ঢাকা, শনিবার 21 April 2018, ৮ বৈশাখ ১৪২৫, ৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গেল বোরো মওসুমে খুলনায় অর্জিত হয়নি ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা

 

খুলনা অফিস : গেল বোরো মওসুমে খুলনায় অর্জিত হয়নি চাল সংগ্রহে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা। বাজারে চালের দাম বাড়তি হওয়ায় কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। চাল সংগ্রহের জন্য প্রথমে সময়সীমা ছিল ৩১ আগস্ট। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় পরবর্তীতে ২৮ সেপ্টেম্বর সময় বাড়ানো হয়। এরপরও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় ১৫ নবেম্বর পর্যন্ত আবারও সময় বৃদ্ধি করা হয়। এরপরও খুলনায় ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছিল চার হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। এদিকে চলতি মওসুমে সরকার ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণা দিলেও খুলনায় এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা আসার পর এ সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা যায়।

খুলনা জেলা খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গেল বছর বাজারে চালের দাম বেশি থাকায় সরকার নির্ধারিত দামে ডিলাররা ঠিকভাবে চাল সরবরাহ করেনি। আর এ জন্য অনেক ডিলার কালো তালিকাভুক্ত হয়েছিল। তারপরও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় পরবর্তীতে ১৫ নবেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। গেল বছর খুলনায় রোবো মওসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাত হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে খুলনা মেট্রোতে তিন হাজার ৪৬২ মেট্রিক টন, উপজেলার রূপসায় দুই হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন, পাইকগাছায় ৮৪ মেট্রিক টন, দাকোপে ৫৬ মেট্রিক টন, ডুমুরিয়ায় ৬৬৭ মেট্রিক টন, বটিয়াঘাটায় ৬১৭ মেট্রিক টন ও ফুলতলায় এক হাজার ১৮৪ মেট্রিক টন। কিন্তু এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছিল চার হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। এছাড়া তেরখাদা, দিঘলিয়া ও কয়রা উপজেলায় কোনো লক্ষ্যমাত্রা ছিল না। তবে খুলনা মেট্রো ও উপজেলা পর্যায়ে চাল সংগ্রহ না হলেও ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল। খুলনা খাদ্য দপ্তর গেল বছর ২৪ টাকা কেজি দরে ধান ও ৩৪ টাকা দরে চাল কিনেছিল। এছাড়া সেদ্ধ চাল ৩৪ টাকা এবং আতপ চাল ৩৩ টাকা দরে কিনেছিল সরকার। 

এদিকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন, এবার বোরো চালের উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছে ৩৬ টাকা। উৎপাদন খরচের চেয়ে কেজিতে দুই টাকা বেশিতে ৩৮ টাকা কেজি দরে বোরো চাল কিনবে সরকার। আর আতপ চাল ৩৭ টাকা এবং বোরো ধান ২৬ টাকা কেজি দরে কেনা হবে। এদিকে সরকার ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণা দিলেও খুলনায় এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা আসার পর এ সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 

সূত্র জানায়, চলতি বোরো মওসুমে এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি ধান কর্তন। এ মওসুমে ৩৮ টাকা কেজি দরে চাল এবং ২৬ টাকায় ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই হিসেবে বোরো চাষিরা সরকারের কাছে ধান বিক্রি করে গত বছরের তুলনায় কেজিতে দুই টাকা বেশি দাম পাবেন। আর মিলাররা সরকারের কাছে এবার চাল বিক্রি করে পাবেন গত বছরের চেয়ে চার টাকা বেশি। আগামী ২ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সরকারিভাবে এই ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে। 

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন বলেন, গেল বছর চাল সংগ্রহের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হয়ায় সময় বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সারাদেশের ন্যায় খুলনায়ও গেল বছরের তুলনায় এ বছর বোরো আবাদের বাম্পার ফলন হয়েছে। আগামী ২ মে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ অভিযান শুরু হবে এবং যথাসময়ের মধ্যে সংগ্রহ অভিযান শেষ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ