ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2018, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মধ্যরাতে সুফিয়া কামাল হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দিল প্রশাসন

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: কোটা সংস্কারের আন্দোলনে যোগদান এবং ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান এশাকে হেনস্তার অভিযোগ এনে কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে মধ্য রাতে অন্তত ২০ ছাত্রীকে বের করে দিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ সাবিতা রেজওয়ানা 'বিভ্রান্ত পোস্ট দেয়ার' অভিযোগে ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেয়ার কথা স্বীকার করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান এটিকে 'গুজব' বলে উড়িয়ে দেন।ছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'তদন্ত কমিটি হয়েছে।তদন্তের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ তো হতেই পারে।'

গত ১০ এপ্রিলের ঘটনার জের ধরে এই তদন্ত চলছে। সেদিন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা হল ছাত্রলীগের সভাপতি এশার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

আন্দোলনকারীদের হাত থেকে এশাকে উদ্ধারের পাশাপাশি তাকে তখন সাময়িক বহিষ্কারের কথা জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী।

পরে ছাত্রলীগের তদন্তের ভিত্তিতে এশার কোনো দোষ না পাওয়ার কথা জানিয়ে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পাশাপাশি বুধবার অনুষ্ঠিত ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের বৈঠকে এশাকে হেনস্তার জন্য ২৬ শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়। এরপরই হল কর্তৃপক্ষ হলের শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে হল কর্তৃপক্ষ কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, ফোন কেড়ে নিয়ে ফেইসবুকে কে কোন পোস্ট দিয়েছে তা পরীক্ষা করে অন্তত ২০ জন ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এমনকি মধ্যরাতেও বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের ধমক দিয়ে স্বীকারোক্তি নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষার্থীর স্থানীয় অভিভাবকদের ডাকা হয় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

সন্ধ্যার পর থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ব্যাগ নিয়ে হল থেকে বের হতে দেখার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন একজন নিরাপত্তারক্ষী।

আবদুল আউয়াল নামে এক অভিভাবক রাত ১০টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আমার বোনকে ফোন দিয়েছিলাম। সে না ধরে তার এক শিক্ষক ধরেন। তিনি আমাকে আসতে বলেন।”

রাত ১২টার দিকে গণিত তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শারমিনকে নিয়ে তার স্থানীয় অভিভাবক হল থেকে বেরিয়ে আসেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে তারা কোনো কথা বলতে চাননি। শারমিনের অভিভাবক বলেন, তাদের কোনো কথা বলতে মানা করা হয়েছে। 

রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে আরেক ছাত্রীকে নিয়ে তার অভিভাবক বেরিয়ে আসেন। সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তারা কোনো কথা না বলে দ্রুত মোটর সাইকেলে চলে যান।

হল কর্তৃপক্ষের কোটা বিরোধী অবস্থান এবং ছাত্রীদের হয়রানির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতংক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার বিকাল ৪টায় সারা দেশে  সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে কোটা অধিকার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ