ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 April 2018, ৬ বৈশাখ ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চলন্তিকা যুব সোসাইটির চেয়ারম্যানসহ আট জনের নামে মামলা

খুলনা অফিস : নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় ‘চলন্তিকা যুব সোসাইটি’ নামক একটি বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় আট হাজার গ্রাহকের ৫০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গত সোমবার সংস্থার চেয়ারম্যান খবিরুজ্জামানসহ আটজনের বিরুদ্ধে কালিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক কালিয়া উপজেলার জোকা গ্রামের সাজ্জাদুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ চলন্তিকা যুব সোসাইটির ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো-মিলন দাশ, শেখ গোলাম কিবরিয়া, আসাদুল ইসলাম, আব্দুল জলিল শেখ, মিলন কুমার বিশ্বাস ও সুবির দাশ। তবে, মামলার প্রধান আসামী সংস্থার চেয়ারম্যান খবিরুজ্জামান ও নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার হোসাইন পলাতক। 

মামলার বিবরণে জানা যায়, চলন্তিকা যুব সোসাইটি নামের বেসরকারি সংস্থাটি ২০০৪ সালে কালিয়া উপজেলায় কাজ শুরু করে। এর প্রধান কার্যালয় খুলনায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি গ্রাহকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সাথে যুক্ত করে ছয় বছরে দ্বিগুণ এবং দশ বছরে তিনগুণ মুনাফা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করে। কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন মেয়াদী আমানত, মাসিক আমানত সংগ্রহ ও ঋণদান কর্মসূচির আওতায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দিয়ে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি কালিয়ার বিভিন্ন এলাকার আট হাজার গ্রাহকের প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। সুযোগ বুঝে চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে চলন্তিকা যুব সোসাইটির কর্মকর্তারা কালিয়া ছেড়ে চলে যান। কালিয়া ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় চলন্তিকার কয়েকটি শাখা রয়েছে। এ ঘটনার পর ওই সব শাখার কার্যক্রম এখনো চলছে কিনা তা জানা যায়নি। 

 

মামলার বাদী সাজ্জাদুর রহমান জানান, ২০১৪ সালের নবেম্বরে চলন্তিকা যুব সোসাইটির সদস্য হয়ে তিনি ৪১ হাজার টাকা জমা দেন। সংস্থাটির কর্মকর্তারা পালিয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মামলার আসামিরা হলো-চলন্তিকা যুব সোসাইটির চেয়ারম্যান খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার ইব্রাহিম হাওলাদারের ছেলে খবিরুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক খুলনার শিপইয়ার্ড এলাকার সোলাইমান সরদারের ছেলে সরোয়ার হোসাইন, কালিয়া শাখার জিএম জোকারচর গ্রামের মিলন দাশ, বাগেরহাটের সিএন্ডবি বাজার শাখার সহকারী ম্যানেজার শেখ গোলাম কিবরিয়া, কাটাখালী শাখার ডিজিএম বাগেরহাটের জাড়িয়া মাইটকুমড়া গ্রামের আসাদুল ইসলাম, খুলনার ডুমুরিয়া শাখার জিএম রূপসা উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের আব্দুল জলিল শেখ, প্রধান কার্যালয় খুলনার ডিজিএম কালিয়ার কালুখালি গ্রামের মিলন বিশ্বাস ও বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা শাখার জিএম বেতাগা গ্রামের সুবরি দাশ।  এ ব্যাপারে কালিয়া থানার ওসি শেখ শমসের আলী বলেন, ছয় আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ