ঢাকা, রোববার 22 April 2018, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বর্বর ইসরাইলী সেনাবাহিনীর গুলীতে নিহত ৪ ফিলিস্তিনী ॥ আহত সাতশত

ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আহত এক ফিলিস্তিনীকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

 

২১ এপ্রিল, আল-জাজিরা, রয়টার্স : নিজ ভূমিতে ফেরত যাওয়ার দাবিতে গাজা-ইসরাইল সীমান্তে বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনীদের উপর ইসরাইলী সেনাদের গুলীবর্ষণ থামছে না। শুক্রবারও ইসরায়েলী সেনাদের গুলীতে চার ফিলিস্তিনী নিহত হয়, যাদের মধ্যে ১৫ বছরের এক কিশোরও আছে। এ নিয়ে গত তিন সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ফিলিস্তিনীকে হত্যা করা হলো।

ফিলিস্তিন বিক্ষোভকারীদের পাথর ছোড়ার জবাব গুলী ছুড়ে দিচ্ছে ইসরায়েলী বাহিনী।

ইসরায়েলী সেনারা লিফলেট বিলিয়ে সীমান্তের কাছে ঘেঁষতে নিষেধ করলেও কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে সীমান্ত বেড়া কাটার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। বিক্ষোভে এখন পর্য্যন্ত আরও দেড়শতাধিক মানুষ গুলীবিদ্ধ হয়েছে বলে জানান ফিলিস্তীনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। ধারাবাহিক এ সংঘর্ষে নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ বিবাদমান পক্ষগুলোকে ‘সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের’ অনুরোধ আগেই করেছে। কিন্তু কেউ সেই অনুরোধে কর্ণপাত করেনি। শুক্রবার এক টুইটে জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত নিকোলাই লাদেনভ বলেন, “একটি শিশুকে গুলী করে হত্যা করা ভয়ঙ্করতম নিষ্ঠুরতা। গাজায় আজ এভাবে একটি শিশুকে হত্যা কিভাবে শান্তিতে সহায়তা করবে? এটা করতে পারবে না! এই ঘটনা ক্ষোভ বাড়াবে এবং সেটা নতুন করে হত্যার কারণ হবে। শিশুদের অবশ্যই নৃশংসতা থেকে রক্ষা করতে হবে, তাদের প্রতি সহিংস হওয়া উচিত না।”

এর জবাবে ইসরাইলের সেনাবাহিনীর অবসরে যাওয়া এক কর্মকর্তার টুইট, “দয়াকরে গাজায় যান, হামাসের সঙ্গে আলোচনা করুন এবং তাদেরকে সীমান্ত বেড়ার কাছে লোকজন পাঠানো বন্ধ করতে বলুন।”

১৯৪৮ সালে শরণার্থী হওয়া লাখ লাখ মানুষকে ইসরাইলের দখলে থাকা এলাকায় ফিরতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে সীমান্ত বরাবর ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামের এ বিক্ষোভের ডাক দেয় হামাসসহ বিভিন্ন সংগঠন।

শুরুর দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয় ৩০ মার্চকে; ১৯৭৬ সালের এই দিনে ভূমি দখলের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইসরায়েলী নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ছয় বিক্ষোভকারী নিহত হন। ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ৭০তম বার্ষিকীতে আগামী ১৫ মে এ কর্মসূচি শেষ হওয়ার নির্ধারিত তারিখ। ফিলিস্তিনীদের দাবি, শরণার্থী হওয়া পরিবারগুলোকে তাদের ভূমিতে ফিরতে দিতে হবে। অন্যদিকে ইসরাইল বলছে, হামলার দূরভিসন্ধি থেকেই হামাস এ বিক্ষোভের ফন্দি এঁটেছে। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অবরুদ্ধ নাগরিকদের ওপর ইহুদিবাদী ইসরায়েলের বর্বর সেনাদের গুলীতে অন্তত ৪জন ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে ও আরো ৭০০ জন আহত হয়েছে। ইসরাইলী দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ করতে গিয়ে এসব ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হানী আবদিন এর বরাতে জানানো হয়েছে।

গত ৩০ মার্চ থেকে গাজা সীমান্তে ইসরায়েল বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৪ জন ফিলিস্তিনী নিহত ও কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের জাতীয় ভূমি দিবস উপলক্ষে গাজাবাসী ওইদিন থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে এবং আগামী ১৫ মে চলমান বিক্ষোভ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১৫ মে ফিলিস্তীনের নাকাব দিবস পালন করা হবে।

উল্লেখ্য, ৭০ বছর আগে ফিলিস্তিনীদের ভূমি দখল করে অবৈধ ইহুদিবাদী ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনীরা নাকাবা দিবসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। ১৯৪৮ সালের ওই দিনে অন্তত সাত লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনীকে উচ্ছেদ করে ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনীরা ইসরায়েলের বাধারমুখে আর নিজ ভূমিতে ফিরতে পারেনি। 

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর ফিলিস্তিনী হত্যাকারী  সেনাদের প্রশংসা করে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে  দেশটির সম্মানজনক একটি পুরস্কার গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্কার জয়ী অভিনেত্রী নাটালি পোর্টম্যান।

শুক্রবার পোর্টম্যানের এ সিদ্ধান্ত জানার পর ‘জেনেসিস প্রাইজ’ কর্তৃপক্ষ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। ওই অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহুর বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।

নিজ পেশাতে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ইহুদী সম্প্রদায় ও ইহুদী মূল্যবোধকে সকলের সামনে উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করাতে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের ২০১৪ সালে থেকে ইসরায়েল এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।

নিজের এক প্রতিনিধির মাধ্যমে ইসরায়েল সীমান্তে সম্প্রতি ঘটতে থাকা ‘পীড়াদায়ক’ পরিস্থিতির কারণে  ১০ লাখ মার্কিন ডলার অর্থমূল্যের সম্মানজনক ওই পুরস্কার গ্রহণে সেখানে না যাওয়ার কথা জানান পোর্টম্যান।

জেরুজালেমে জন্মগ্রহণ করা ইহুদী সম্প্রদায়ের পোর্টম্যান তিন বছর বয়সে বাবা-মার হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

পোর্টম্যানের এই সিদ্ধান্তের পর নেতানিয়াহু সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনীরা বিশ্বজুড়ে ‘বয়কট ইসরাইল’ নামে যে প্রচার চালাচ্ছে পোর্টম্যান তার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।

এর জবাব নিজেই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পোর্টম্যান। ইন্সটাগ্রামে এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমিই এবার আমার হয়ে কথা বলছি। আমার ওই অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ হচ্ছে, আমি বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন করি না। তার ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।”

‘বয়কট ইসরাইল’ এর সমর্থন করেন না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য ইসরায়েলী ও ইহুদির মত আমিও ইসরায়েলের নেতৃত্বের সমালোচনা করি।  কিন্তু আমি ইসরাইলের সব মানুষকে বয়কট করতে চাই না।

“ঠিক ৭০ বছর আগে হলোকাস্টের শিকার শরণার্থীদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে ইসরায়েলের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু আজ যারা নৃশংসতার শিকার হচ্ছে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যহার কোনো ভাবেই আমার ইহুদী মূল্যবোধের সঙ্গে মেলে না। যেহেতু আমি ইসরাইলকে ভালোবাসি, আমাকে অবশ্যই নৃশংসতা, দুর্নীতি, অসমতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।”

২০১০ সালে ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ চলচ্চিত্রের জন্য পোর্টম্যান সেরা অভিনেত্রীর অস্কার জেতেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ