ঢাকা, শনিবার 21 April 2018, ৮ বৈশাখ ১৪২৫, ৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চলে গেলেন মোহামেডানের ‘কালো চিতা’ মনু

স্পোর্টস রিপোর্টার : চলে গেলেন মোহামেডানের ‘কালো চিতা’ খ্যাত  ফুটবলার মনির হোসেন মনু । গতকাল দুপুর ১২টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) লিভার সিরোসিসে ভুগে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ঢাকার ফুটবলের একসময়েরআলোচিত এ ফুটবলার। তিনি অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন । গত বছর জুলাইয়ে লিভার সমস্যা নিয়ে বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিব  মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। সুস্থ হয়ে বাসায়ও ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু এ বছর একই  রোগে আবারও হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু এবার আর বাড়ি ফেরা হল না তার। তার নাম মনির হোসেন। তবে আশির দশকে বাংলাদেশের ফুটবলে ‘মনু’ নামেই পরিচিত ছিলেন এই ক্ষিপ্র গতির ফুটবলার। আশির দশকে ধুমকেতুর মতো তার ফুটবলে আগমন।  বিআরটিসির হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে শুরু ক্যারিয়ার, তারপর প্রথম বিভাগ। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত মোহামডানে দাপটের সঙ্গে  খেলেছেন তিনি। জাতীয় দলে প্রথম খেলেন ১৯৮৫ সালের সাফ গেমসে।  ১৯৮৬ সালে আবাহনীর বিপক্ষে প্রায় মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত গোল করেছিলেন। আর সেই গোলে চার বছর পর লিগ শিরোপা উঠেছিল মোহামেডানের ঘরে। পরের বছর প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপে চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশ সাদা দলের জার্সিতেও অসাধারণ গোল এসেছিল মনুর পা থেকে। বল পায়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে ঢুকে পড়তেন অনায়াসে। তাই ঢাকার ফুটবলে তার নাম হয়ে যায় ‘কালো চিতা’। আশির দশকে  বেশ কয়েকটি স্মরণীয় ম্যাচের জন্ম দিলেও ইনজুরি আর ব্যক্তিগত সমস্যায় মনুর ক্যারিয়ার দীর্ঘ হতে পারেনি। তবে যতদিন খেলেছেন, ততদিন ছিলেন প্রতিপক্ষের ত্রাস। বর্তমান প্রজন্মের কাছে অপরিচিত হলেও একসময় দারুণ দাপটের সাথেই দেশের ফুটবল শাসন করেছেন মনু। আশির দশকের মাঝামাঝি ঢাকার ফুটবলে আবির্ভাব এই উইঙ্গারের। প্রচন্ড গতির ফুটবলের জন্য তাকে আলাদাভাবে মনে রাখবেন ফুটবলপ্রেমীরা। ১৯৮৬ সালের লিগে আবাহনীর বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক গোল করে মনু চিরস্থায়ী হয়েছেন মোহামেডান সমর্থকদের মনে। মুগদাপাড়া স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে সাবেক তারকা ফুটবলারকে দাফন করা হবে। মনুর মৃত্যুতে  শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা মোহামেডান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ