ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 April 2018, ৬ বৈশাখ ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাগমারায় মৎসচাষিকে কুপিয়ে হত্যা

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় বিলে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক মৎসচাষিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে বিলে মাছচাষি ও প্রভাবশালীদের সংঘর্ষের জেরে মৎসচাষি আনিছুর রহমান নামে কুপিয়ে খুন করা হয়। এসময় পিতাকে উদ্ধার করতে গিয়ে দুই ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩০), আলী খাজা (২৫) ও প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ আহত হন। আহতদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এব্যাপারে বাগমারা থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্ততি চলছে বলে থানা ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছিম আহম্মেদ জানিয়েছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের জোকাবিলায় মাছ চাষ করার জন্য মৎস্য চাষ প্রকল্পের মাধ্যমে বিলের জমির মালিকদের নিকট থেকে ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১০ বছরের জন্য  জোকাবিল মৎস্য চাষি সদস্যরা লিজ গ্রহণ করে। ওই সময় থেকে জোকাবিলা মৎস্য চাষ প্রকল্পের প্রায় ৫০০ জন সদস্য মাছ চাষ করে আসছে। প্রতি বছরের মত এবারো  জোকাবিলে মৎস্য চাষি সদস্যরা মাছের পোনা ছাড়ার পরিকল্পনা নিলে একই ইউনিয়নের প্রভাবশালী হাট মাধনগর গ্রামের মৃত জোনাব আলীর ছেলে উজ্জল হোসেন ও আব্দুল জব্বার একটি গ্রুপ তৈরী করে জোকাবিলা মৎস্য চাষ প্রকল্পের সদস্যদের কাছ থেকে বিশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এই নিয়ে গত সোমবার উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষ বাড়ি ও ১০টি মোটর সাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়। ওই ঘটনায় জোকাবিলা মৎস্য চাষ প্রকল্প লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাদী ১৪ জনকে আসামী বাগমারা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এঘটনার জের গতকাল বুধবার মৎস্যচাষী সমিতির ক্যাশিয়ারের দায়িত্বশীল মৎসচাষি আনিছুর রহমান ভোরে স্থানীয় হাটমাধনগর বাজারে সমিতির অফিসে হিসাব শেষে বাজারে প্রবেশ করতে প্রতিপক্ষের সাথে বাকবিতন্ডা বাধে। এসময় পূর্ব পরিকল্পিত উজ্জল হোসেন ও আব্দুল জব্বারসহ ২০/২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল অতর্কিত আনিছুরের উপর হামলা করে। পিতাকে উদ্ধারে ছেলেসহ স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলে আনিছুর রহমান নিহত হয়। এছাড়া তাদের হামলায় নিহতের দুই ছেলে ও প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ গুরুত্বর আহত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। নিহতের ঘটনায় বিকেল পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রস্ততি চলছে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ