ঢাকা, রোববার 22 April 2018, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ‘স্থগিত’

 দক্ষিণ কোরীয় নেতা মুনজায়ে ও উত্তরের কোরিয়ার নেতা কিম জং

২১ এপ্রিল, আল-জাজিরা, কেসিএনএ, বিবিসি : সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ স্থগিত ও পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্রের কাজ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন। অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখা এবং কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কিম এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)।

“২১ এপ্রিল থেকে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক পরীক্ষা ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ বন্ধ রাখবে,” কিমের বরাত দিয়ে জানায় দেশটির এ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা।

সামনের সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার আগে উত্তরের শীর্ষ নেতা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নিলেন। জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও কিমের শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও পারমাণবিক পরীক্ষা নিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। টুইটারে তিনি বলেন,“উত্তর কোরিয়া ও পৃথিবীর জন্য এটি খুবই ভালো সংবাদ, বিরাট অগ্রগতি।” এর আগে বৃহস্পতিবারও তিনি বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক পথ থেকে সরে এলে তাদের জন্য ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’ অপেক্ষা করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্রও পিয়ংইয়ংয়ের এ পদক্ষেপকে ‘অর্থবহ অগ্রগতি’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। এ ঘোষণা দুই দেশের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছে মুন জায়ে ইনের দপ্তর।

উত্তর কোরিয়া আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাবে না। শনিবার স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেয়া দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের এ বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপান।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় পারমাণবিক স্থাপনা বন্ধের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ সবার জন্য মঙ্গলজনক। আগামী জুনের শুরুতে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠক এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে আরো ফলপ্রসু হবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জাপানের প্রেসিডেন্ট শিনজো আবেও এ বিষয়ে স্বাগত জানান কিমকে।

উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লু কাং বেইজিংএর পক্ষ থেকে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উন্নত জনজীবনের জন্য শুভকামনা জানান। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তকে খুবই ‘অর্থপূর্ণ’। সামনের শুক্রবারেই দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জ্যাঁ ইনের সাথে কোরিয় উপত্যকা নিয়ে সাক্ষাতে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। 

অবশেষে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ।  উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে টেলিফোনে হটলাইন চালু হয়েছে। দেশ দুটির ইতিহাসে এটাই প্রথম হটলাইন চালুর ঘটনা। আশা করা হচ্ছে, দুই দেশের দুই রাষ্ট্রনেতা বহু কাক্সিক্ষত বৈঠকের আগে টেলিফোনে সরাসরি আলাপ করবেন। তার আগে হটলাইন চালুর বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন কিছু দিনের মধ্যেই সরাসরি সংলাপে বসবেন।  খবরে বলা হয়, হটলাইন  দুইচালুর পর দেশের কর্মকর্তারা টেলিফোনে পরীক্ষামূলক সংলাপও সেরেছেন। এবং সেই যোগাযোগ সফলও হয়েছে। টেলিফোন কলটি ছিল চার মিনিট ১৭ সেকেন্ডের।

দক্ষিণ কোরিয়ার এক কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যকে বলেছেন, ‘মনে হয়েছে যেন আমরা পাশের বাড়ির প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা বললাম।’ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের ভবন ব্লু হাউস এবং উত্তর কোরিয়ার স্টেট অ্যাফেয়ার্স কমিশনের মধ্যে এ হটলাইন চালু হয়েছে। এ কমিশনের প্রধান প্রেসিডেন্ট কিম।

এর আগে ব্লু হাউস থেকে বলা হয়েছিল, সরাসরি সংলাপের আগে কিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলবেন প্রেসিডেন্ট মুন। তার পরই হটলাইন চালুর খবর পাওয়া গেল। তবে দুই নেতা ঠিক কখন টেলিফোনে আলাপ করবেন, তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ