ঢাকা, রোববার 22 April 2018, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভারত প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে মিয়ানমারের কথা

গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টারে বৃটিশ পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল হলে ‘ভারত কী বাত সব কী সাথ’ নামে প্রবাসী ভারতীয়দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে বিশ্ব কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান কি রকম সমীহজনক জায়গায় পৌঁছেছে, সেটা বোঝাতে গিয়ে তিনি রোহিঙ্গা সঙ্কটের প্রসঙ্গ টেনে আনেন নিজ থেকেই। তবে প্রসঙ্গ টেনে এনে যে মন্তব্য করেন, তাতে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক। বিষয়টি রাষ্ট্র হিসেবে ভারতকেও যে এক বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে, তার প্রমাণ প্রধানমন্ত্রীর ওই মন্তব্য নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মুখ খুলতে রাজি হচ্ছে না। উল্লেখ্য যে, ওই মতবিনিময় সভায় নরেন্দ্রমোদি মন্তব্য করেছিলেন, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ফেরত গেছে। 

মোদির মন্তব্যে ‘ফেরত’ শব্দটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ফেরত গেছে বললে বোঝা যায়, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার গিয়েছিল। এমন তত্ত্বের কারণেই তো সৃষ্টি হয়েছে রোহিঙ্গা সংকট। মিয়ানমার সরকার তো এই মর্মে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে যে, রোহিঙ্গারা আদতে বার্মার মূল বাসিন্দা নয়, তারা হলো বাঙালি মুসলমান, যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে। ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ফেরত গেছে’ মন্তব্য করে তো নরেন্দ্র মোদি প্রকারান্তরে মিয়ানমারের মিথ্যা তত্ত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে দিলেন। বন্ধু রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী এমন মন্তব্য কী করে করলেন? অথচ ইতিহাস বলে, রোহিঙ্গারা শত শত বছর ধরে বার্মায় বসবাস করে আসছে। তাদের নাগরিকত্ব ছিল। তারা পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। মন্ত্রিপরিষদে তাদের প্রতিনিধি ছিল। রোহিঙ্গাদের রেডিও স্টেশনও ছিল বার্মায়। ইতিহাসের এসব তথ্য-উপাত্তকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না।

নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহল বিস্মিত ও বিচলিত। এটা কি ভারতের পরিবর্তিত অবস্থান, নাকি বেখেয়ালে মুখ ফসকে শব্দটি বেরিয়ে গেছে? যদি তেমনটি হয়, তাহলে বিষয়টি পরিষ্কার করার দায়িত্ব ভারতের। ভারত তা করে কিনা তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশের জনগণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ