ঢাকা, শনিবার 21 April 2018, ৮ বৈশাখ ১৪২৫, ৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্টেরয়েড ব্যবহারে সতর্কতা প্রয়োজন

স্টেরয়েড একটি জরুরি ওষুধ। স্কিন ডিজিজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রোগে এর ব্যবহার হয়। স্টেরয়েড ব্যবহারে রোগী দ্রুত আরাম পান বলে দ্বিতীয়বার একই রোগে আক্রান্ত হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই অনেকে এর ব্যবহার করেন। বিপত্তি বেশি এখানেই। দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহার করলে তা আর কাজতো করেই না; উল্টো নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। কিন্তু রোগী এ বিষয়ে আদৌ চিন্তা করেন না। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে শসার বিচির মতো একপ্রকার সাদা বড়ি দেদার বিক্রি হয়। এটা সেবন করলে জ্বরসহ শরীরের বিষবেদনা সাময়িকভাবে সেরে যায়। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে, এ বড়িও একধরণের স্টেরয়েড। এছাড়া বাজারে চালু মোটা হবার ওষুধ কিংবা ব্যথানাশক টোটকা ইত্যাদিতেও স্টেরয়েড থাকে। এ স্টেরয়েড সীমান্তের ওপার থেকেও চোরাচালানের মাধ্যমে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্টেরয়েড সহযোগে প্রস্তুত এসব ওষুধের অনাকাক্সিক্ষত ব্যবহারের ফল হয় ভয়াবহ। এমনকি জীবনবিনাশী সাইড এফেক্টও হতে পারে স্টেরয়েডের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে। শুধু স্টেরয়েড কেন, এন্টিবায়োটিকসহ যেকোনও ওষুধের ব্যবহার ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া হওয়া উচিত নয়। আর এটা দরকার রোগীর সঠিক চিকিৎসা এবং ওষুধের কার্যকরতা টিকিয়ে রাখতেও। অন্যথায় ভালো ওষুধও অকার্যকর হয়ে পড়ে। হতে পারে চিকিৎসাকার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত।
বলা আবশ্যক যে, কর্টিসন, হাইড্রোকর্টিসন, প্রেডনিসলন, ডেক্সামিথাসন প্রভৃতি নামেও স্টেরয়েড ট্যাবলেট, ক্রিম, অয়েন্টমেন্ট, ইনজেকশন, স্প্রে, ইনহেলার পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে এসব ওষুধ ব্যবহার করলে দেখা দেয় নানা উপসর্গ। যেমন: অস্বাভাবিক স্থুলতা, হাই ব্লাডপ্রেসার, ডায়াবেটিস, শরীরের বিভিন্ন অংশে চর্বি জমা, পেশির দুর্বলতা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, অস্টিওপোরসিস ইত্যাদি। এছাড়া স্টেরয়েড মলম, ক্রিম বাহ্যিক ব্যবহার করলেও চামড়া পাতলা হয়ে যায়। মুখে ব্রণ হয়। চুলপড়া বেড়ে যায়। মুখসহ দেহের বিভিন্ন অংশে অবাঞ্ছিত লোম গজায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যথেচ্ছ স্টেরয়েড ওষুধ সেবন বা মলম, অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করলে শরীরের স্বাভাবিক স্টেরয়েড হরমন নিঃসরণের ছন্দপতন ঘটে। তাই হঠাৎ ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করলে বা ভুলে গেলে বমি, দুর্বলতা, পেটব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। অতএব ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধের মাত্রা এবং ব্যবহারের মেয়াদ অনুসারে স্টেরয়েড ব্যবহার করা জরুরি। এছাড়া ওষুধের ব্যবহারকালে কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। দীর্ঘদিন এ ওষুধ ব্যবহার করলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে মাত্রা হ্রাস করে আনতে হয়। কিন্তু রোগীরা এসব বিষয়ে মনোযোগী না হয়ে আরাম পান বলে মুড়িমুড়কির মতো স্টেরয়েড ব্যবহার করে অনাকাক্সিক্ষত জটিলতায় ভোগেন। অথচ সতর্ক হলে স্টেরয়েড ব্যবহারে যথাযথ উপকার পাওয়া যেতে পারে।
আমাদের রোগীরা যেমন অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবনে দ্রুত আরোগ্য লাভে আগ্রহী, তেমনই একশ্রেণির ডাক্তারও প্রেসক্রিপশনে বেশি বেশি ওষুধ লেখেন। রোগীরা দ্রুত আরাম প্রত্যাশা করতেই পারেন। কিন্তু ডাক্তার যদি অপ্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে প্রেসক্রিপশন ভরে দেন তাহলে তা নিশ্চয়ই অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে। তবে একজন যথার্থ ডাক্তার রোগীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ দিতে পারেন না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের সমাজে এমন ডাক্তারের অভাব নেই। একই কারণে এপোলো, ইউনাইটেড কিংবা স্কয়ার হাসপাতালের মতো নামি -দামী চিকিৎসালয়ের ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার একইরকম রিএজেন্ট পাওয়া যায়। সম্প্রতি এরকম ঘটনায় ইউনাইটেড হাসপাতালকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। চিকিৎসার নামে অমানবিক ব্যবসায়ের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এর সঙ্গে আহ্বান জানাই সংশ্লিষ্ট রোগী ও চিকিৎসক সবাইকে স্টেরয়েড এবং এন্টিবায়োটিকসহ সবরকম ওষুধ ব্যবহারে যতœবান ও সতর্ক হতে। ওষুধের অপব্যবহার যেমন রোগীর জন্য কল্যাণকর নয়, তেমনই তা কোনও ভালো চিকিৎসকের বেলায়ও সুনাম-সুখ্যাতির বড় প্রতিবন্ধক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ