ঢাকা, শনিবার 21 April 2018, ৮ বৈশাখ ১৪২৫, ৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাতক্ষীরায় ধানে ব্লাস্ট রোগ চাষীদের মুখে হাসি নেই

আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা: ব্লাস্ট নামক ছত্রাকের আক্রমণে সাতক্ষীরা কৃষকের মুখে হাসি নেই। হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ম্লান হয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কম দামে নারী শ্রমিক দিয়ে ধান কাটানো হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে জেলা জুড়ে পুরা-দমে ইরিধান কাটা শুরু হয়েছে। ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কৃষকরা সব ধান কাটা শেষ হবে । কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় বোরো ধানের উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ধানের দাম বেশি পাওয়াতে দ্রুত ঘরে তুলতে মরিয়া চাষীরা। গতকাল জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে পুরুষের পাশা-পাশি নরী শ্রমিকরা ধান কাটায় ব্যস্থ সময় পার করছে। এদিকে নারী শ্রমিকদের অভিযোগ তারা মজুরি বৈষম্যের শিকার । যোগ্যতা অনুযায়ী পুরুষ ও নারীদের সমান মজুরি দেওয়ারও বিধান থাবলেও নারীদের মজুরির ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলায় ৭৩ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় ৩ লাখ ৬২৬ মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৯৭ হাজার ৫১৭ েেমট্রিক টন, কলারোয়ায় ৪৮ হাজার ৪৮৫ মেট্রিক টন, তালায় ৭৩ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন, দেবহাটায় ২৫ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টন, কালিগঞ্জে ২১ হাজার ৭৯৬ মেট্রিক টন, অশাশুনিতে ২৭ হাজার ৫৪৪ মেট্রিক টন এবং শ্যামনগরে ৬ হাজার ৭১৭ মেট্রিক টন । আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে জলাবদ্ধ ও অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ করায় এবার জেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭৬ হাজার ৩‘শ ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক থাকলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে এবং সুষ্ঠু ভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারলে এবার জেলায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ৪‘শ ২০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন সম্ভব হবে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বিঘা প্রতি ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাবে বলে আশা করছেন চাষীরা।
এদিকে ধান পাঁকারমুখে ব্লাষ্ট রোগ দেখা দেয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এই রোগ আক্রান্ত হওয়ায় আধাপাকা ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ