ঢাকা, রোববার 22 April 2018, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভারতে শিশু ধর্ষণের বিষয়টি সন্তানদের কাছে কিভাবে তুলে ধরছেন বাবা-মা?

২১ এপ্রিল, বিবিসি : শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উত্তাল ভারত। জম্মু-কাশ্মীরের কাটোয়ায় আসিফা বানু নামের ৮ বছরের এক শিশুকে মন্দিরে আটকে ক্রমাগত গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা প্রতাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয় পুরো দেশজুড়ে। এরপর উঠে আসে উন্নাও ও সুরাটের গণধর্ষণের ঘটনা। এরই মধ্যে হরিয়ানায় পাওয়া গেছে ধর্ষণের শিকার হওয়া এক তরুণীর বস্তাবন্দী লাশ। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে চরকের মেলা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে এক কিশোরিকে। এসব ঘটনায় ভারত জুড়ে উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়। অনেক অভিভাবক সন্তানদেরও নিয়ে যাচ্ছেন প্রতিবাদে। গনমাধ্যমগুলোতেও এসব ঘটনা নিয়ে অনবরত খবর আসছে। ধর্ষনের মত একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে পিতা-মাতা তাদের অল্পবয়স্ক  সন্তানদের কাছে কিভাবে উপস্থাপন করছেন? 

বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেসব তথ্য।

'সন্তানদের শিক্ষা দেয়ার বিষয়টি এককালীন কোন ব্যাপার নয়,' দিল্লির শিশু বিশেষজ্ঞ ডক্টর সামির পারিখের এমনিই অভিমত। শিশুর বয়স ও শিক্ষা গ্রহনের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে সংবাদ মাধ্যমের খবরগুলো শিক্ষণীয় উপায়ে সন্তানদের কাছে তুলে ধরা উচিত, বলেন ডক্টর পারিখ। 

তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয়গুলো ভারতীয় পিতামাতারা আগের তুলনায় এখন অনেক খোলামেলাভাবে সন্তানদের সামনে ব্যাখ্যা করছেন। তারপরও এটি যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য ডক্টর পারিখের।

বাবা-মা'র ক্ষেত্রে ধর্ষন-হত্যার মত ঘটনা নিয়ে সন্তানদের সাথে কথা বলতে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করার বিষয়টিতে শিক্ষা অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বলেন ডক্টর পারিখ।

বিবিসির কাছে অভিমত প্রকাশ করা অনেক পিতামাতাই এ ধরণের ঘটনাগুলো সন্তানদের কাছে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। অনেকেই খোলামেলাভাবেই সন্তানদের সাথে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তারা মনে করেন, ধর্ষণ ও যৌনহয়রানির মত বিষয় সন্তানদের জানাশোনা থাকা উচিৎ। 

অনেক পিতা-মাতা মনে করেন এসব বিষয় নিয়ে সন্তানদের সাথে আলোচনা করা এক ধরনের লড়াই। তারা চাননা তাদের সন্তানের মন থেকে মানুষের ওপর বিশ্বাস উঠে যাক। পাশাপাশি তারা সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়েও শঙ্কিত। এসব পিতা-মাতা সন্তানদের পোশাক ও সথাসময়ে ঘরে ফেরার ব্যাপারেও বেশ সতর্ক থাকেন।

অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের শরীরের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে থাকেন। কারন তারা ধর্ষনের মত বিষয়টি ইতিবাকভাবে সন্তানদের সামনে তুলে ধরতে চান। কোন কিছুতে অস্বচ্ছন্দ বোধ করলে সরাসরি তা থেকে সরে আসা বা না বলার সাহস রাখার মত মানসিকতা তৈরির বিষয়েও বাবা-মা সন্তানদের শিক্ষা দেন। 

সন্তানদের পত্রিকা পড়ার বিষয়েও বাবা-মা সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে দেন কোন কোন ক্ষেত্রে। ধর্ষনের বিষয়টি নিয়ে কিভাবে সন্তানদের সাথে আলাপ করবেন এ নিয়েও অনেক পিতা-মাতা দ্বিধায় ভোগেন।

সুতরাং এ আলোচনা এখন আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোনটা করা যাবে আর কোনটা যাবেনা কেবল এতটুকু সন্তানদের বলাই যথেষ্ট নয়। তাদের আশেপাশের পরিবেশ সম্পর্কেও সচেতন করে তুলতে হবে এবং অপ্রত্যাশিত যে কোন কিছুর মোকাবেলায় সাহস যোগাতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ