ঢাকা, রোববার 22 April 2018, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কর্মীদের অনেক সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে গ্রামীণফোন

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন কর্মীদের নানান সুযোগ সুবিধা কমিয়েছে। কোনো কোনো সুযোগ সুবিধা একেবারেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিগত কয়েক বছর ধরে কোম্পানিটি জনশক্তিও কমিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলে কর্মীদের নামে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে চাকরিচ্যুত করারও অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে এসব অভিযোগের কথা তুলে ধরেন গ্রামীণফোন এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ)। একই সঙ্গে তাঁদের পক্ষে ৭ দফা দাবিও তুলে ধরা হয়। 

লিখিত বক্তব্যে বলা উল্লেখ করা হয়, গ্রামীণফোন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সোবাইল টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মেজরিটি শেয়ারহোল্ডার হচ্ছে নরওয়ে ভিত্তিক টেলিনর। ১৯৯৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা করে বর্তমানে এটি বাংলাদেশের সাড়ে ছয় কোটি গ্রাহককে সেবা প্রদান করে আসছে। জিপি বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মুনাফাকারী মোবাইল কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি শুরুর দিকে মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে কর্মীদের জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা দিয়ে নিয়োগ করে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের সুযোগ সুবিধা বাড়ালেও জিপি হেটেছে উল্টো পথে। বিগত কয়েক বছর ধরে কোম্পানিটি শুধু জনশক্তি কমায়নি বরং এর পাশাপাশি কর্মীদের সুযোগ সুবিধাও কমিয়েছে।

২০১২ সালের জুলাই মাসে গভীর রাতে ২১৮ জন কর্মীকে বেআইনীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বর্তমানে ২০০৫ ও ২০০৬ সালের সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়লেও ২০০৫ ও ২০০৬ সালে একজন কর্মীকে চাকরির শুরুতে যে মজুরী দেয়া হত, বর্তমানে চাকরির শুরুতে তার চেয়ে অনেক কম বেতন দেয় জিপি। ২০০৫ ও ২০০৬ সালে প্রচলিত অনেক সুবিধা কোম্পানি একতরফাভাবে বন্ধ করেছে। এমনকি সময়ের সাথে সাথে বেতন বৃদ্ধির হারও কমিয়ে দিয়েছে।

গ্রামীণফোন বিগত ৫ বছরে মোট রাজস্ব আয় করেছে ৫৪,৭৩৩ (চুয়ান্ন হাজার সাতশত তেত্রিশ) কোটি টাকা এবং নীট মুনাফা করেছে ১০,৪১৬ (দশ হাজার চারশত ষোল) কোটি টাকা। সর্বশেষ তিনবছরে মোট রাজস্ব আয় ৩৪৮০৫ কোটি টাকা আর নীট মুনাফা ৬৯৬৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে কর্মীদের পেছনে ব্যয় করেছে ২৩৪৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে সি ব্যান্ড এবং তদুর্ধ্ব কর্মীদের পেছনে ব্যয় হয় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ।

তাছাড়া তিন বছরে শ্রম আইনের অধীনে প্রদত্ত মুনাফা আনুমানিক ৬০০ কোটি টাকা এবং স্বেচ্ছা অবসরজনিত খরচ ২০০ কোটি টাকা বাদ দিলে বিগত তিন বছরে ডি ব্যান্ড এবং তার নীচের র্কীদের পেছনে অর্থাৎ প্রায় ২০০০ কর্মীর পেছনে ৩ বছরে ব্যয় হয়েছে ১০০০ কোটি টাকা বা তার কিছু বেশি।

উপরোক্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে জিপিইইউ পক্ষ থেকে বেতনবৃদ্ধির প্রস্তাবনা বাস্তায়ন,  মিথ্যা অভিযোগে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল ও মানহানির যথাযথ ক্ষতিপূরণ, কমপ্লায়েন্স হেড তোফায়েল আউয়ালকে অযোগ্য ঘোষণা করছে এবং তাকে অনতিবিলম্বে অপসারনের জোর দাবী, কর্মী কমানোর সকল ধরনের প্রজেক্ট বন্ধ করা এবং চাকরির নিশ্চয়তা, কর্মীদের হুমকি-ধামকী এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করে কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, কর্মীদের যেসকল সুযোগ সুবিধা বন্ধ করা হয়েছে তা অনতিবিলম্বে চালু করা, ওভারটাইম না দিয়ে কোন অতিরিক্ত কাজ না করানো ও কর্মীদের বিশ্রামের জন্য নিয়মিত ছুটি ভোগের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ