ঢাকা, রোববার 22 April 2018, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ধর্ষণকে শত্রুতার নতুন অস্ত্র হিসেবে দেখছেন ভারতের মুসলিমরা

আসিফা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে গোটা ভারতজুড়ে

২১ এপ্রিল, এএফপি : কাশ্মীরের উপজাতিরা আধুনিক ভারতের কোনো সুযোগ সুবিধাই পায় না। পাহাড়ে ছাগল, গরু আর ঘোড়া চরিয়েই জীবিকা চলে তাদের। তারা সাধারনত খবরেই আড়ালেই থাকে, কিন্তু সম্প্রতি ৮ বছর বয়সী এক কিশোরী মেয়ে আসিফা বানুর ধর্ষণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের সমস্যাগুলো সামনে আসে।

ওই অঞ্চলের মুসলিমরা হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা রোজানায় হিন্দুদের দ্বারা গণধর্ষণ ও নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছাড়তে শুরু করেছে।

৭৪ বছর বয়সি গোলাম মোহাম্মাদ রাস্তার পাশের ইউক্যালিপ্টাস গাছের নিচে অস্থায়ী তাবুতে বসবার করছেন। তিনি বলেন, হিন্দুরা চায় না আমরা এই এলাকায় থাকি। মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের মনে অনেক শত্রুতা।

তিনি আরো বলেন, আমি ধর্ষণের ঘটনাটি রেডিওতে শুনেই এলাকা ছেড়েছি। এখন রাস্তার পাশের তাবুতে আছি, সাথে আমার মেয়েও আছে। চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারি না, সবসময় ভয়ে থাকি, মনে হয় হয়ত কেউ আসছে।

পুলিশ বলছে, সম্প্রতি আসিফাকে মাদকাসক্ত করে আটজন মিলে পাঁচদিন ধরে মন্দিরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। পরে মাথায় পাথর দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়; যা বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

ওই ক্যাম্পেরই এক বাসিন্দা রেসনা বিবি তার দশ বছর বয়সী নাতনির দিকে দেখিয়ে বললেন, আসিফা এত বড়ই ছিল। জম্মু-কাশ্মীর একমাত্র মুসলিম প্রধান রাজ্য হলেও জম্মু এলাকায় হিন্দু বেশি। মুসলিমরা সাধারণত অতিরিক্ত শীত থেকে বাঁচতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে এই এলাকায় আসে। কিন্তু স্থানীয় হিন্দুদের তোপের মুখে পড়তে হয়। যদিও ঐসব ভূমির মালিকানা নির্দিষ্ট কোনো হিন্দুর নয়। মোহাম্মদ বলেন, জম্মু থেকে শ্রীনগরের দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। আমরা জম্মু ছেড়েছি তিন দিন পূর্বে। আরো দুই সপ্তাহ লাগবে মূল শহর শ্রীনগরে পৌঁছতে। রেসনা বিবি বলেন এটা কোনো জীবন নয়, আমি চাই আমার সন্তান লেখাপড়া করুক।

শিশু ধর্ষণে ফাঁসি দিতে অর্ডিন্যান্স আনছে ভারত : ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ধর্ষণ করা হলে অপরাধীদের ফাঁসির ব্যবস্থা করতে চাইছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। গতকাল শনিবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এ ব্যাপারে অর্ডিন্যান্স নিয়ে আসার কথা ।

বর্তমানে চালু ‘শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, ২০১২’ (পকসো) অনুযায়ী, ১২ বছরের কম বয়সি শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদ- ও কমপক্ষে সাত বছরের সাজার বিধান রয়েছে।

তবে অপরাধীদের কড়া সাজা দিতে এই আইনটির সংশোধনের প্রক্রিয়া যে শুরু হয়ে গিয়েছে, সে কথা গতকালই সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।

দিল্লির একটি আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলা নিয়ে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বেঞ্চে শুনানির সময়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল পি এস নরসিমা জানান, কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক ‘পকসো’ আইনটিতে সংশোধন করে মৃত্যুদ-ের বিধান যোগ করতে চলেছে। সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে একটি চিঠিও কোর্টে পেশ করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি দিল্লির আট বছরের একটি শিশুকে ২৮ বছর বয়সী তারই এক তুতো ভাই ধর্ষণ করেছিল। শিশুটিকে পরে অস্ত্রোপচার করাতে হয়। এ নিয়ে শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন আইনজীবী অলখ অলোক শ্রীবাস্তব। এই ধরনের ঘটনায় ফাঁসির সাজার আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। এই মামলাতেই ‘পকসো’ আইনে বদল আনার কথা জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আগামী ২৭ এপ্রিল মামলার শুনানি। তবে কেন্দ্র আজ কড়া অবস্থানের কথা জানালেও ১২ বছরের কম বয়সিদের উপর যৌন নির্যাতন হলে ফাঁসির সাজা চেয়ে ইতিমধ্যেই বিল পাশ করিয়েছে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলি।কাঠুয়া ও সুরাত-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাবালিকাদের গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনাগুলি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। কাঠুয়া কা-ের পরে ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রী মেনকা গাঁধী বলেছিলেন, ১২ বছরের কম বয়সি শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন হলে ফাঁসির শাস্তি চাইছে তাঁর মন্ত্রক। সে সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীরা এ নিয়ে সবর হন। তার মন্ত্রকও সুপ্রিম কোর্টে সরকারের অবস্থান জানাতে চিঠি লেখে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলকে।

একই দাবি নিয়ে দিল্লি মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বাতী মালিওয়ালও টানা অনশন শুরু করেছিলেন। তার যুক্তি, নরেন্দ্র মোদী যদি এক রাতে নোট বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা হলে ‘পকসো’ আইনে মৃত্যুদ-ের ব্যবস্থা রাখতে এত সময় লাগবে কেন? কেন্দ্রের তরফে ‘পকসো’ আইন সংশোধনের প্রস্তাব আসার পরে মালিওয়াল আজ অনশন ভেঙেছেন। তিনি ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। নির্ভয়া কা-ের পরে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ধর্ষণে ফাঁসির সাজার ব্যবস্থা করতে অর্ডিন্যান্স আনা হয়েছিল। এ বার ‘পকসো’ পাল্টানোর পালা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ