ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 April 2018, ৬ বৈশাখ ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বুশ পত্নী বারবারা বুশ মারা গেছেন

১৮ এপ্রিল, বিবিসি : যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি গণস্বাক্ষরতা প্রচারাভিযানের সংগঠক বারবারা বুশ মারা গেছেন, যিনি স্বামী আর সন্তানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে দেখে যাওয়া একমাত্র নারী। বারবারা বুশের স্বামী জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪১তম প্রেসিডেন্ট; আর ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশ দেশটির ৪৩তম প্রেসিডেন্ট।

বুশ পরিবারের পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বারবারার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের জটিলতায় আক্রান্ত বারবারা বুশের শারীরিক অবস্থা গত কিছুদিন ধরেই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। গত রোববার বুশ পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি আর চিকিৎসা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর বদলে তাকে নিবিড় পারিবারিক পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।

তার মৃত্যুর পর ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “বারবারা বুশ ছিলেন অসাধারণ একজন ফার্স্ট লেডি, তার জায়গায় তিনি ছিলেন অনন্য। লাখো মানুষের মধ্যে তিনি প্রাণচাঞ্চল্য, ভালোবাসার  স্বাক্ষরতা ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন।”

আর স্বামী জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বারবারাকে বর্ণনা করা হয়েছে পারিবারিক সাক্ষরতার পক্ষে একজন নিরলস প্রচারক হিসেবে। বারবারা বুশের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা এবং বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনও শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

নিউ ইয়র্কে ১৯২৫ সালের ৮ জুন বারবারা বুশের জন্ম। জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে যখন বিয়ে হয়, তখন তিনি ২০ বছরের তরুণী। এ বছর জানুয়ারিতেই তারা ৭৩তম বিবাহবার্ষিকী উদযান করেন। এই দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে মেয়ে রবিন ১৯৫৩ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে মারা যান।

১৯৮৯ সালে জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্ট হলে বারবারা হন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত হোয়াইট হাউজে ছিলেন তারা। আট বছর পর আবার তারা হোয়াইট হাউজে এসেছিলেন ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০০ সাল থেকে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। বারবারা বুশের আরেক ছেলে জেব বুশ ফ্লোরিডার গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হতে চাইলেও মনোনয়ন দৌড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হেরে যান।

বিবিসি লিখেছে, ফার্স্ট লেডি হিসেবে কেবল রাষ্ট্রনেতার স্ত্রীর ভূমিকাতেই নিজেকে আটকে রাখেননি বারবারা বুশ। নিজের নামে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে তিনি অনগ্রসর কমিউনিটিগুলোর মানুষের মধ্যে স্বাক্ষরতা ছড়িয়ে দিতে কাজ শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কেবল বারবারা বুশই জীবিত অবস্থায় স্বামী ও সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে দেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস ও তার স্ত্রী অ্যাবিগেল অ্যাডামসের সন্তান জন কুয়িন্সি অ্যাডামসও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। তবে অ্যাবিগেল অ্যাডামস তা দেখে যেতে পারেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ