ঢাকা, রোববার 22 April 2018, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে এমপি মিজান ‘উড়ো চিঠি আমলে নিয়ে দুদক তদন্ত করছে’

 

খুলনা অফিস : উড়ো চিঠির অভিযোগ আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্তে  নেমেছে বলে দাবি করেছেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান এমপি। তিনি বলেন, ‘অভিযোগকারী সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার করে দু’টি অভিযোগ দাখিল করেছেন।  যেখানে একটি আবেদনে অভিযোগকারী তার পরিচয়ে ম. হা এবং অপরটিতে শ. হা লিখেছেন।’ মিজানুর রহমান মিজান তার বিরুদ্ধে আনা দুদকে দাখিলকৃত উড়ো চিঠির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারায় প্লট বা ফ্ল্যাট নেই। খুলনা শহরে আমার নামে বাড়ি ও জমি নেই। যা আছে তা হলো আমার পৈতৃক বাড়ি, যেখানে আমি বসবাস করছি। আর আমাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে কিছু জায়গা-জমি আছে।’ তিনি বলেন, ‘অভিযোগে বলা হচ্ছে ঢাকা, আমেরিকা, লন্ডনে আমার বাড়ি রয়েছে। যা সর্বৈব মিথ্যা।’ গতকাল শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে ১৪ দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

মিজান বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং আমি সব-সময় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আছি। মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের প্রধান আসামী নূর হোসেনের সঙ্গে না কি আমার পরিচয় আছে? অথচ নূর হোসেনকে আমি চিনিই না।’

তিনি বলেন, ‘মাদকের কথা বলতে গিয়ে কক্সবাজারের এমপি বদিউজ্জামান বদির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। এ সকল বিষয়ে বিন্দু বিসর্গ আমি জানি না।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এখন ডিজিটাল সিস্টেমে সব কিছু পরিচালিত হচ্ছে। এনবিআর বা অন্য সংস্থা একটু খোঁজ নিলেই জানতে পারবে আমার কী সহায় সম্পদ আছে। জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কতিপয় ব্যক্তি নানা ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে মাদক ব্যবসায়ী, জমি দখলকারী এমনকি চোরাচালানি বানানোর চেষ্টা করছে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা ভুল বুঝিয়ে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে।’

একটি জাতীয় পত্রিকার নাম উল্লেখ করে সংসদ সদস্য মিজান বলেন,‘সমস্ত নিয়মনীতি ভুলে পত্রিকাটি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করেছে। বানোয়াট কথা সুন্দর করে কীভাবে লেখা যায়, তা ওই পত্রিকার কাছ থেকে শিখতে হবে।’

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ওই পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে তিনি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। লিগ্যাল নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইসিটি অ্যাক্টে ও প্রেস কাউন্সিলে মামলা করবেন বলে জানান তিনি।

সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজানকে চিঠি দিয়ে দুদকে তলব করা হয়। ১৬ এপ্রিল সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতা পাঠ করেন ১৪ দল খুলনার সদস্য সচিব খালিদ হোসেন। এসময় খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক, জাসদ খুলনা মহানগর সভাপতি রফিকুল ইসলাম খোকন, ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য দেলোয়ার উদ্দিন দিলু, জেলা জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি আব্দুল মজিদ ও সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হাওলাদার, জাকের পার্টির সভাপতি সাদের আলী সাদেক, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতা এফ এম ইকবাল, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক সুলাইমান হাওলাদার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ