ঢাকা, রোববার 22 April 2018, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

২ বছরে ১৪ লাখের বেশি বাংলাদেশী পর্যটক গেছে ভারতে

ইবরাহীম খলিল : ভারতীয় হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশী পর্যটকদের জন্য ভারতে প্রবেশ ও প্রস্থানের  বিধিনিষেধের সহজীকরণ সংশোধিত একটি নির্দেশিকা ঝুলানো রয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২৪টি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এবং হরিদাসপুর ও গেদের সমন্বিত চেকপোস্ট  আইসিপি দিয়ে যাতায়াতকারী বাংলাদেশী নাগরিকদের ভিসায় প্রবেশ/প্রস্থান নিষেধাজ্ঞা অপসারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে আহমেদাবাদ, আমৌসি,বারণসী, ব্যাঙ্গালোর, কালিকট, চেন্নাই, কোচিন, কোয়েম্বাটোর, ডাবোলিম (গোয়া), দিল্লী, গয়া, গুয়াহাটি,  হায়দ্রাবাদ, জয়পুর, কলকাতা, ম্যাঙ্গালোর, মুম্বাই, নাগপুর, পুনে, অমৃতসর, ত্রিচি, ত্রিবান্দ্রম, বাগডোগরা এবং চন্ডীগড়। ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে সংশোধিত নির্দেশিকাটি ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও যাতায়াতকে আরো সুগম করার লক্ষ্যে  তৈরী করা হয়েছে। পর্যটনকে আরও গতিশীল করতে ভারত বাংলাদেশীদের জন্য এই সুবিধাগুলো নতুন করে যোগ করেছে। ভারত মনে করছে, এই কার্যক্রমে বাংলাদেশ থেকে আরও অনেক বেশি পর্যটক তারা টানতে পারবে। ঘটনা হয়েছেও তাই। বাংলাদেশ থেকে ভারতে পর্যটক টানতে ঢাকার বাইরেও কয়েকটি স্থানে তাদের ভিসা দেওয়ার অফিস খুলতে হয়েছে।

হিসেব বলছে, ভারতে বাংলাদেশী পর্যটক বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। হাই কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২০১৫-২০১৭ দুই বছরে ভারতীয় ভিসা প্রদানের সংখ্যা সাড়ে সাত লাখ থেকে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৪ লাখ হয়েছে। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে কি পরিমাণ পর্যটক আসছে তার কোন পরিসংখ্যান নেই বাংলাদেশের পর্যটন সংশ্লিষ্টদের কাছে। এছাড়া বাংলাদেশে পর্যটক আসতে নানা বিড়ম্বনা পোহাতের হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বাধা দূর করতে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন,  বাংলাদেশী পর্যটক টানার জন্য ভারত যেভাবে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেই তুলনায় বাংলাদেশ কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি। উল্টো নানা রকমের হেনস্থা হতে হয়। পর্যটকদের নিয়ে কাজ করা এজেন্সিগুলো বলছে ভারতীয়দের এদেশে আসতে রয়েছে নানা রকমের বিড়ম্বনা। এর মধ্যে রয়েছে ভিসা দিতে দেড়ি হওয়া, দালালদের দৌড়াত্ম, আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে নানা হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে বিস্তর।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মেলায় ভারত তার অবস্থান তুলে ধরেন দেশটির হাইকমিশনার। হাই কমিশনার উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলাদেশ থেকে দেশের ভেতরে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে এবং দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সাথে প্রতিবেশী দেশসমূহের বিশেষত ভারতের সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। তাতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেছে।

এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ভিসা সহজতর করছি। ভারতীয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে ভারতীয় হাই কমিশন অনেক অভূতপ্র্বূ উদ্যোগ নিয়েছে।

শুক্রবার আলাপকালে ই-িয়া ট্যুরিজম কলকাতা (পূর্ব) এর আঞ্চলিক পরিচালক শ্রী জে. পি. শ দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, ভারতে প্রধানত দশটি দেশ থেকে পর্যটক গিয়ে থাকেন। এর মধ্যে নাম্বার ওয়ানে আছে বাংলাদেশ। ভারতে প্রতিবছর কমবেশি ১১ মিলিয়ন (এক কোটির বেশি) পর্যটক আসে।

ভারতীয় হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, ভারতীয় পর্যটকদের জন্যও বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক সংযোগের কারণে ভারত থেকেও বাংলাদেশে আসা পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, সুন্দরবনের বদ্বীপ, চট্টগ্রাম পার্বত্য এলাকার অকৃত্রিম সৌন্দর্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় পর্যটকদের আকৃষ্ট করার প্রধান চাবিকাঠি। এছাড়াও দিনাজপুরের বিভিন্ন জায়গা, কুষ্টিয়াতে কবিগুর” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, রাজশাহীতে বরেন্দ্র জাদুঘর, বরিশালে পদ্মা নদীর বুকে নৌবিহার সবই ভারতীয় পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

ভারতীয় কূটনীতিকের মুখে বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্য্যরে কথা শুনা গেলেও ভারতীয় পর্যটন টানতে বাংলাদেশের যে সংস্থাগুলো পর্যটন নিয়ে কাজ করে তাদের পক্ষ থেকে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পর্যটক হিসেবে কতজন বিদেশী বাংলাদেশে আসলো সে হিসেব পর্যন্ত নেই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। একরকম অন্ধকারে হাতরাচ্ছেন তারা। জানতে চাইলেও কোন রকম পরিসংখ্যান দিতে পারছেন না তারা।

বাংলাদেশে প্রতিবছর কি পরিমাণ পর্যটক বাংলাদেশে আসেন পরিসংখ্যান চাইলে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের কাছে তথ্য নেই বলে জানিয়ে দেন। বোর্ডের একজন উপপরিচালক এই প্রতিবেদকের কাছে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, আমরা বার বার চেষ্টা করেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরিসংখ্যান আনতে পারিনি।  দেশে পর্যটক আসার পরিসংখ্যান দিতে পারেনি পর্যটন মেলার আয়োজনকারী সংগঠনের কর্মকর্তারাও। মেলা থেকে কি পরিমাণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের টার্গেট করা হয়েছে সে ব্যাপারেও কোন তথ্য দিতে পারেনি। এ ব্যাপারে ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি তৌফিক উদ্দীন আহমেদও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

এদিকে গতকাল শনিবার শেষ হয় তিনদিনব্যাপী মেলা। এতে ১৩টি দেশের ১৬০টি স্টল নানা অফার নিয়ে অংশ নিয়েছে ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ