ঢাকা, শনিবার 21 April 2018, ৮ বৈশাখ ১৪২৫, ৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নওগাঁ : সাংবাদিকের মৃত্যু স্মারক লিপি পেশ

নওগাঁ সংবাদদাতা: নওগাঁয় সাংবাদিকের মৃত্যুতে সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও আর এমও এর অবহেলা এবং উদাসীনতাকে দায়ী করে তার অপসারণ দাবীতে স্মারকলিপি দিয়েছেন সাংবাদিকরা। গত বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিটি জেলা প্রশাসকের হাতে প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান তাঁর দপ্তরে এ’টি গ্রহন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ কায়েস উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক মীর মোশারফ হোসেন জুয়েলসহ সকল সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে নওগাঁ’র সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মোমিনুল হকের নিকটও স্মারকলিপির একটি অনুলিপি হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রদত্ত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে কেবলমাত্র সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ রওশন আরা খানম এবং আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ মুনির আলী আকন্দ-এর অবহেলা আর উদাসীনতার কারনেই ডিবিসি নিউজ টিভি’র নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি নাজমুল হুদা সঠিক চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। গত ১৩ এপ্রিল কর্মরত অবস্থায় নাজমুল হুদা হৃদরোগে আক্রান্ত হলে বেলা ১০টায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রেস ক্লাবের সভাপতি কায়েস উদ্দিন তত্বাবধায়ক ডাঃ রওশন আরা ও আর এমও ডাঃ মনির আলী আকন্দকে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে হাসাপাতালে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু ভর্ত্তির ৩ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও কোন চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা প্রদান করে নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করার পরামর্শও দেয়া হয়নি। চিকিৎসার কোন খোঁজখবর এমন কি মৃত্যুর কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও কোন সহানুভুতি জানানো হয়নি। এর ফলে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সাংবাদিক নাজমুল হুদার মৃত্যু তত্বাবধায়ক ডাঃ রওশন আরা খানমের এবং আর এমও ডাঃ মনির আলী আকন্দ এর  অবহেলার কারণেই হয়েছে বলে সাংবাদিকরা মনে করেন। স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, একেবারে হাসাপাতাল সংলগ্ন এলাকায় উক্ত তত্বাবধায়ক ডাঃ রওশন আরা খানমের নিজস্ব একটি ক্লিনিক রয়েছে। হাসপাতালের চেয়ে সেই ক্লিনিকেই তিনি বেশী সময় দিয়ে থাকেন। অন্যদিকে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে হাসপাতাল সময়ে বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিকে চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন। কিন্তু তত্বাবধায়ক নিজের দুর্বলতার কারণে সেসব চিকিৎসকদের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেন না। ফলে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। এমতাবস্থায় সাংবাদিকরা উক্ত তত্বাবধায়ক ও আরএমও কে আগামী ৭ দিনের মধ্যে অপসারণসহ চাকুরী বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছে। একইসাথে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসককে সমানভাবে দায়ী মনে করে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানানো হয়েছে। না হলে নওগাঁ’র সাধারন মানুষদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচী দেয়ার ঘোষনা দিয়েছেন সাংবাদিকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ