ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 April 2018, ৬ বৈশাখ ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আদমদীঘিতে ‘মহুয়া ফল’এখন শুধুই স্মৃতি

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল ‘মহুয়া’। আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগের কথা। গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ বৈশাখ মাসে মহুয়া গাছের নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এই ফলের মনোমুগ্ধকর গন্ধেই জানান দিত এখানে মহুয়া গাছ আছে। চৈত্র মাসের শেষের দিক থেকে শুরু হয়ে বৈশাখ মাস জুড়ে পাওয়া যেত এই ‘মহুয়া’ ফল। গ্রামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা মহুয়া গাছে উঠে মহুয়া ফল সংগ্রহ করে মালা গেঁথে গলায় ঝুলিয়ে ঘুঁড়ে বেড়াতো আর এই ফল খেত। যা এখন আর এ অঞ্চলে চোখে না পড়ার মত। মহুয়া ফল এখন শুধু গন্ধেরই স্মৃতি বিলাপ মাত্র! উপজেলার সদরের ডহরপুর গ্রামের মরহুম হবিবর রহমানের ছেলে আবু হাসান সখের বসে একটি মহুয়া গাছ লাগিয়ে পূর্বের স্মৃতি আগলে রাখতে চায়। বর্তমান তার গাছে মহুয়া ফল ধরেছে। 

আবু হাসান জানান, এই প্রজন্মের কাছে মহুয়া গাছ ও ফল একেবারেই অচেনা হয়ে গেছে। তাই আমি একটা গাছ লাগিয়েছি যাতে করে আধুনিক এই যুগের ছেলে-মেয়ে সহ এলাকার সবাই যেন এ গাছ ও ফলের সাথে পরিচিত হতে পারে। তিনি আরোও জানান, একটা সময় ছিল যখন মহুয়া ফুলের তীব্র সুগন্ধে দূর থেকে উড়ে আসত নানা জাতের ও নানা বর্ণের পাখি। উতলা হয়ে কিচিরমিচির করত গাছের শাখায় বসে। উড়ে বেড়াত গাছের চার ধারে। সেই মহুয়া গাছ যেন আজ আর সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রবীণ ও মধ্য বয়সীরা বলেন, ছেলে বেলায় মহুয়ার ফুল চুষেছেন। স্বাদে বেশ মিষ্টি এই ফুলের রস। মৌমাছিরা উড়ে আসত মহুয়ার গাছে। মহুয়া ফুলের পাপড়ির এতটাই সুগন্ধ যে গাছতলায় শিয়াল এসে আনন্দে সুর করে ডাকতো।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, মহুয়া গাছের আর্বিভাব ভারত বর্ষে। এই মহুয়া গাছ প্রায় ৪০-৫০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতা বিশিষ্ট একটি বৃক্ষ। এর পাতা মোটা লেদারি। ফুল ছোট, সুগন্ধযুক্ত শাখার মাথায় গুচ্ছাকারে ফোটে, রং কিছুটা হলুদ বর্ণের বা ডাল হোয়াইট। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর বলে মহুয়া ফল আমাদের এ অঞ্চলের মানুষদের কাছে এক সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে এলাকা ভেদে এর নাম মহুয়া, মধুকা, মোহা, মোভা ও মহুভা নামেও বেশ পরিচিতি। মূলত ট্রপিক্যাল এরিয়া অর্থাৎ যে অঞ্চলে ঊষ্ণতা ও বৃষ্টি আছে সেখানেই বেড়ে ওঠে উঁচু এই গাছটি। বাংলাদেশের উঁচু অঞ্চলে এই গাছের দেখা এখনো মেলে। একটা সময় দেশের অনেক জায়গাতেই মহুয়া গাছের বন ছিল। কিন্তু এখন বিলুপ্তির পথে। শীত কালে এই গাছের পাতা ঝরে বসন্তে নতুন পাতা গজায়। এর পাতা বল্লম আকারের। ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার লম্বা। অগ্রভাগ সূঁচালু এবং শিরা স্পষ্ট। ফুল খুবই ছোট, সাদা রঙের। ডালের মাথায় গুচ্ছাকারে ফোটে। মহুয়া ফুল রাতে ফুটে ভোরেই ঝরে পড়ে। মহুয়ার ফল অনেকটা সুপারির মতো। পাকলে হলুদ বর্ণের হয়। ফলের মিষ্টি গন্ধ আছে। দেশের অনেক এলাকায় ভাতকে সুস্বাদু ও গন্ধযুক্ত করতে রান্নার সময় মহুয়া ফুল দেয়ার রেওয়াজও ছিল। 

উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান জানান, আমরা বন বিভাগের পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি কোন এলাকায় যদি এই গাছের সন্ধান পাওয়া যায় আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করবো এর রক্ষণাবেক্ষণ করতে এবং এ থেকে নতুন চারা তৈরি করে বেশি বেশি করে রাস্তার ধারে, খালের পাড়ে রোপন করতে। তিনি আরো বলেন, মহুয়া ফুলের ঔষধি গুণাগুণ প্রচুর। মহুয়ার তেল মাথার যন্ত্রণা উপশম করে। তবে ফল পাওয়ার আশায় এই গাছ আর কেউ লাগায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ