ঢাকা, সোমবার 10 December 2018, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ছাত্রলীগের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

এশাকে লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে ছাত্রলীগের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনটির বহিষ্কৃত নেত্রী খালেদা হোসেন মুন।

ছাত্রলীগের যে ২৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের একজন এই মুন।তিনি তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশকে সংগঠনের গঠনতন্ত্রবিরোধী এবং অন্যায় বলে অভিহিত করেছেন।

খালেদা হোসেন মুন ছাত্রলীগের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

গত ১০ এপ্রিল কোটা সংস্কারে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সুফিয়া কামাল হলে মোর্শেদা খানম নামে ছাত্রলীগেরই এক নেত্রীর রগ কেটে দেয়ার অভিযোগ ওঠে এশার বিরুদ্ধে। সামাজিক মাধ্যমে এই তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর হাজার হাজার ছাত্র হলের বাইরে এসে বিক্ষোভ করেন।

এক পর্যায়ে এশাকে ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

পরে পরে ছাত্রলীগের এক তদন্তের পর বলা হয়, মোর্শেদা নিজেই জানলায় লাথি মেরে নিজের পা কেটেছেন। পাশাপাশি এশাকে নির্দোষ বলেও ঐ তদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয় এবং পরে দলের পক্ষ থেকে এশার বহিষ্কারাদেশও তুলে নেয়া হয়। আর ১৬ এপ্রিল মোর্শেদাসহ ২৪ জনকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ।

মুনের দাবী, তিনি ইফফাত  জাহান এশাকে হেনস্তার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না।

তাকে বহিষ্কারে সংগঠনের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্রলীগের ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান মুন।

তিনি বলেন, “সম্প্রতি কবি সুফিয়া কামাল হলের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আমাকে অগঠনতান্ত্রিকভাবে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

এশার আগে ওই হল ছাত্রলীগের সভাপতি থাকা মুন বলেন, “যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেই তদন্ত কমিটি তদন্তকালীন সময়ে আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ বা আমার বক্তব্য নেয়নি। ফলে আমার দোষ কী, তা নিয়ে আমি অন্ধকারে রয়েছি।”

তিনি বলেন, “ওই ঘটনায় হল সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে যেভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে তাতে আমিও ব্যথিত হয়েছি। এই ঘটনায় প্রকৃত দোষী যারা, তাদের শাস্তি দাবি করছি।

“কিন্তু যে ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততাই নেই, সেখানে অসম্পূর্ণ তদন্তে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে অগঠনতান্ত্রিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার যে সম্মানহানি করা হয়েছে, তা পুনরায় তদন্ত সাপেক্ষে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

মুন বলেছেন, সেদিন তিনি হলেই ছিলেন না। বহিষ্কৃত আরও একজন রয়েছেন বিদেশে।

“আমি ছাড়াও যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তালিকায় তাদের পূর্ণ নাম নেই, এমনকি কয়েকজনের বিভাগের নামেও ভুল। এ থেকে বোঝা যায়, ঠিকভাবে তদন্ত না করে অনুমানের ভিত্তিতেই বহিষ্কার করা হয়েছে।

“বহিষ্কৃতদের মধ্যে মনিরা নামের একজন ঘটনার আগে থেকে এখন পর্যন্ত ভারতে রয়েছে। আর আয়েশা সিদ্দিকা আশা নামের একজন ঘটনার আগে থেকে হাত ভেঙে যায়। তারা কীভাবে এই ঘটনায় সম্পৃক্ত হন?” প্রশ্ন মুনের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ