ঢাকা, রোববার 22 April 2018, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হাইকোর্টের আদেশের সপ্তাহ পরও লাইজুর লাশ দাফন হয়নি

রংপুর অফিস : আইনি জটিলতায় রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের হিমঘরে ৪ বছর ধরে পড়ে থাকা হোসনে আরা লাইজু (নিপা রানীর) লাশ এখনো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় নি।

মাননীয় হাইকোট গত ১২ এপ্রিল  লাইজুর লাশ ইসলামী রীতি  অনুযায়ী দাফনের  নির্দেশ দেনর্ । এ আদেশে রায়ের কপি পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে  দাফন করতে বলা হয়েছে। রায়ের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও  তার লাশ দাফনে কোন ব্যবস্থা নেয়া নেয়া হয় নি। এদিকে হাইকোর্টের রায়ের জাবেদা কপি নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে  জমা দিয়ে লাশ দাফনের অপেক্ষায় রয়েছেন লাইজুর শ্বশুর পরিবারের  লোকজন।  

জানা গেছে, নীলফামীর জেলার  ডোমার  উপজেলার  বামনিয়া ইউনিয়নের  অক্ষয় কুমার  রায়ের মেয়ে  নিপা রানী  রায়ের সাথে পার্শ¦বর্তী  বোড়াগাড়ি  ইউনিয়নের  ওয়ার্ড মেম্বার জহুরুল  ইসলামের পুত্র হুমায়ুন কবির রাজুর সাথে প্রেমর সর্ম্পকের জের ধরে ২০১৪ সালের  জানুয়ারী  মাসের প্রথম দিকে নীলফামারীর নোটারী পাবলিকের নিকট এফিডেফিটের মাধ্যমে ২ লাখ ১ হাজার  ৫০১ টাকা  দেনমোহরে হুমায়ুন কবির নিপাকে বিয়ে করেন। এ সময় নিপার নাম পরিবর্তন  করে হোসনে আরা লাইজু রাখা হয়। বিয়ের সংবাদ পেয়ে মেয়ের বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ হুমায়ুন কবির এবং লাইজু দুজনকেই  জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়। পরে তারা দুজনই জেলে থেকে মুক্তি পায়। মুক্তি পাওয়ার পর  ২০১৪ সালের  ১৫ জানুযারী  নিপারানী  ওরফে  লাইজু  বিষপান করে আতœহত্যা করে। নিপারানীর লাশ ময়নাদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাদন্তের পর নিপারানী ওরফে লাইজুর মরদেহ মুসলিম নাকি হিন্দু রিতিতে সৎকার হবে এই আইনি জটিলতায় তখন থেকেই লাশটি হিমঘরে পড়ে থাকে। এদিকে নিপার লাশ মেয়ে হিসেবে দাবী করেন  বাবা অক্ষয় কুমার মাষ্টার। অপর দিকে পুত্রবধু হিসেবে  লাশ দাবি  করেন  ছেলের  বাবা জহুরুল ইসলাম। এনিয়ে নিম্ন আদালতে মামলা করা হলে মামলার রায়ে হেরে যান মেয়ের বাবা। পরবর্তীতে সাব-জজ আদালতে আপিল করে ছেলের বাবা হেরে যান। এরপর ছেলের বাবা হাইকোটে আপিল করেন। মাননীয় হাইকোট দীর্ঘ ৪ বছরের আইনি লড়াইয়ের ইতি টেনে লাইজুর মরদহ  ইসলামীরীতি  অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ  দিয়ে পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।।

ছেলের বাবা  জহুরুল ইসলাম জানান, তিনি হাইকোর্টের রায়ের জাবেদা কপি  নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জমা দিয়েছেন। প্রশাসন রমেক হাসপাতাল থেকে লাশ আমাদের কাছে হস্তান্তর  করলেই ইসলামীরীতি অনুযায়ী তাঁর দাফন করা হবে। অপরদিকে মেয়ের বাবা অক্ষয় কুমার রায় মেনে নিয়ে কোন আপিল করবেন না বলে জানান। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার অজয় কুমার রায় জানান, আদেশ পেলেই লাশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবেন।  নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খন্দকার নাহিদ হাসান জানিয়েছেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ  হাসপাতাল থেকে লাশ গ্রহণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ