ঢাকা, রোববার 22 April 2018, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হতাশা-বঞ্চনা থেকে কোটাবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে

জিবলু রহমান : [দুই] এক দশকের ব্যবধানে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সোয়া এক কোটি। ২০০৬ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, তখন দেশে ৪ কোটি ৭৪ লাখ কর্মজীবী মানুষ ছিলেন। ২০১০ সালে এসে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৪১ লাখে। ওই সময়ে বছরে গড়ে ১৩ লাখ ৪০ হাজার বাড়তি কর্মসংস্থান হয়েছে।

২০১৫-১৬ শ্রমশক্তি জরিপে প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক চিত্র দেওয়া হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চার প্রান্তিকের মধ্যে জুলাই-সেপ্টেম্বর এই প্রথম প্রান্তিকেই কর্মসংস্থান কম বেড়েছে। আর সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে। এর মানে হলো জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে, অর্থাৎ অর্থবছরের শুরুতে কাজ পাওয়া কঠিন। এটি কাজের মন্দা মৌসুম। আর শীতে কাজের সুযোগ বেশি থাকে।

নতুন শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা এখন ২৬ লাখ। এই বিশাল বেকার জনগোষ্ঠী সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করার সুযোগও পান না। বেকারত্বের এই হিসাব আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) দেওয়া মানদ- অনুযায়ী। আইএলও মনে করে, সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ না করলে ওই ব্যক্তিকে বেকার হিসেবে ধরা হয়।

তবে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি, ৯ শতাংশ। এর মানে হলো স্নাতক কিংবা এর বেশি ডিগ্রিধারী প্রতি ১০০ জনে ৯ জন বেকার। এ দেশে পড়াশোনা না করলেই কাজ পাওয়ার সুযোগ বেশি। কোনো ধরনের শিক্ষার সুযোগ পাননি, এমন মানুষের মধ্যে মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ বেকার। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীর মধ্যে ১০ শতাংশের বেশি বেকার। ২০১৩ সালের হিসাবে দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল ২৫ লাখ ৯০ হাজার।

আইএলওর ডিসেন্ট ওয়ার্ক ডিকেড এশিয়া প্যাসিফিক ও আরব স্টেটস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৪০ শতাংশ তরুণ নিষ্ক্রিয়। তাঁরা পড়াশোনা করছেন না, আবার কাজও করছেন না। কিংবা কাজ খুঁজে পেতে কোনো প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন না। এ ধরনের নিষ্ক্রিয় তরুণদের হার বিবেচনা করলে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ তৃতীয় খারাপ অবস্থানে আছে। একদিকে এসব নিষ্ক্রিয় তরুণ, অন্যদিকে কাজের আশায় মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে দেশের তরুণেরা সমুদ্রপথে পারি দিচ্ছেন।

জরিপ অনুযায়ী, এখন বেকারত্বের হার ৪.২ শতাংশ। তবে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি বেকার। নারীদের বেকারত্বের হার ৬.৮ শতাংশ এবং পুরুষদের ৩ শতাংশ। নারী ও পুরুষ উভয়েই ১৩ লাখ করে বেকার।

শ্রমশক্তি জরিপে কর্মসংস্থানের চিত্র উঠে এসেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের শ্রমশক্তির জরিপ অনুযায়ী, দেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ আছেন ৬ কোটি ২১ লাখ। তাঁরা কাজের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন। তবে এই হিসাবে, পড়াশোনা করেন কিংবা অসুস্থ কিংবা অন্য কোনো কারণে কাজের জন্য প্রস্তুত নন, তাঁরা এই শ্রমশক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হন না। এই শ্রমশক্তির ৫ কোটি ৯৫ লাখ কাজ করেন। এর মধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ১৮ লাখ এবং নারী ১ কোটি ৭৮ লাখ। বাকিরা বেকার।

এ দেশের ৮৬ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থান হয় অনানুষ্ঠানিক খাতে। আর আনুষ্ঠানিক খাতে মাত্র ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ কাজ করেন।

দেশের কৃষি খাত এখনো কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র। এ খাতেই প্রায় ৪৩ শতাংশ কর্মসংস্থান হয়। ২০ শতাংশ কাজের ক্ষেত্র হলো শিল্প খাত। এ ছাড়া সেবা খাতে প্রায় ৩৭ শতাংশ কর্মসংস্থান হয়।

কাজ করেন কিন্তু মজুরি পান না, এমন মানুষের সংখ্যা এক কোটির নিচে নেমে এসেছে। মূলত বাসাবাড়িতেই তাঁরা কাজ করেন। আশার কথা হলো, এমন মানুষের সংখ্যা শ্রমশক্তিতে কমেছে। ২০১৩ সালের শ্রমশক্তিতে এমন ১ কোটি ৬ লাখ নারী-পুরুষ ছিলেন।  এখন তা কমে ৮৬ লাখ হয়েছে। কাজ করেন কিন্তু মজুরি পান না, তাঁদের মধ্যে সিংহভাগই নারী।

দুই বছরের ব্যবধানে নারী ও পুরুষ উভয়ের গড় মজুরি বা আয় বেড়েছে। শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, পুরুষদের চেয়ে নারীরা কম আয় করেন। নারীদের গড় আয় ১২ হাজার ১০০ টাকা। ২০১৩ সালে আয় ছিল ১০ হাজার ৮১৭ টাকা। এখন একজন পুরুষ গড়ে ১৩ হাজার ১০০ টাকা আয় করেন, দুই বছর আগে ছিল ১১ হাজার ৭৩৩ টাকা। (সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো ২৯ মে ২০১৭)

এমনিতেই বিসিএস পরীক্ষায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে নাকাল হচ্ছেন নিয়োগপ্রার্থীরা। মেধাবীদের এক পাশে ঠেলে প্রাধিকার কোটার আধিক্য দশকের পর দশক চলতে থাকা একই ব্যাচের কর্মকর্তাদের মাঝে মেধা ও বয়সের ব্যাপক পার্থক্য সৃষ্টি করেছে। অনিয়মিত নিয়োগ আর তা চূড়ান্ত করণে দীর্ঘ প্রক্রিয়াসহ অনেক কারণ রয়েছে এর পেছনে।

কর্মসংস্থানের অভাব ও সরকারি চাকরিতে সহজে প্রবেশের পথে বাধা-সবকিছুর ক্ষোভে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে কাটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ৮ এপ্রিল ২০১৮ থেকে জোরাল রূপ নেয়। ওই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের বাসভবনে মুখোশধারীরা হামলা চালায়। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে যা নজিরবিহীন। 

পুরো আন্দোলনই ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। আপাত পরস্পর বিচ্ছিন্ন তরুণরা একই উদ্দেশ্যে নিয়ে জড়ো হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন থেকেই আন্দোলন চলছে। নানা কর্মসূচি। তবে ৮ এপ্রিল ২০১৮ দুপুর থেকেই বিক্ষোভ নতুন দিকে মোড় নিতে থাকে। যখন শাহবাগে অবস্থান নেয়ার পর আন্দোলনকারীরা দাবি জানাতে থাকেন, কোটা সংস্কারের ব্যাপারে সংসদ থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তারা জায়গা ছাড়বেন না। পুলিশ বাধা দিতে এলে তারা ফুল নিয়ে এগিয়ে যায়। ফুল অবশ্য ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাত ৮টার দিকেই অ্যাকশনে যায়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের শাহবাগ থেকে হটিয়ে দিতেও সক্ষম হয় তারা। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শক্ত অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। সারা রাত ধরেই চলে খ- খ- লড়াই।

রাতে কালো মুখোশধারী ও হেলমেট পরিহিত হামলাকারীরা ভিসির বাসভবনের প্রধান ফটক ভেঙে বাসায় ঢুকে গ্যারেজে থাকা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে, বাসার ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভেঙে ল-ভ- করে, আগুন জ্বালিয়ে পুড়ে ফেলে বাসার মালামাল। ৪০ মিনিটের বেশি সময় ধরে এভাবে পুরো বাসভবনে তা-ব চালানো হয়। ভিসির বাসভবনের ফুলের টব থেকে শুরু করে কোনো কিছুই অক্ষত ছিল না দুর্বৃত্তদের তা-বে।

এটি কারা করেছে সে প্রশ্নের উত্তর পায়নি আন্দোলনকারীরা তবে আন্দোলন নস্যাতে যে করা হয়েছে তা তারা অনুধাবন করতে পারে। পেছনে না তাকিয়ে ক্রমেই এই আন্দোলন শাহবাগ পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীসহ সারা দেশে। এর মধ্যে পুলিশ এবং সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে আন্দোলনকারীদের। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল, রাবার বুলেট আর টিয়ার শেলের আঘাতে অনেকেই আহত হয়েছেন। 

রাতভর তৎপর ছিল ছাত্রলীগ। দফায় দফায় তারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। তবে রাতে একপর্যায়ে বিভিন্ন হল থেকে কয়েকশ’ ছাত্রী বের হয়ে এলে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়। ৯ এপ্রিল দিনভর আন্দোলন চলে সারা দেশে। ৯ এপ্রিল রাজধানীর রামপুরা-বাড্ডা সড়কের আফতাব নগর এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে হুমকি দেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ওই পুলিশ কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের ‘খাইয়া ফালানোর’ হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছাড়েননি।

ভিসির বাসায় হামলার ন্যক্কারজনক অধ্যায় বাদ দিলে পুরো আন্দোলন ছিল অহিংস চরিত্রের। কোথাও জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশের আক্রমণের জবাব প্রথম রাতে তারা খুব শক্তভাবেই দিয়েছিল। আন্দোলনে কমিটি থাকলেও সে অর্থে কোনো নেতা ছিলেন না। আন্দোলনে যোগ দেয়া লাখ লাখ শিক্ষার্থী জানতেন না তাদের নেতা কে? অনেক পর্যবেক্ষক অবশ্য মনে করেন, এ আন্দোলন শুধু কোটা সংস্কারের নয়। চাকরি বঞ্চিত লাখ লাখ মধ্যবিত্ত তরুণ এর মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভেরই প্রকাশ ঘটিয়েছেন। আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল বিপুল। বাংলাদেশে অতীতে কোন আন্দোলনে এতো নারী শিক্ষার্থী অংশ নেয়ার নজির নেই। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই সরকারের ভেতরে টেনশন কাজ করেছে। বিশেষ করে এতে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করছে কিনা তা নিয়ে সরকারের নানা মহলে সংশয় ছিল। এ আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরের জন্য কেউ কাজ করছে কিনা তা নিয়েও অনুসন্ধান চলে। এ কারণেই শক্তি প্রয়োগ ছাড়াও আলাপ-আলোচনার পথও খোলা রাখা হয়। দলীয় সাধারণ সম্পাদককেই বিষয়টি ফয়সালার দায়িত্ব দেয়া হয়। (সূত্র : দৈনিক মানব জমিন ১৩ এপ্রিল ২০১৮)

৯ এপ্রিল বিকালে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের নেতা আন্দোলন স্থগিতের কথা জানান। কিন্তু বেঁকে বসেন রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা। পরিষ্কার ঘোষণা দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। কিছু সময়ের জন্য তাদের মুখপাত্রের ভূমিকা নেন বিপাশা। ১০ এপ্রিল সকালের আন্দোলনে ছিল বিভক্তি। যদিও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও এদিন যোগ দেন আন্দোলনে। মতিয়া চৌধুরী ও আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিকাল নাগাদ স্থগিত ঘোষণা করা অংশও আন্দোলনে যোগ দেয়। রাতে সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগ নেত্রীর হাতে এক শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা পুরো আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢালে। ১১ এপ্রিলেল পরিস্থিতি ছিল একেবারে আলাদা। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কোনো আন্দোলনে এত শিক্ষার্থী আর কোনো দিন যোগ দেননি। দিনের শেষভাগে আসে কোটা বাতিলের ঘোষণা।

এবারের আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাজধানীর শাহবাগ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেইসবুক’ দিয়ে শুরু হয়েছিল তাদের পথচলা। কয়েকবছর আগের শাহবাগের এক আন্দোলনের চিত্র সব টিভি দিনের পর দিন লাইভ সম্প্রচার করেছিল। তৎকালে অনেক পত্রিকাও ছিল আন্দোলনের সমর্থক। কোটাবিরোধী আন্দোলনে টিভি চ্যানেলে তেমন কোনো লাইভ সম্প্রচার দেখা যায়নি। এর প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের অনেকে ক্ষুব্ধ হন মিডিয়ার প্রতি। সাংবাদিকরা আক্রমণেরও শিকার হয়েছেন। সংবাদ বয়কটের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো আন্দোলনটিই ছিল ফেসবুকনির্ভর। আন্দোলকারীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করেছেন ফেসবুকে। ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার হয়েছে। পুরো আন্দোলনের তাৎক্ষণিক আপডেটও তারা পেয়েছেন ফেসবুকের মাধ্যমে। মূলধারার গণমাধ্যমকে ছাপিয়ে সামাজিক মাধ্যম যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, এ আন্দোলনে তা আরো একবার পরিষ্কার হয়ে গেল। 

কোনো কোনো পর্যবেক্ষক মনে করেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা ন্যক্কারজনক ঘটনা। আবার মিডিয়ার এমন পক্ষপাতও লজ্জাজনক। এ আন্দোলন মিডিয়াকে কাঠগড়ায় তোলার কাজটি ভালোমতোই করেছে।

১২ এপ্রিল ২০১৮ জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নাগরিক কণ্ঠ’ আয়োজিত আলোচনা সভায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘কোন কোন মিডিয়া কোটা আন্দোলনকে ভালো ভাবে প্রকাশ করেনি। কিন্তু তাদের সফলতা প্রমাণ করে, মিডিয়া যদি কিছু ধামাচাপা দিতেও চেষ্টা করে, যৌক্তিক হলে সেটা ধামাচাপা দিয়ে কিছু করা যায় না।’ তিনি বলেন, ‘তাদের যৌক্তিক দাবি আমরা সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু সরকার এটাকে সমর্থন করে নাই। কোটা পদ্ধতি বাতিলের আন্দোলন থেকে আমরা শিক্ষা নিতে চাই। আমরা আন্দোলন করছি জনগণের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য। বাংলাদেশের সমস্ত মানুষের স্বার্থ এখানে জড়িত। কোটা পদ্ধতিতে যেমন ছাত্রদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ জড়িত, তাই সবাই  নেমেছে। এই আন্দোলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমর্থন দেওয়াটাও অন্যায় কিছু নয়।’ তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাও জরুরি। তাই আন্দোলন করতে হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ