ঢাকা, শনিবার 21 April 2018, ৮ বৈশাখ ১৪২৫, ৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঢাবিতে হুমকি উপেক্ষা করে ফের বিক্ষোভ

গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল থেকে আন্দোলনকারী ছাত্রীদের বের করে দেয়ার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে -সংগ্রাম

* ছাত্রীদের হলে ফিরিয়ে নিতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম
* সুফিয়া কামাল হল প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি
* ভিসি বললেন, বের করে নয়, অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার : গভীর রাতে ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেয়ার প্রতিবাদে আবারো বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হুমকি ধমকি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আমার বোন পথে কেন, প্রশাসন জবাব চাই। জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে। ভয় দেখিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না। মামলা দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না। এভাবে স্লোগান দিতে দিতে কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে মধ্যরাতে ছাত্রীদের বের করে দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল থেকে যেসব ছাত্রীকে বের করে দেয়া হয়েছে তাদেরকে হলে ফিরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে পরিষদ। পাশাপাশি সংগঠনটির পক্ষ থেকে ওই হলের প্রাধ্যক্ষ সাবিতা রেজওয়ানার পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার বিকেল পৌনে ৫টায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি শাহবাগ মোড় ঘুরে ফের রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। এর আগে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিস্থলে বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ‘আড্ডা’ কর্মসূচি ঘোষণা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান।
 ঘোষণা অনুযায়ী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় অবস্থান নেন। তাদের কয়েকজন রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে সেলফি তোলেন। একাংশ সড়কের পাশে যাত্রী ছাউনিতে আড্ডা দেন।
অবশ্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হতে শুরু করলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সেখান থেকে সরে যান। পরে শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মিছিল বের করেন।
এদিকে চট্টগ্রামে ২নং গেট ও চট্টগ্রাম ষোলশহরে বিক্ষোভ করার সময় পুলিশ এবং ছাত্রলীগের বাধায় পড়ে। এসময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, আন্দোলনকারী কোনো শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হলে ‘দাবানল’ আবার ছড়িয়ে পড়বে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন করায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ছাত্র অধিকার পরিষদ। বিকেল ৪টার দিকে সারাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে এ কর্মসূচি পালন করেন।
ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে প্রশাসন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে রাতের অন্ধকারে ছাত্রীদের বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের মঞ্চ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার রক্ষা পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক।
নুরুল হক বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, রাত ১১টার পরেও অনেক ছাত্রী হল থেকে বের হয়ে গেছেন। ছাত্রীদের মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়েছিল। প্রাধ্যক্ষের কক্ষে অনেককে আটকে রাখা হয়েছিল। অভিভাবক ডেকে রাতের অন্ধকারে হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। নুরুল হক আরও বলেন, কোনো অপরাধ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু ছাত্রীদের এভাবে বের করে কর্তৃপক্ষ ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।
সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘এটি হল প্রশাসনের ধৃষ্টতা। আমরা প্রশাসনকে সব সহযোগিতা করছি। এর মধ্যে কোনো আলোচনা ছাড়াই কেন তারা এমন সিদ্ধান্ত নিল, আমরা তার জবাব চাই।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কবি সুফিয়া কামাল হলের বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে হল ত্যাগে বাধ্য করা হয়। রাত দুইটার দিকে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা হলের সামনে যান। অনেকে স্লোগান দেন, ‘ভয় দেখিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না, আমার বোন পথে কেন প্রশাসন জবাব চাই।’ বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান নেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন হলের ভেতর থেকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেত্রী ফটকের কাছে এসে বলেন, হলে কোনো সমস্যা নেই আপনারা চলে যান। সে সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে ছাত্রলীগের নেত্রীরা কিছু না বলে চলে যান। একই সময়ে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে দেখা যায়।
 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হলের ফ্লোরে ফ্লোরে রাতে হাউস টিউটররা পাহারা বসান। এ সময় ছাত্রীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তারা বলছেন, মূলত যে ২৬ ছাত্রী ছাত্রলীগের নেত্রী ইফফাত জাহান এশার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন প্রথম দফায় তাদের বিচার করছে হল প্রশাসন।
হলের সাধারণ ছাত্রীরা কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন বলে জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, হলের প্রাধ্যক্ষ ছাত্রীদের ছাত্রত্ব বাতিল, গোয়েন্দা নজরদারি ও মামলার ভয় দেখাচ্ছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সাবিতা রেজওয়ানা বলেন, আমরা অনেক ছাত্রীকে ডেকেছি। তাদের মোবাইল চেক করা হচ্ছে। তারা বিভিন্ন ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে গুজব ছড়াচ্ছে। মুচলেকা দিয়ে তাদের স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের বৈঠকে এশাকে হেনস্তার জন্য ২৬ শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়। এরপরই হল কর্তৃপক্ষ হলের শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের ধমক দিয়ে স্বীকারোক্তি নেয়ার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষার্থীর স্থানীয় অভিভাবকদের ডাকা হয় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
সন্ধ্যার পর থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ব্যাগ নিয়ে হল থেকে বের হতে দেখার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন একজন নিরাপত্তারক্ষী। আবদুল আউয়াল নামে এক অভিভাবক রাত ১০টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আমার বোনকে ফোন দিয়েছিলাম। সে না ধরে তার এক শিক্ষক ধরেন। তিনি আমাকে আসতে বলেন।”
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গণিত তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শারমিনকে নিয়ে তার স্থানীয় অভিভাবক হল থেকে বেরিয়ে আসেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে তারা কোনো কথা বলতে চাননি। শারমিনের অভিভাবক বলেন, তাদের কোনো কথা বলতে মানা করা হয়েছে।
রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে আরেক ছাত্রীকে নিয়ে তার অভিভাবক বেরিয়ে আসেন। সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তারা কোনো কথা না বলে দ্রুত মোটর সাইকেলে চলে যান।
মো. ফারুক নামে একজন অভিভাবককে রাত সাড়ে ১২টার দিকে হলের সামনে দেখা যায়। ঢাকার ধামরাই উপজেলা থেকে মেয়েকে নিতে আসেন তিনি। তার সঙ্গে ছিল ভাই কামরুল আহসান।
ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, “রাত ৮টার দিকে আমাকে ফোন করে মেয়েকে নিয়ে যেতে বলা হয়। সেজন্য ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে আমাকে আসতে হয়েছে।”
তবে রাত সোয়া ১টার দিকে ফারুক বের হলেও তার মেয়ে হলেই ছিলেন। ফারুক সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে চাননি। অনেক বলার পর কামরুল বলেন, তার ভাতিজি আন্দোলনে যেন আর না যায়, সেকথা তাদেরকে বলা হয়েছে। তিনিও তার ভাতিজিকে বুঝিয়েছেন।
হল প্রভোস্টের হুমকি: বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রদীপ্ত ভবনের নিচে প্রভোস্ট সাবিতা রেজওয়ানা ছাত্রীদের ডেকে হুমকি দেন। এ সময় ছাত্রীদের উদ্দেশে সাবিতা রেজওয়ানা বলেন, ‘অনেকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেয়। ইনটেলিজেন্স সেল দেখবে যে কারা কারা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিচ্ছে। আই ডোন্ট ওয়ান্ট অ্যানি ইনভলভমেন্ট। এরপর এই হলে ছাত্রলীগ যদি গন্ডগোল করে আমাকে বিচার দেবে। জেনারেল মেয়ে গন্ডগোল করলে আমাকে বিচার দেবে। এখন থেকে হল সিট হল প্রশাসন দেবে। আর কোনো পয়েন্টে এর বাইরে আর কোনো সিট হবে না। হলে যদি আর কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে বা তোমরা কোনো পোস্ট দেয়ার চেষ্টা করো হলকে বিভ্রান্ত করার জন্য, তাহলে কিন্তু আমরা সরকারকে বলব...আমার নলেজের বাইরে আমার ভিডিও যে আপলোড করে সেটা কিন্তু ক্রাইম। আজকে আমি বলে দিলাম সেটা কিন্তু সাইবার ক্রাইম...আই ওয়ান্ট টু বি লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। কারও কিছু প্রশ্ন আছে?’
জবাবে ছাত্রীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহানকে কেন্দ্র করে যা যা ঘটেছে, তাতে হলের দুই হাজার ছাত্রী সম্পৃক্ত ছিল বলে উল্লেখ করেন। তখন সাবিতা রেজওয়ানা বলেন, ‘দুই হাজার মেয়ে কিছু করেনি। আমার সিসিটিভি ফুটেজে আছে কারা কারা করেছে। দুই হাজার মেয়ে স্বাক্ষর দাও, আমি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেব। আমি দুই হাজার মেয়ের ছাত্রত্ব বাতিল করে দেব। আমার শিক্ষকেরা দেখেছে, আমার সিসিটিভি প্রমাণ আছে ওরা মেরেছে। তোমরা যদি মেরে থাক, নাম লেখ। ওই দিন যেটা হয়েছে, সেটা অপপ্রচার। ওই মেয়ে যার পা কেটেছে, সে নিজে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। ওর শুধু পা-ই কাটা হয়েছে। এই মেয়েটাকে যে পরিমাণ মারা হয়েছে, সেটা কি বিচারে মারা হয়েছে? যে মেয়ে ভয় পেয়েছে, সে নিজে বলেছে। মোবাইল দিয়ে কী করছ?’
ভিসি বললেন, বের করে নয়, অভিভাবকের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে সুফিয়া কামাল হলের তিন ছাত্রীকে অভিভাবক ডেকে এনে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ফেসবুকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে এটি করা হয়েছে।
গতকাল সকালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভিসি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে গুজব, উসকানি ও মিথ্যা কথা ছড়ানো হচ্ছে। কোনো গুজবে কান দেবেন না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না। তিনি বলেন, হল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকসুলভ আচরণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে কয়েকজন ছাত্রীকে কর্তৃপক্ষ ‘বের করে দেয়’। এই খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেন ভিসি। তিনি বলেন,  আন্দোলনকারী আর উসকানিদাতা এক নয়। আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঐতিহ্যপূর্ণ। এটা খুব স্বাভাবিক। যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করতে পারে যে কেউ। তবে উসকানি দেয়া আর আন্দোলন এক নয়। আমরা আন্দোলনকে সমর্থন করি, উসকানিকে নয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের হলেও এতে অপশক্তি ঢুকে গিয়েছিল বলে মনে করেন তিনি। সেই অপশক্তিই নাশকতার সঙ্গে জড়িত বলে জানান ভিসি।
আখতারুজ্জামান জানান, কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হয়রানি করেনি। হাজার হাজার ছাত্র এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এর মধ্যে মাত্র ২৫/২৬ জনকে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি। তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত না হয়ে কোনো সংবাদ পরিবেশন করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভুল সংবাদ বিভ্রান্তি তৈরি করে।
সুলতানা কামাল স্তম্বিত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল থেকে মধ্যরাতে তিন ছাত্রীকে বের করে দেয়া প্রসঙ্গে বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘গত (বৃহস্পতিবার) রাতের ঘটনা আমাকে স্তম্ভিত করেছে, আমি স্তম্ভিত।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি দাবি জানান, মূল ঘটনা পরিষ্কার করে নিয়ম অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার।
রাতে ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গতকাল রাতের ঘটনা আমাকে স্তম্ভিত করেছে, আমি স্তম্ভিত। আমি অবাক যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এরকম একটি আচরণ করতে পারে, এটা ভাবা যায় না।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ম ভেঙে অগ্রহণযোগ্য কাজ করেছে উল্লেখ করে সুলতানা কামাল বলেন, ‘কেউ যদি ভুল করে থাকে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের নিয়মানুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। আমার মনে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে কোথাও লেখা নেই যে, রাত ১২টার সময় কোনও ছাত্রীকে স্থানীয় অভিভাবকের হাতে তুলে দেয়া যায়। নিয়ম ভেঙে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য। এটা অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের বিপরীতে অবস্থিত কবি সুফিয়া কামাল হলটি নামকরণ করা হয় সুলতানা কামালের মা কবি সুফিয়া কামালের নামে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ