ঢাকা, মঙ্গলবার 24 April 2018, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সন্ধ্যা নদীতে ড্রেজিং না হওয়ায় জেগে উঠেছে চর ॥ সেচ সংকটে লক্ষাধিক কৃষক

আগৈলঝাড়া : পয়সারহাট ব্রিজ এলাকায় সন্ধ্যা নদীতে জেগে ওঠা চর ড্রেজিং না করায় বন্ধ হবার উপক্রম সকল ধরনের নৌকা

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার একমাত্র প্রবাহমান সন্ধ্যা নদীতে চর জেগে ওঠার কারণে পয়সারহাট-ঢাকাগামী লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে পণ্য পরিবহনকারী নৌযান চলাচলও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। একমাত্র নৌ বন্দর পয়সারহাট এখন চরম সমস্যার সম্মুখীন। বোরো সেচ সংকটে পড়েছে নদীর সাথে সংশ্লিষ্ট এলাকার লক্ষাধিক কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ি ও কৃষকেরা ড্রেজিংএর মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আশুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
পয়সারহাট নৌবন্দর ব্যবসায়ি হাজী আবুল বাশার হাওলাদার বাদশা জানান, প্রায় দুই বছর আগে পয়সারহাটের সাথে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলার প্রবহমান একমাত্র নদী তীরে গড়ে ওঠা পয়সারহাট নৌবন্দরে দিয়ে ব্যবসায়ীরা ঢাকাসহ মাদারীপুর, টেকেরহাট ও দক্ষিনাঞ্চলের ব্যবসায়ি বন্দর ঝালকাঠী, বরিশাল, স্বরুপকাঠী, ভোলা সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা লঞ্চ ও ট্রলারে প্রতিদিন কোটি টাকার মালামাল বেচা কেনা করতেন। প্রায় দুই বছর আগে লঞ্চ বন্ধ হওয়ায় এখন ঢাকা থেকে যাত্রীবাহি লঞ্চ উজিরপুর ও বানারীপাড়ার সীমান্ত এলাকা বিশারকান্দি পর্যন্ত চলাচল করছে। ফলে বিশারকান্দি ঘাটে পন্য নামিয়ে ছোট ট্রলারে পয়সারহাট নৌবন্দরে আনা নেয়া করতে হচ্ছে তাদের। যাত্রীরাও পরেছেন চরম বিড়ম্বনায়। এতে তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। সরেজমিনে দেখা গেছে, পয়সারহাট নৌ-বন্দর সংলগ্ন এলাকাসহ নদীর বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠায় নদী দিয়ে নৌযান চলাচলে বাঁধার সম্মুখিন হয়ে আসছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সন্ধ্যা নদীর উপর পয়সারহাট, বিশারকান্দি সেতু ও সাতলা নির্মানাধীন সেতুর জন্য সন্ধ্যা নদী তার নাব্যতা হারিয়ে বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। ফলে নির্দ্দিষ্ট নৌ-বন্দরে নৌযান ভিড়তে পারছে না। স্থনীয়রা জানান, উপজেলার একমাত্র নদীটি শিঘ্রই ড্রেজিং করা না হলে সন্ধ্যা নদী নাব্যতা হারিয়ে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হতে খুব বেশী সময় লাগবে না। বর্তমানে নদীর বিভিন্ন স্থানে জেগে ওঠা চরের কারনে উল্লেখিত নদীপথে ভাটার সময় সকল ধরণের নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে আগৈলঝাড়া, উজিরপুর, কোটালীপাড়া, বানারীপাড়া, মাদরীপুর জেলার উপজেলাসহ আশপাশের অন্তত ১০টি উপজেলা এলাকা কৃষি প্রধান অঞ্চল হওয়ায় ইরি-বোরো মৌসুমে নদী শুস্কতার কারণে উপজেলার ছোট বড় খালগুলোতে পানি প্রবেশ করতে না পারায় চাষীরা বড় ধরনের সেচ সংকটের মুখে পরেছে। ব্যবসায়ীরা তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসা-বানিজ্য নিয়ে রয়েছেন চরম উৎকন্ঠায়। কৃষক ও ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়িসহ স্থানীয়রা সন্ধ্যা নদী ড্রেজিংএর মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ