ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 April 2018, ৬ বৈশাখ ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুষ্টিয়ায় ৮২ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার নেই ॥ দুর্ঘটনা বাড়ছে

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া-ভেড়ামারা সড়কের পুলিশ লাইনের সামনের সড়কের অবস্থা

খালিদ হাসান সিপাই, (কুষ্টিয়া): কুষ্টিয়া-খুলনা, কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী এই তিনটি মহাসড়কের কুষ্টিয়া অংশের ৮২ কিলোমিটার সড়ক বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ১৫ মাসে এই তিনটি সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে ১০৮ জনের। খানাখন্দে ভরা সড়কগুলো উন্নয়নে তার পরও পদক্ষেপ না নেয়ায় বিস্মিত এ অঞ্চলের মানুষ। সড়কগুলো দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না এটি একটি মহাসড়ক। কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান গত ২৯ মার্চ থেকে ৩টি সড়কে কাজ শুরু হয়েছে। তবে ধীর গতিতে কাজ চলছে।
সড়কটিতে পাথর-বিটুমিনের অস্তিস্ত বিলুপ্ত হয়ে রূপ নিয়েছে পাড়াগাঁয়ের কোনো পরিত্যক্ত সড়কের মতো। দেশের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে ১৫ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। এবড়োখেবড়ো সড়কটিতে প্রায় প্রতিদিনই যানবাহন নষ্ট হয়ে তৈরি করে দীর্ঘ যানজট। এতে যাত্রীসাধারণের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না।
একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, সড়কটির উন্নয়নের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও কাজ শুরু হচ্ছে না। কেন কাজ শুরু হচ্ছে না, তাও কেউ জানে না। সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এই সড়ক তিনটির দরপত্র আহ্বান করা হলে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে আগ্রহী ঠিকাদাররা দরপত্রে অংশ নিলেও কুষ্টিয়া-খুলনা ও কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী সড়কের দরপত্রে কোনো ঠিকাদার অংশ নিচ্ছেন না। কর্মকর্তারা এর কোনো কারণ না জানালেও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ঠিকাদারদের সঙ্গে একটি মহলের সমঝোতা না হওয়ায় দুটি সড়কে কেউ দরপত্রে অংশ নিচ্ছেন না। অন্যদিকে যে সড়কটিতে দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে ওই ঠিকাদারকেও কার্যাদেশ দেওয়া যাচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর থেকে ঈশ্বরদী মহাসড়কের ভেড়ামারা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার, একই স্থান থেকে খুলনা মহাসড়কের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এবং কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ী মহাসড়কের খোকসা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার মহাসড়কে হাজার হাজার ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ।
এলাকাবাসী জানায়, গত বর্ষায় সড়ক তিনটিতে খানাখন্দ আর কাদাপানির কারণে যাত্রীসাধারণের দুর্ভোগের অন্ত ছিল না। আর বর্তমানে সড়ক তিনটি ধুলাবালির দখলে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীসহ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজারো মানুষ। ধুলায় শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে চলাচলকারীদের। কুষ্টিয়ার মজমপুর থেকে বারখাদা ত্রিমোহনী পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বসতবাড়ি চলে গেলে ধুলার দখলে। কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের মানুষ বারবার মানববন্ধন করলেও সড়ক বিভাগের টনক নড়েনি।
সড়কের এই বেহাল দশা নিয়ে সড়ক বিভাগও বিব্রত। কর্মকর্তারা জানান, দেড় বছর ধরে কুষ্টিয়া-খুলনা, কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের ৫৫ কিলোমিটার এবং কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের ২৭ কিলোমিটার সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংস্কার করা হলেও মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সড়ক টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। তার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের মতো দুজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই জেলার হওয়ার পরও সড়ক উন্নয়নের এই ধীরগতি এ অঞ্চলের সবাইকে বিস্মিত করেছে।
অনেক ব্যবসায়ীরা জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচল করছে।
এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারীরা জানান, শহর থেকে তাঁর বাড়ি আট কিলোমিটার। কিন্তু ভাঙা সড়কের কারণে প্রতিদিন তাঁকে এই পথটুকু দিয়ে যাওয়া-আশা করতে ছয় ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়। প্রতিদিন কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় চলাচল করা এসবি পরিবহনের বাসচালক নাজমুল হক ঠান্ডু জানান, গরুর গাড়িও চলাচল করার অনুপযোগী এই সড়কে প্রতিদিন তাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস চালাতে হচ্ছে। ঈশ্বরদী রোডে ভেড়ামারা পর্যন্ত যেতে ১৫ মিনিটের রাস্তায় সময় লাগে চার ঘণ্টা। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, ইদানীং কুষ্টিয়ায় শ্বাসকষ্ট, যক্ষ্মা, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, সর্দি, কাশি, হাঁচিসহ চোখের রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ধুলার দূষণ এসব রোগের অন্যতম কারণ। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বাবলু জানান, দেড় বছর ধরে তারা ধৈর্য্য ধরেছেন। আর সম্ভব নয়। দ্রুত সড়ক তিনটির স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা না করা হলে সব ধরনের যানবাহন চালানো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ