ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 April 2018, ৬ বৈশাখ ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পশুর নদীতে ডুবে থাকা কার্গো জাহাজের উদ্ধার কাজ শুরু

খুলনা অফিস : সুন্দরবনের কাছে মংলা বন্দরের হারবাড়িয়ায় ডুবে যাওয়া কয়লাবাহী কার্গো জাহাজের উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার চারদিনের মাথায় গতকাল বুধবার থেকে এ উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। বুধবার দুপুরের পর ভাটার সময় টাগবোট (সাহয্যকারী জলযান) ও পাইপের মাধ্যমে ডুবে যাওয়া কয়লা পানির ভেতর থেকে পাম্প করে অপসারণ করা হচ্ছে।
ডুবে যাওয়া জাহাজটিতে কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাহারা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক (অপারেশনস) লালন হাওলাদার জানান, ডুবে যাওয়া জাহাজ এমভি বিলাসের মালিকপক্ষ প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে এটির উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, এ কাজে বড় বড় ওয়্যার (বিশেষ রশি), দু’টি টাগবোড ও একটি বলগেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পানির ভেতরে কাজ খুবই কঠিন জানিয়ে লালন হাওলাদার বলেন, ‘উদ্ধার কাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি মংলায় না থাকায় আমরা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছি। বুধবার সকালে একটি উদ্ধারকারী টিমের সঙ্গে চুক্তির পর দুপুরের ভাটার পর উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রথমে ১৪ সদস্যের ডুবুরিরা ভাটার সময় ডুবে থাকা কার্গো জাহাজটির দু’পাশ থেকে ওয়্যার টেনে দেবে। এরপর জোয়ার শুরু হয় দু’পাশে টাগবোড দিয়ে ডুবন্ত জাহাজটিকে কিনারে নিয়ে আসবে। তবে এর আগে জাহাজটি থেকে অধিকাংশ কয়লা পাম্প করে বলগেটে রাখা হবে।’
এর আগে ডুবে থাকা জাহাজটির মালিক ও বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক সংঘের সভাপতি মো. দুলাল বলেন, ‘একটি ঘটনা ঘটলে তার আনুসঙ্গিক কাজ করতে কিছু সময় লাগতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক করা হয়েছে। বুধবার থেকে জাহাজ থেকে কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে।’
কার্গো জাহাজের চালক মো. আমির হোসেন জানান, ডুবন্ত কার্গো জাহাজের ফিটনেস ও ধারণ ক্ষমতা সার্টিফিকেট, ইনস্যুরেন্সের কাগজপত্রসহ উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত নৌযান এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহে দেরি হওয়াতেই মূলত মালিকপক্ষ কাজ শুরু করতে পারছে না।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘ডুবন্ত জাহাজটির মালিক পক্ষ এই পর্যন্ত বনবিভাগকে কোনও কাগজপত্র সরবরাহ করেনি। আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজের জন্য আজ চিঠি লিখেছি।’
সুন্দরবনের হারবাড়িয়া এলাকার ৬ নম্বর অ্যাংকোরেজে থাকা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি অভজারভার’ ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা নিয়ে মংলা বন্দরে আসে। জাহাজটি থেকে রোববার (১৫ এপিল) ভোরে কয়লা নেয়া হয় ঢাকার ইস্টার্ন ক্যারিয়ার নেভিগেশনের মো. সোহেল আহম্মদের ‘এমভি বিলাস’ কার্গো জাহাজে। খুলনার দুলাল এন্টারপ্রাইজের জন্য ইট ভাটা ও সিরামিক কারখানাগুলোর জন্য আমদানি করা কয়লা নিয়ে তা রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দেয়। কিছু দূর এগোলেই ডুবোচরে ধাক্কা লেগে তলা ফেটে এটি ডুবে যায়। এ সময় কার্গোতে থাকা সাত কর্মচারী সাঁতরে তীরে উঠে আসেন। ৭৭৫ টন কয়লা নিয়ে ডুবে যায় জাহাজটি।
সুন্দরবনের মধ্যে পশুর নদীতে লাইটার জাহাজ ডুবির ঘটনায় সুন্দরবনের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হবে তা নিরূপণ করতে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বনবিভাগ।
অপরদিকে রোববার দুপুরে কয়লার মালিকপক্ষে চট্টগ্রামের সাহারা এন্টারপ্রাইজের অপারেশন ম্যানেজার লালন হাওলাদার মংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তিনি দাবি করেছেন, দুর্ঘটনায় কোম্পানির এক কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ডুবে যাওয়া লাইটার কার্গোর মাস্টার ফরিদ মিয়া দুর্ঘটনার কারণ উল্লেখ করে মংলা থানায় অপর একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ