ঢাকা, মঙ্গলবার 24 April 2018, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিউটিফুল বাংলাদেশের বিউটি

মাকসুদা সাকি : বিউটি, বিউটিফুল বাংলাদেশের শায়েস্তাগঞ্জের দিনমুজর সায়েদ আলীর মেয়ে। মাত্র ১৬ বছরের কিশোরী। অসভ্য, বর্বর বাবুল ও তার লোকেরা বিউটিকে ধরে নিয়ে যায়। মাস খানেক আটকে রাখে। আটকে রেখে চলে নিয়মিত নির্যাতন।
বিউটি পালিয়ে আসে ধর্ষকদের হাত থেকে। ধর্ষক বাবুল আবারও তাকে তুলে নিয়ে যায়। এবার আর শুধু ধর্ষণ নয়। ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে মামলার কারণে ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়।
বিউটিফুল বাংলাদেশের বিউটিদের ঘটনা এখন পত্রিকার খেলা কিংবা কখনো কখনো বিনোদন পাতার মত হয়ে গেছে। এসব খবর এখন আমরা খেলাচ্ছলে নিচ্ছি বা মাঝে মাঝে বিনোদন ও পাচ্ছি। আমরাই আবার মানবিকতার জন্য পুরুষ্কার পাই, নানা উপাধিতে ভুষিত ও হই।কিন্তু বিউটিদের জন্য আমাদের মানবিকতাবোধ কাজ করে না। আজকে বিউটি শিরোনামে জায়গা পেয়েছে সেখানে যে আমার জায়গা হবে না কিংবা আমার বড় বা ছোট বোনের নাম আসবে না তার গ্যারান্টি কোথায়?
মনে আছে বগুড়ার ধর্ষক তুফানের কথা? কি উল্লেখযোগ্য শাস্তি হয়েছে তুফানের? তুফান ধর্ষণের বিচার চাওয়ার অপরাধে ভিকটিমের চুল ন্যাড়া করে দিয়েছিলো আর তুফানের যোগ্য উত্তরসুরী বাবুল চুল ন্যাড়া করা একটা বাচ্চা মানুষীকাজ ভেবে সাহসিকতার(!) পরিচয় দিয়ে দিলো। কারণ বাবুলেরা জানে বিচারহীনতার এই দেশে যে কোনো কাজ করে ই পার পাওয়া যায়।
অবাক হই নারীবাদীদের দেখে, নারীর উন্নয়ন, ক্ষমতায় এসব বলে বলে দিন রাত ফেনা তুলছে কিন্তু হাওরের সবুজ মাঠে লাল জামা পরা রক্তাক্ত বিউটির মুখটি কি তাদের চোখে পড়ে না। নাকি এই সব বিউটিদের লাশের উপর ভর করেই তারা তাদের স্বাধীনতার উদ্যামতা দেখাতে চায়? আর যারা মুক্তিযুদ্ধের আর জয় বাংলার চেতনা নিয়ে ব্যবসা করেন তাদের জন্য তো স্বাধীনতার মাসে বিউটি এক অনন্য উপহার।
আমরা যারা নিয়মিত রাস্তায় চলাফেরা করি তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই কোনো কোনো খারাপ অভিজ্ঞতায় পড়তে হয়, আর সেটা মন একদম বিষিয়ে দেয়, আর ধর্ষণ!!!
কী বীভৎস! কী ভয়াবহ!
ধর্ষণ যে কতটা ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলে যায় নারীর মন ও শরীরে, তা কেবল ধর্ষিতা মাত্রই জানে।পত্রিকায় পড়া এক নারীর অভিজ্ঞতা তার ভাষায় " আমার জীবনের রক্তাক্ত ঐ সময় প্রতিমুহূর্তে তাড়িয়ে বেড়ায়, চলার পথ থেকে ছিটকে পড়েছি আমি, আকাশ ছোঁয়া যেন কখনো হবে না আমার "
ধর্ষিতা হচ্ছে নারীরা, একের পর এক। আমরা দর্শক, নির্বিকার। ধর্ষণ হচ্ছে নির্বিবাদে, নির্বিচারে। গোটা বাংলাদেশ হয়ে উঠছে ধর্ষকের অভয়ারণ্য।
বিচারহীনতার ঐতিহ্যই ধর্ষণের ঘটনাকে লাগামহীনভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। শারীরিক ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে ধর্ষিতাকে মানসিকভাবে ধর্ষণের শিকার হতে হয় ব্যক্তি, রাষ্ট্র কিংবা সমাজের দ্বারা; যা ধর্ষিতাকে আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নিতে বাধ্য করে। ধর্ষণ হচ্ছে বাসে, ক্লাসে, অফিসে, বাড়িতে, রেস্তোরাঁয়, মার্কেটে-সবজায়গায়।হচ্ছে আরো হবে। বেড়েছে আরও বাড়বে। মহামারীর রূপ নিবে। কারণ এখানে ধর্ষকেরা ধর্ষণের পর খুন করে যায়, যাতে ধর্ষিতা ধর্ষণের ঘটনাটি আর কাউকে না বলতে পারে। আর কেউ কেউ ধর্ষণের বীভৎস অভিজ্ঞতা নিয়ে না মরে বেঁচে থাকে কিন্তু বিচার চাইতে পারে না ধর্ষকদের ক্ষমতার ভয়ে তারা থাকে ভীতসন্ত্রস্ত। আমরা কোন ধর্ষণেরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে দেখিনি,পাইনি কোনো উল্লেখযোগ্য আইন ও তার প্রয়োগ। তবে কেন কমবে এই অপরাধ?
বিউটিফুল বাংলাদেশে বিউটিদের লাশেরাই ধিক্কার দিবে আর বিউটিদের ধর্ষকরাই কালিমা লেপন করে যাবে। বিউটিফুল বাংলাদেশের বিউটি ধরে রাখতে চাই যথাযথ আইন ও তার সুষ্ঠু প্রয়োগ। বন্ধ হোক বিচারহীনতা। আমার সহ সবার চাওয়া বিউটির খুনি ধর্ষক বাবুলগংদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে সেটা শুরু হোক। নারী, কিশোরী, শিশুর জন্য নিরাপদ হোক এই দেশ এই মাটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ