ভাই, মোর্ত্তজা ভাই, এজাজ ভাই, ডালিম ভাই, ফকরুল ভাই বলে ডাকেন; আমরা সাহেব নই।
আওয়ামী লীগ তারেক রহমান সম্পর্কে খুব নোংরা ভাষা কথা বলেছেন। একটি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সম্পর্কে যারা বক্তব্য রেখেছেন তাদের ভেবে দেখা উচিত তাদের পদ এবং পদমর্যাদা কতখানী। ভেবে দেখা উচিত- একটি পার্টির চেয়ারম্যান কটাক্ষ করে নোংরামি কোন ভাষা বলতে পারেন কি না? আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। সন্ত্রাসী বর্জন বিএনপি, মাদক বিক্রেতা বর্জন খুলনা বিএনপি। খুলনা বিএনপি জনগণের আস্থার জায়গাটি অর্জন করেছে। এজন্য নগরবাসীকে আসন্ন নির্বাচনে তার প্রতীকে ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
নির্বাচন কমিশন ও আপীল বোর্ডে আইনগতভাবে অভিযোগ করেছি- আমরা জানতে চাই। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যাংকের মালিক ছিলেন, উনি ব্যাংক ছেড়ে দিয়েছেন কি না? খুলনাবাসী জানতে চায় -সেখানে তার শেয়ার আছে কি না? ওখান থেকে লাভের অংশ পান কি না? খুলনাবাসী জানতে চায়- উনি কোন ফ্যাক্টরির মালিক কি না? খুলনাবাসী জানতে চায়- যে ইউভার্সিটি থেকে তিনি কোন লাভাংশ্য পান কি না? আমরা যদি মিথ্যা তথ্য জানতে চেয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেয়ে থাকি-উনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমরা চাই-সবকিছু স্বচ্ছ হোক। ব্যক্তিগত চরিত্রহরণের কোন প্রক্রিয়ায় আমার যেতে চাই না। খালেক সাহেবের অনেক নিন্দনীয় কাজ আছে যা আমরা এখন বলতে চাই না। তিনি বলেছেন, হাটে হাড়ি ভাঙবেন! আমি বলছি হাটে হাড়ি ভেঙে লাভ নেই। আমরা মুখ খুললে তিনি মুখ রাখতে পারবেন না। আমার স্ত্রীর নামে কোটি কোটি টাকা নাই। আমার স্ত্রী তার পিতার রেখে যাওয়া শত কোটি টাকার সম্পদের অংশীদার এবং সে সম্পদ অনেক। আমাদের কোন ডিপোজিট নাই; খালেক সাহেব ও তার স্ত্রীর কতগুলো ফিস্কটডিপোজিট। নয় বছর আগে তিনি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন; নয় বছরে তিনি এমন কি ব্যবসা করেছেন যে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। চিংড়ি মাছের ব্যবসা করতে গিয়ে ঘের মালিক, ফ্যাক্টরি মালিকরা দেওলিয়া হয়েছেন, মানুষ পথে নেমেছে আর খালেক সাহেব চিংড়ির ব্যবসা করে অগাদ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
একটি পত্রিকায় আলহাজ্ব মিজান সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদ দেখে খারাপ লেগেছে বলে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানকে বহুবার বলেছি, খারাপ মানুষ নিয়ে  ঘোরেন না। ইমেজ সংকটে পড়বেন। আমার চল্লিশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ইমেজসংকটের কোন ঘটনা ঘটেনি ইনশাআল্লাহ্---। যার জন্য জনগণ আমার উপরে আস্থা রাখতে, দল আস্থা রাখছে; আমার প্রমোশন হচ্ছে। মিজান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হতে পারে রাজনীতিক নেতাদের এই যে ডিমোশন, নষ্ট রাজনীতির কারণে ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসছেন এটা আমাদের জন্য লজ্জার। এ প্রক্রিয়ার সমর্থন আমরা করি না। আমরা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাহলে কোন ব্যবসায়ী আমাদের পদ-পদবী নিতে পারবে না।
প্রেসব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, সহ-সভাপতি খান আলী মুনসুর, নগর শাখার সহ-সভাপতি শেখ মুশাররফ হোসেন, আব্দুল জলিল খান কালাম, জাফরউল্লাহ্ খান সাচ্চু, মোঃ ফকরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মনিরুল হাসান বাপ্পী, সিরাজুল ইসলাম মেঝোভাই, শেখ আব্দুর রশিদ, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, এ্যাড. রুহুল হাসান রুবা, মোল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল ও সেখ কামরান হাসান প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ