ঢাকা, শুক্রবার 20 April 2018, ৭ বৈশাখ ১৪২৫, ৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার তদন্ত এখনও অনিশ্চিত

সিরিয়ায় একটি রাসায়নিক হামলা তদন্তে সেখানে পৌঁছেছে একটি বিশেষজ্ঞ দল

১৯ এপ্রিল, আলজাজিরা : আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংস্থা (ওপিসিডব্লিউ)’র পরিদর্শকরা সিরিয়ার দৌমায় প্রবেশ করেছেন বলে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও তা নাকচ করে দিয়েছে ওপিসিডব্লিউ। গত বুধবার হেগভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, সম্ভাব্য গ্যাস হামলার তদন্ত করতে এখনও সিরিয়ার দৌমায় প্রবেশ করতে পারেননি পরিদর্শকরা। দৌমায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরকে গুলি করার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ওপিসিডব্লিউর পরিদর্শকরা এখনও দামেস্কে অবস্থান করছেন। কখন ওই এলাকায় যেতে পারবেন, তা তারা এখনও জানেন না। জাতিসংঘের অনুমোদন পেলেই কেবল তদন্তকারীরা দৌমায় যাবেন। সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জানায়, কারা তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করছে তা নিয়ে সরাসরি কিছু বলেনি ওপিসিডব্লিউ। তবে বিবৃতিতে পশ্চিমাদের অভিযোগকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, 'পশ্চিমারা বলছে রাশিয়া ও সিরিয়া তদন্ত ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।'

গত ৭ এপ্রিল বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দৌমায় রাসায়নিক গ্যাস হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করে আসছে সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী জয়েশ আল ইসলাম ও পশ্চিমাভিত্তিক বেশ কয়েকটি মেডিক্যাল ত্রাণ সংস্থা। তবে সিরিয়া ও তার মিত্র রাশিয়া এ রাসায়নিক হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। শহরটি এখন সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দৌমায় রাসায়নিক হামলা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করতে ওপিসিডব্লিউ’র পরিদর্শকরা গত শনিবার থেকে সিরিয়ার দামেস্কে অপেক্ষা করছেন। জাতিসংঘের একটি সত্য অনুসন্ধানকারী দলও সেখানে অবস্থান করছে। 

গত মঙ্গলবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ওপিসিডব্লিউ’র পরিদর্শকরা দৌমায় প্রবেশ করেছেন। কিন্তু বুধবার তা নাকচ করে দেয় রাসায়নিক নিরস্ত্রীকরণ সংস্থাটি।

ওপিসিডব্লিউ’র বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা (ইউএনডিএসএস) মঙ্গলবার শহরটিতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু জাতিসংঘের সত্য অনুসন্ধানকারী দলটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় এবং তাদের অবস্থানস্থলের কাছে বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরিত করা হয়। পরে জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা দামেস্কে ফিরে যান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইউএনডিএসএস দৌমার স্থানীয় পরিষদ সিরিয়ান ন্যাশনাল অথরিটি এবং রাশিয়ান মিলিটারি পুলিশের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে থাকবে। বর্তমানে আমরা জানি না কখন (সত্য অনুসন্ধান মিশন)-কে দৌমায় মোতায়েন করা যাবে।’

জাতিসংঘের নিরাপত্তা দলের কাছ থেকে অনুমোদন পেলেই কেবল ওপিসিডিব্লিউ’র সদস্যরা ওই এলাকায় যাবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। ওপিসিডব্লিউয়ের বিশেষজ্ঞরা সেখানে পৌঁছাবার আগেই রুশ কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন। ফ্রান্স সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছে, রুশ কর্মকর্তারা সেখানে রাসায়নিক হামলার প্রমাণ বিকৃত করার সুযোগ পেয়েছে। যদিও রাশিয়া বলেছে প্রমাণ বিনষ্টের মতো কোনও কিছু তারা করেনি। সিরিয়া ও রাশিয়ার বক্তব্য হচ্ছে, আদৌ কোনও রাসায়নিক হামলার ঘটনাই ঘটেনি। এমন কি পশ্চিমা দেশগুলোর সিরিয়ার বিরুদ্ধে আনা রাসায়নিক হামলার অভিযোগকে ‘সাজানো অভিযোগ’ আখ্যা দিয়েছে রাশিয়া। 

বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহরে রাসায়নিক হামলার অভিযোগ তুলে ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে সিরিয়ার তিনটি স্থাপনা লক্ষ্য করে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। রাজধানী দামেস্ক ও হোমস শহরের ওই তিনটি স্থাপনায় আসাদ সরকার রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন করতো বলে অভিযোগ করে আসছে এসব দেশ। স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এরইমধ্যে শতাধিক মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। দামেস্কের একটি রাসায়নিক গবেষণাগার ধ্বংস হওয়ার কথা স্বীকার করেছে সিরিয়া। রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হামলা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়ার মিত্র রাশিয়া বলছে,যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চালানো এই হামলার জবাব দেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ