ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 April 2018, ৬ বৈশাখ ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাফ ফুটবলে বাংলাদেশের গ্রুপে নেপাল ভুটান পাকিস্তান

 

স্পোর্টস রিপোর্টার : ঢাকায় হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তান। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আগামী ৪ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। গতবারের মতো এবারও আফগানিস্তান অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু অনান্য দেশগুলোর আপত্তির কারণে সেটা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান সাফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। ‘এবারও আফগানিস্তান খেলতে চেয়ে অনুরোধ করেছিল। আমারও কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বৈঠকের সময় প্রতিনিধিদের কথাগুলো ছিল এরকম-সাফ সাফই থাকবে। সাফের (দক্ষিণ এশিয়া) বাইরের কোনো দল এখানে থাকবে না। এ কারণেই আফগানিস্তানকে রাখা যায়নি।’ টুর্নামেন্টের ম্যাচ সূচি এখনও জানায়নি আয়োজকরা। তবে রাতে খেলা থাকলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের বর্তমান ফ্লাড লাইটে সেটা সম্ভব নয়। সালাউদ্দিন জানালেন বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ‘বিষয়টা নিয়ে আমরা এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। তারাও বিষয়টা নিয়ে বসেছে। আশা করি, সামনের সপ্তাহের মধ্যে এ সমস্যার সমাধানের একটা সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।’ গত তিনটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার লজ্জায় পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। ২০০৩ সালে নিজেদের মাঠে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত সর্বশেষ সাফের শিরোপা জিতেছিল দল। এবারও নিজেদের মাঠে খেলা বলে আশাবাদী বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি এবং সাবেক ফুটবলার সালাউদ্দিন জানালেন সহজ গ্রুপ বলতে কিছু নেই। ‘চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে আপনাকে শক্তিশালী এবং সহজ সব প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলতে হবে। আমার প্রত্যাশা তো দল ফাইনালে খেলবে। আসলে আমাদের গত প্রজন্ম ভালো ছিল না; এই প্রজন্মের খেলোয়াড়রা নতুন এবং তাদের নিয়ে আমি আশাবাদী। তবে, একটা কথা মনে রাখতে হবে, বাফুফে শুধু খেলোয়াড়দের জন্য দরকারি সবকিছুর ব্যবস্থা করে দিতে পারে। খেলে দিতে পারে না। কাতার, থাইল্যান্ডে প্রস্তুতির সুযোগ করে দিয়েছি। লাওসে প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিয়েছি। সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা দিচ্ছি কিন্তু বাকি কাজটা খেলোয়াড়দের করতে হবে।’ চুক্তির মেয়াদ ফুরানোর আগেই দল ছেড়েছেন কোচ অ্যান্ড্রু অর্ড। বর্তমান জাতীয় দলের কোচের পদটা তাই ফাঁকা। 

সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ জানালেন দ্রুতই কোচ নিয়োগ দেবেন তারা। ‘দল পূর্ণ প্রস্তুতির মধ্যে আছে। বেশ কয়েকজন কোচের আমাদের সঙ্গে কথা চলছে। আশা করি আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে কোচের বিষয়টি সুরাহা হয়ে যাবে।’ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ৪ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে নেপাল ও পাকিস্তান। উদ্বোধনী দিনের অপর ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান। ৪ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হবে গ্রুপর্বের খেলাগুলো। ১২ সেপ্টেম্বর হবে দুটি সেমিফাইনাল। আর ১৫ সেপ্টেম্বর হবে ফাইনাল। সাফের আগের ১১ আসরে বাংলাদেশ একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। তার আগে ১৯৯৯ সালে ফাইনালে ভারতের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল। ২০০৫ সালে আবারো ফাইনালে ভারতকে পেয়েছিল বাংলাদেশ। প্রতিশোধের সেই ম্যাচে একই ব্যবধানে হেরে রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এবার ঘরের মাঠে বাংলাদেশ পারবে কী চ্যাম্পিয়ন হতে? পথটা যে সহজ নয়। ফুটবলে বাংলাদেশের বর্তমানে যে অবস্থা তাতে বাংলাদেশের পক্ষে বাজি ধরার লোক খুঁজে পাওয়া ভার হবে। তার উপর ‘এ’ গ্রুপ  থেকে সেমিফাইনালে উঠতে হলে কমপক্ষে দুটি ম্যাচে জিততে হবে লাল-সবুজের জার্সিধারীদের। যেখানে ভুটান ও নেপালের মতো দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান শক্তিধর দল রয়েছে। এই ভুটানের কাছেই হেরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৭ মাসের নির্বাসনে গিয়েছিল বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষেও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স উল্লেখ করার মতো নয়। গতকালের  ড্র অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ,  সাফ ও বাফুফের সভাপতি কাজী মো. সালাহউদ্দিন, টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর সুজুকি মোটর করপোরেশন অ্যাডভাইজর (ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং অব মারুতি-সুজুকি ইন্ডিয়া লিমিটেড) সেইজি হামাদা। ড্র পরিচালনা করেন সাফের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলাল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ