ঢাকা, শনিবার 21 April 2018, ৮ বৈশাখ ১৪২৫, ৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হবিগঞ্জে ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়া নদী-খাল খনন ও পুনরুদ্ধার দাবি বাপা’র

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা: বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। সারাদেশে জালের মতো বিস্তৃত ছিল অসংখ্য নদনদী। আজ থেকে ৫০/৬০ বছর আগেও প্রায়  ১২শ ৫০টি নদী ছিল এই দেশে। দিনে দিনে তা কমে এসে প্রায় ৩শ টিতে দাঁড়িয়েছে। সময়ের ধারাবাহিকতায় হারিয়ে গেছে অনেক নদী। আরও অনেক নদী বিলিন প্রায়। নদীর এ ক্রমবিলুপ্তির কারণ প্রকৃতির উপর মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপ। একসময় হবিগঞ্জের উপর দিয়েও প্রবাহিত হত প্রায় ৫০টি নদনদী। এখন এর অর্ধেকও খুঁজে পাওয়া যায়না। মানুষের অদূরদর্শিতার কারণে দিন দিন মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে অনেক নদনদী। তাই সময় এসেছে দেশের প্রাণপ্রবাহরূপী এসব নদনদীকে রক্ষায় আন্দোলন গড়ে তোলার। পহেলা বৈশাখ সকাল ১০টায় বাংলা নতুন বছর ১৪২৫কে স্বাগত জানিয়ে হবিগঞ্জের শিরিষতলায় মানব্বন্ধন ও পথসভায় বক্তারা একথা বলেন।
“নববর্ষে বাজে নতুন দিনের গান, নদী বয়ে যাক অবিরত, বাংলাদেশের প্রাণ” স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার আয়োজিত ‘হবিগঞ্জের ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়া সকল নদী খনন ও পুনরুদ্ধার’ এর দাবিতে কর্মসূচিতে  সভাপতিত্ব করেন বাপা হবিগঞ্জের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ ইকরামুল ওয়াদুদ। মূল বক্তব্য রাখেন খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার ও বাপা হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক জাহান আরা খাতুন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর সহযোগী অধ্যাপক জহিরুল হক শাকিল, বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক ডাঃ জমির আলী, চিত্রশিল্পি আলাউদ্দিন আহমেদ, বাপা হবিগঞ্জের সহ-সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি, ক্রীড়া সংগঠক হুমায়ূন খান, সাংবাদিক ফেরদৌস করিম আকঞ্জী প্রমুখ।
খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, উজানে ভারত সরকার কর্তৃক পানি সীমিতকরণ, দেশের অভ্যন্তরে নদী দখল, নদী দূষণ, পলি পতন, নদী-ভাঙ্গনে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে দখল-ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ এর ফলে নদীর নাব্যতা ক্রমশ হ্রাস  পাচ্ছে, অনেকগুলো নদী শুকিয়ে মৃতপ্রায় এবং অনেক নদী হারিয়ে গেছে। নদী দখল-দূষণ এবং হারিয়ে যাওয়ার ফলে নদী তীরবর্তী জন-মানুষের জীবন-জীবিকায় টানাপোড়ন, ব্যাপক খাদ্য-পানীয় সমস্যা, পানিবাহিত নানাবিধ রোগসহ, জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যা চলমান। এসবের দীর্ঘ মেয়াদী ফল ভোগ করবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয় প্রজন্ম। এর আগে ব্যানার উল্লেখিত হবিগঞ্জ জেলায় একসময় প্রবাহিত হওয়া প্রায় অর্ধশতাধিক নদীর নাম দেখে কর্মসুচীর প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে অনেকেই অংশগ্রহণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ