ঢাকা, শনিবার 21 April 2018, ৮ বৈশাখ ১৪২৫, ৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে সেচ কাজে পানির সংকট ॥ কৃষকরা বিপাকে

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : সেচ পাম্প দিয়ে জমিতে পানি দেয়া হচ্ছে

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ইরি-বোরো চাষে চলছে পানির চরম সংকট। কৃষক চাষাবাদের জন্য জমিতে পানি দিতে চরম হিমশিত খাচ্ছে। এক দিকে রোদের তাপের প্রখরতায় তারাতারি জমির পানি শুকিয়ে যায়, তারপরে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় মেশিন দিয়ে পানিও উঠছে কম। এরই মধ্যে আবার প্রায় সহস্রাধিক নলকূপে পানিই উঠছে না। ফলে গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহের মধ্যে সাধারণ জনগণকে পানির জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা এই পানির সংকট দূর করার কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছেননা। কেউ কেউ ৪ থেকে ৫ ফিট খাল করে মাটির নীচে মেশিন বসিয়ে কৃত্রিম উপায়ে পানি তোলার চেষ্ঠা করছে কৃষক। এই দুর্ভোগের মধ্যে আবার বিদ্যুৎ এর লোড শেডিং তো লেগেই আছে। জানা যায়, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই একাধিক নলকূপে পানি উঠছে না। বর্তমানে ১০/১৫ থেকে ফুট পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন এলাকায় পানিয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রান্না-বান্না, গোসল, গৃহস্থালির নানাকাজে পরিবারের সদস্যরা নলকূপে কাঙ্খিত পানি পাচ্ছেনা। কোন নলকূপে দীর্ঘক্ষণ চেপে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পানি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বিকল্প হিসাবে অনেক জায়গায় কমপ্রেসার কিম্বা বিদ্যুৎ চালিত সাব-মার্সেবল মেশিন দিয়ে পানি উত্তোলন করছে যদিও বিদ্যুৎ চালিত মটর দিয়েও আশানুরূপ পানি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রত্যন্ত এলাকায় এব্যবস্থা না থাকায় নলকূপগুলো অকেজো অবস্থায় রয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নন্দলালপুর গ্রামের আরিফুল ইসলাম (আরিফ) জানান, এলাকার নলকূপ গুলোতে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানি উঠছে না এমনকি মটর দিয়েও পানি আগের চেয়ে অনেক কম উঠে। এছাড়াও শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র কারখানা, দুগ্ধ শিতলীকরণকেন্দ্র, গো-খামার, সূতা প্রসেসিং কারখানা গড়ে প্রতিদিন যে পানির প্রয়োজন হয় গভীর নলকূপ বসিয়ে তারা প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছে না। ফলে স্থানীয় তাঁত শিল্পে ও দুগ্ধ শিল্পে এর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর ডায়া, নগরডালা, হামলাকোলা, পোরজনা ইউনিয়নের পুঠিয়া, কাকুড়িয়া, গুলবাগ, পোরজনা, নন্দলালপুর, বেলতৈল ইউনিয়নের কাদাই, ঘোরশাল, বেতকান্দী, সাতবাড়িয়া, খুকনী ইউনিয়নের কামালপুর, কালিপুর, সোনাতলা, যমুনা অঞ্চলের জালালপুর ইউনিয়নের রূপসী, পোতাজিয়া ইউনিয়নের রেশমবাড়ী, মাদলা, নুকালী, বড় বায়ড়া, ছোট বায়রা, মনমরা, কায়েমপুর ইউনিয়নের বৃ-আঙ্গারু, বনগ্রাম, কায়েমপুর, খারুয়া জংলা, বাইমারা গ্রামে নলকূপে পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই এসব এলাকার অনেক নলকূপ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ্য পানির স্তরের দূরত্ব ২৭ ফুটের বেশি হলে হস্তচালিত নলকূপ দিয়ে পানি তোলা সম্ভব হবেনা। এজন্য সামর্থবানরা হস্তচালিত নলকূপের সাথে ভার্টিক্যাল বা সাব মার্সিবল (মটর পাম্প) সংযোগ করে চালু রাখলেও সাধারণ মানুষের অবস্থা খুবই নাজুক। তাই এ ব্যাপারে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ