ঢাকা, রোববার 22 April 2018, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রংপুরের মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু উদ্বোধনের  আগেই খুলে দেয়া হয়েছে

 

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস ঃ রংপুরের মহিপুর এলাকায় নবনির্মিত দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু উদ্বোধনের আগেই খুলে দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪ বছর পর এর নির্মাণ কাজ এ বছর জানুয়ারী মাসে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় ৩ মাস ধরে সেতুটি  উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল। সেতু খুলে দেওয়ায় এ পথে চলাচলকারী ঐ অঞ্চলের হাজার হাজার সাধারণ মানুষের মাঝে অনাবিল স্বপ্নভরা স্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর গ্রামীণ যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১২১ কোটি টাকা ব্যায়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। জানা গেছে, ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী বৈঠকে (একনেক) দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তিতে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর ও লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কাকিনার সাথে সংযোগ রক্ষাকারী এই সড়কের তিস্তা নদীর উপর ৮৫০ মিটার  দীর্ঘ্য এবং সাড়ে ৯ মিটার প্রস্থ দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণ প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করেন। সেতটিু নির্মাণ শেষ হওয়ায় লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের রংপুর নগরী সহ দেশের বিভিন্ন  জেলায় যাতায়াতের যোগাযোগ ব্যাবস্থায় অন্ততঃ ৫০ কিলোমিটার দূরত্ব  কমে গেছে। রংপুর নগরীর সাথে লালমনিরহাট জেলার এসব এলাকার মানুষের সংযোগের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন  আর দাবি ছিল দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু। এখন সেতু দিয়ে প্রতিদিন পায়ে হাটা মানুষ সহ সব ধরনের যানবাহনসহ চলাচল করছে। তবে এ সুযোগে একশ্রেণির সুযোগ সন্ধানী ব্যাক্তি হাতিয়ে নিচ্ছে চলাচলরত মানুষ এবং যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ। 

সেতু নির্মাণ প্রকল্প এলাকার উভয় পাশ রংপুরের গঙ্গাচড়া হলেও অদৃশ্য কারণে এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় লালমনিরহাট এলজিইডি। সেতুটি নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশন। প্রথমে সেতুটির নির্মাণ সময় ছিল দুই বছর চার মাস। নিদির্ষ্ট সময়ে সেতুর কাজ শেষ করতে না পারায় কয়েক দফায় সময় এবং এর নির্মাণ ব্যায় বরাদ্দ বাড়িয়ে এ বছরের জানুয়ারীতে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।  এর ফলে এই অঞ্চলের মানুষের ব্যাবসা বাণিজ্যসহ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়ক হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এ অঞ্চলের মানুষের কৃষিতেও পরিবর্তন আসবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ