ঢাকা, শুক্রবার 20 April 2018, ৭ বৈশাখ ১৪২৫, ৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কলাপাড়ায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির প্রাচীন বন ধ্বংসের তাণ্ডব চলছে

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল ধ্বংসের তান্ডব চলছে। বিশেষ করে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের চার শ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বাইরে প্রাকৃতিকভাবে এবং বনবিভাগের উদ্যোগে সৃজিত ছইলা-কেওড়া-বাইন প্রজাতির বাগান উজাড়ের মহোৎসব চলছে। বনবিভাগ এখন বন রক্ষার বদলে ভক্ষকে পরিণত হয়েছে। 

১৩ টি পোল্ডারের বেড়িবাঁধের বাইরের এই বনাঞ্চল গড়ে ওঠে ষাটের দশকের পরের দিকে। এইসব প্রাচীন গাছগুলো ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটা সবুজ দেয়ালের মতো প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই রক্ষাকবচে সিডর-আইলার মতো ভয়াল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষ তাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে পেরেছে। কিন্তু বর্তমানে গত সাত-আট বছরে বেড়িবাঁধের বাইরের বনাঞ্চল দখল করে বাড়ি-ঘর থেকে শুরু করে মাছের পুকুর, ঘের করা হয়েছে শত শত। এমনকি স-মিল পর্যন্ত  করা হয়েছে। 

এসব যেন দেখার কেউ নেই। মধুখালীর দীর্ঘ লেকের দুই পাড়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বেড়িবাঁধ ঘেষা ম্যানগ্রোভ প্রজাতির হাজার-হাজার গাছপালা এখন অনিরাপদ হয়ে গেছে। হাজারো গাছ জলাবদ্ধতার কারণে মারা যাচ্ছে। এরপরে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। একসময় হয়ে যায় বিরানভূমি। কলাপাড়ায় নদী ও সাগরঘেষা দীর্ঘ চার শ’ কিমি বেড়িবাঁধের বাইরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ এভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। সবগুলো পোল্ডারের দৃশ্য একই। বনবিভাগ আগে এসব দেখভাল করত। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণের কাজ করতে গিয়ে বেকু মেশিনে মাটি কাটার কারণেও শত শত গাছ উপড়ে ফেলা হচ্ছে। ডালবুগঞ্জে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। ফলে বাঁধ জলোচ্ছ্বাসের ঝুকিতে পড়ছে। আগে বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য লেবার দিয়ে মাটি কাটার ফলে প্রাচীন গাছগুলো রক্ষা করে মাটি কাটা হতো। 

এ নিয়ে বনবিভাগ কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তা ব্যক্তিরা চরম উদাসীন রয়েছেন। যতবার তাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছে ততবার বলা হয়েছে তারা বনাঞ্চল রক্ষায় সচেষ্ট রয়েছেন। তবে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির এই বনাঞ্চল রক্ষায় এখই দ্র্রত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। নইলে বেড়িবাঁধসহ মানুষ ও তাদের সম্পদ ঝড়-জলোচ্ছ্বাসকালীন সময় চরম ঝুঁকির কবলে পতিত হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ