ঢাকা, রোববার 22 April 2018, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেসিসি নির্বাচনে ২৮৯ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহিৃত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশের নগর বিশেষ শাখা। নগরীর ছয়টি থানার মধ্যে দৌলতপুর থানার ৪২টি ভোট কেন্দ্রের সবগুলো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহিত করা হয়েছে। অন্যান্যবার ভোট কেন্দ্রের ৩টি ক্যাটাগরী ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ, কমঝুঁকিপূর্ণ বা কমগুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুঁকিমুক্ত বা সাধারণ হিসেবে নির্ধারণ করা হলেও এবার দুটি ক্যাটাগরী করা হয়েছে।  এর আগে ২০১৩ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৮৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২০৬টি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। সে তুলনায় চলতি বছরের সিটি নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র বেড়েছে ২০টি।

এবার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন ভোটারের জন্য ভোট কেন্দ্র থাকছে ২৮৯টি।  মহানগরীর ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২২৬টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬৩টি নির্বার্চন কেন্দ্র ঝুঁকিমুক্ত বলে চি‎িহ্নত করা হয়েছে। তবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের নগর বিশেষ শাখার  পক্ষ থেকে ২২৬টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ নয়, ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অবশিষ্ট ৬৩টি ভোট কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীতে বর্তমানে ৮টি থানা থাকলেও নির্বানের আওতায় আনা হয়েছে ৬টি থানা। এ ছয়টি থানা হলো, খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর, খানজাহান আলী ও লবণচরা। নির্বাচনের আওতায় আসেনি হরিণটানা ও আড়ংঘাটা। তবে এ দু’টি থানার সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ভোটাররা পার্শ্ববর্তী থানায় সংযুক্ত ভোট কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং ভোট প্রদান করবেন।

সূত্র জানায়, খুলনা সদর থানার অধীনে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৮৬টি। এর মধ্যে ৬৫টি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১টি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিমুক্ত। এ ভোট কেন্দ্র গুলোতে মোট ভোটারের সংখ্যা ১লাখ ৪২হাজার ৬২২জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭১হাজার ৫৭৭জন এবং নারী ৭১হাজার ১৪৫জন।  সোনাডাঙ্গা থানার অধীনে ৭০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৫টি ঝুঁকিমুক্ত। এ থানায় মোট ভোটার সংখ্যা ১লাখ ২৫হাজার ২০৫জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬২হাজার ১৪৫জন এবং নারী ভোটার ৬৩হাজারর ১৬০জন। খালিশপুর থানার অধীনে ৭২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২০টি ঝুঁকিমুক্ত। এ থানায় মোট ভোটার সংখ্যা ১লাখ ২১হাজার ৪২১জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৬২হাজার ৮২৬জন এবং নারী ভোটার ৫৮হাজার ৫৯৫জন। দৌলতপুর থানার অধীনে ৪২টি ভোট কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। খানজাহান আলী থানায় ৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২টি ঝুঁকিমুক্ত। এথানায় মোট ভোটার ৭হাজার ৫২২জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩হাজার ৬৩২জন এবং নারী ভোটার ৩হাজার ৮৯০জন। লবণচরা থানায় ১৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৫টি ঝুঁকিমুক্ত কেন্দ্র রয়েছে। এ থানায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৬হাজার ২৪৮জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩হাজার ১২০জন এবং নারী ভোটার ১৩হাজার ১২৮জন। স্থানীয় স্ব স্ব থানা, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশলে নগর বিশেষ শাখা ও গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্টের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুঁকিমুক্ত বা সাধারণ ভোট কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে করা এ ভোট কেন্দ্রের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রে ভোট কক্ষ থাকবে ১হাজার ৫৬১টি এবং ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা থাকবেন ৪হাজার ৯৭২জন।

ভোটকেন্দ্র সম্পর্কে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটিএসবি) রাশিদা বেগম বলেন, কোনো কেন্দ্রকে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বলছি না। ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২২৬টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৬৩টি সাধারণ হিসেব গণ্য করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে করা এ তথ্য পরিবর্তিতও হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে ওই কেন্দ্র এলাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভোট কেন্দ্রের দূরত্ব এবং আনুষাঙ্গিক কিছু বিষয়। 

এক প্রশ্নের জবাবে বিশেষ পুলিশ সুপার  রাশিদা বেগম বলেন, কোন ভোট কেন্দ্রে কত সংখ্যক পুলিশ থাকবে তা’ আগামী ২৬এপ্রিল নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভার পর ঠিক হবে। আগামী ১৫ মে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ