ঢাকা, সোমবার 23 April 2018, ১০ বৈশাখ ১৪২৫, ৬ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কর অবকাশ না দিলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে ট্যানারি শিল্প -বিটিএ

স্টাফ রিপোর্টার: সাভারে স্থানান্তরিত চামড়া শিল্পনগরীর জন্য আগামী ৭ থেকে ১০ বছরের জন্য কর অবকাশের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশন। কর অবকাশ না দিলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ।
গতকাল রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রধান কার্যালয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের(বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ এ দাবি জানান। প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কৃষি, পোল্ট্রি, তেল, গ্যাস, খাদ্য ও পানীয় খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শাহীন আহমেদ বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে চামড়া উদীয়মান রপ্তানিমুখী শ্রমঘন খাত। পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ট্যানারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান হাজারীবাগ থেকে চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরিত হয়েছে। ২০০ একর জমিতে এরই মধ্যে ১৫৫টি ট্যানারি শিল্পকারখানা স্থানান্তরিত হয়েছে। ১০২টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করেছে। ট্যানারি মালিকগণ এখানে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তাই এখানে শিল্পনগরীর জন্য আগামী ৭ থেকে ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ (করমুক্ত) সুবিধা দরকার।
আলোচনায় সভায় মো. শাহীন আহমেদের বন্ড সুবিধাবঞ্চিত ট্যানারি শিল্পের জন্য বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি বলেন, ১৫৫টি ট্যানারির মধ্যে ৩০টি ট্যানারি বন্ড সুবিধা পায়। বাকিরাও যাতে এই সুবিধা পায় সেজন্য এনবআরকে উদ্যোগী হতে হবে। ওই সকল প্রতিষ্ঠানও বিদেশে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে থাকে। কিন্তু কাঠামোগত ও আর্থিক সক্ষমতা কম থাকায় বন্ড সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বন্ড সুবিধাবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে আমরা বিবেচনা করব, যাতে ন্যূনতম শর্ত পূরণ করলেই তাদের ওই সুবিধা দেওয়া হয়।
এছাড়া বাজেট প্রস্তাবে শতভাগ রপ্তানিমুখী চামড়া খাতকে উৎসে কর বা মূল্য সংযোজন করের (মূসক) আওতামুক্ত রাখা, সাভার চামড়া শিল্পনগরীকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণাসহ বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয়।
প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় ফিড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মসিউর রহমান পোল্ট্রি ফিডের কাঁচামাল সয়াবিন মিল আমদানির ওপর ১০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি মওকুফ করার দাবি জানান। এর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আসছে বাজেটে পোল্ট্রি খাতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।
অ্যাগ্রিকালচার মেশিনারি ম্যান্ফ্যুাকচারার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আলীমুল এহছান চৌধুরী বলেন, অ্যাগ্রিকালচার মেশিনারি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে গণ্য না হওয়ায় ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এই শিল্পকে কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে গণ্য করতে হবে।
বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী কৃষিশিল্পের ক্ষেত্রে করপোরেট ট্যাক্স ১৫ শতাংশ করার দাবি জানান। এছাড়া তিনি বাৎসরিক টার্নওভারের ওপর আয়কর সম্পূর্ণ অব্যাহতির দাবি জানান।
এছাড়া বাংলাদেশ সিড এসোসিয়েশন থেকে তরমুজ ও বাঙ্গির বীজ আমদানির ওপর ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কৃষিজাত পণ্যের বীজ আমদানির ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারী প্রস্তুতকারক সমিতির পক্ষ থেকে  তরি বিস্কুট, পাউরুটি, বনরুটিসহ সব ধরনের বিস্কুটে কর অব্যাহতি দেওয়ার দাবি করা হয়। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এই খাতে ভ্যাট কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ