ঢাকা, শনিবার 21 April 2018, ৮ বৈশাখ ১৪২৫, ৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শরীয়তপুরের আড়িগাঁও ব্রিজ ভেঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ॥ জনদুর্ভোগ চরমে

কীর্তি নাশা নদীর শরীয়তপুরের রাজগঞ্জ আড়িগাঁ  এলাকার ব্রিজ ভেঙ্গে শরীয়তপুর-সিবচর ও গঙ্গানগর আঞ্চলিক সড়কে সম্পন্ন সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন                          -সংগ্রাম

শরীয়তপুর সংবাদদাতা : কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মিত শরীয়তপুর সদরের আড়িগাঁও এলকায় একটি মালবাহী ট্রাকসহ ব্রিজ ভেঙ্গে শরীয়তপুর- সিবচর ও গঙ্গানগর সড়কে সম্পন্ন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ থেকে ট্রান্সফরমার নিয়ে একটি ট্রাক ওই ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাক নিয়ে ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে যায়। ফলে এই রুটে চলাচল কারি যানবাহন ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। এলাকাবাসী জরুরী ভিত্তিতে ব্রিজ মেরামত করে যানবাহনসহ জনসাধারণের চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিস্টদের কাছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছেন, ব্রিজটি বেইলি অংশ দ্রুতমেরামত করে সড়ক যোগাযোগ সচল করার চেষ্টা চলছে।

শরীয়তপুর এলজিইিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর-সিবচর ও গঙ্গানগর আঞ্চলিক মহাসড়কের কীর্তিনাশা নদীর উপর ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে ২ কোটি ৪ লাখ ৫১ হাজার ৫৫১ টাকা ব্যয়ে রাজগঞ্জ আড়িগাও নামক স্থানে ১০৫মিটার একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করে ২০০৮ সালে শেষ করে। ২০১৬ সালের ৫অক্টোবর নদীর প্রবল ¯্রােতে হঠাৎ করে ব্রিজের গোড়া থেকে মাটি ধসে পরে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে দুর্ঘটনা এড়াতে এলজিইডি কতৃপক্ষ ব্রিজের দু’পাশে বাঁশ ও গাছের গুড়ি ফেলে অন্তত ১০ দিন যাবাহনসহ জনসাধারণের চলচল বন্ধ রাখে। পরে মাটি ভরাট করে ব্রিজটি সচল করা হয়। ২০১৭ সালে পুনরায় ওই অংশ আবার ভেঙে পড়ে। পরবর্তিতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ঐ ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বের অংশে বেইলী স্থাপন করে ব্রিজটি দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচরের জন্য সচল করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ থেকে অতিরিক্ত মালবাহী (ট্রান্সফরমার) নিয়ে একটি ট্রাক ওই ব্রিজ দিয়ে যাওয়ার সময় ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বের  বেইলী অংশ আবার ভেঙ্গে যায়। এ সময় কোন হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ঐ সড়ক দিয়ে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শরীয়তপুর  জেলা সদরের সাথে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা সদর, শরীয়তপুর- গঙ্গানগর, চন্দ্রপুর সড়কসহ কয়েকটি ইউনিয়নের সড়ক  যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে  গেছে। ফলে এই রুটে চলাচল কারি যানবাহন ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

স্থানীয় জাহিদুল ইসলামসহ একাধিক ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিদিন ব্যবসার কাজে এই সড়ক দিয়ে শরীয়তপুর থেকে মাদারীপুরের শিবচরসহ অভ্যন্তরীন রুটের বাজারগুলোতে যেতে হয়। ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ায় অনেক দুর ঘুরে যেতে হবে। এতে আমাদের পরিবহন খরচ বেশী লাগবে। তাই ব্রিজটি দ্রুত মেরামত করার দাবি করছি।

নজরুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, ইমাম হোসেনসহ একাধিক অটোরিক্সা চালক বলেন, আমরা এ রুটে শরীয়তপুর শহর থেকে চন্দ্রপুর লাইনে অটোরিক্সা চালাই। ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ায় আমরা গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিছি।

শরীয়তপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা বলেন, অতিরিক্ত মালবাহি একটি ট্রাক যাওয়ার সময় ব্রিজটির বেইলি অংশ ভেঙ্গে পড়ে। ট্রাকটি সরানো কাজ শেষ হলে যানবাহন চলাচলের জন্য বেইলি ব্রিজটি দ্রুত মেরামত করার জন্য চেষ্টা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ