ঢাকা, রোববার 22 April 2018, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শেরপুরে বৈশাখী মেলার নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

 

বগুড়া অফিস : বগুড়ার শেরপুরে বৈশাখী মেলা আয়োজনের নামে প্রতারণা করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আয়োজক কমিটি। উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ব্যানারে পৌরশহরের স্থানীয় শেরপুর ডিজে হাইস্কুল খেলার মাঠে পহেলা বৈশাখ থেকে মাসব্যাপি এই মেলার প্রচারণা চালানো হয়। সরকারী অনুমতি না মিললেও উক্ত মাঠে বিভিন্ন দোকানের স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়। এভাবে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয় বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। এদিকে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মেলা উদ্বোধন না হওয়ায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এসব ব্যবসায়ীরা। প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ীরা গত বুধবার (১৮এপ্রিল) দুপুরে স্টল বরাদ্দের জন্য দেয়া টাকা ফেরত চেয়ে বিক্ষোভ করেন। এই মেলা আয়োজনের খবরই জানেনা আয়োজক উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সিংহভাগ সদস্য। তাদের দাবি, এই মেলার সঙ্গে ফোরামের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

অত্র নারী উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জেসমিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ফোরামের সভাপতি ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজা বেগম তাদের কাউকে না জানিয়ে কৈশাখী মেলার উদ্যোগ নেন। তাই বিষয়টি ফোরামের কোন সভায় আলোচনায় হয়নি। এছাড়া ফোরামের নাম ব্যবহার করে সভাপতি এককভাবে মেলার আয়োজন করেছেন। তিনিসহ ফোরামের সিংহভাগ সদস্য এই বৈশাখী মেলার সঙ্গে নেই বলে দাবি করেন সম্পাদক জেসমিন আক্তার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডিজে হাইস্কুল খেলার মাঠটি টিন দিয়ে চারপাশ ঘেরা। একেকটি দোকানের জন্য জায়গার পজিশন করে রাখা হয়েছে। ফাঁকা পড়ে থাকা পজিশনগুলো বরাদ্দ চলছে-লেখা সাইন বোর্ড ঝুলছে সেখানে। মেলায় কোন লোক সমাগম নেই। তবে বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে মেলায়। এরমধ্যে আঁখিমনি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, লামিয়া চটপটি ও ফুসকা হাউজ, ঢাকা কোয়ালিটি চটপটি ও ফুসকা হাউজ, রকমারি আচারের মেলা, একাধিক চুরি-ফিতা, কসমেটিক্সের দোকান উল্লেখযোগ্য। এছাড়া দি নিউ টু স্টার জাদু ও পুতুল নাচ সার্কাস, নাগরদোলা এবং রেল গাড়িও রয়েছে মেলায় । কিন্তু মেলা শুরু না হওয়ায় ক্রেতাশূন্য অবস্থায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন এসব ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মেলার কোন অনুমতিপত্র এখনও হাতে আসেনি। তাই মেলা করার কোন সুযোগ নেই। একইকথা বলেন শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পনের দিনের অনুমতি দেয়ার জন্য জেলার পুলিশ সুপার বরাবরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। কিন্তু অদ্যবধি এই মেলার অনুমতিপত্র পাননি তিনি। তবে আয়োজক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ফিরোজা বেগম বলেন, মেলার অনুমতির জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনুমতি পেলে বৈশাখী মেলা করা হবে। অন্যথায় হবে না। এছাড়া মেলায় স্টল বরাদ্দের পজিশনের টাকা নেয়া আভ্যন্তরীণ বিষয়। এনিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ