ঢাকা, মঙ্গলবার 24 April 2018, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনে মধু আহরণ মওসুম শুরু : কঠোর নিরাপত্তা

খুলনা অফিস: সুন্দরবনের মধু আহরণের মওসুম শুরু হয়েছে। গত দুইদিন আগে থেকে মৌয়ালরা মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ করেছে। চলতি মওসুমে বাঘের আক্রমণের ঝুঁকির পাশাপাশি বনদস্যুদের হামলার ভয় মাথায় নিয়ে তাদের বনে যেতে হচ্ছে। তবে মৌয়ালদের জন্য বন বিভাগ থেকে এ বছর নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। যাতে তারা নির্বিঘ্নে মধু আহরণ করতে পারে। এ ছাড়া মধু আহরণ মওসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে অনেক দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, সুন্দরবনের মধু সুমিষ্ট, এ বনের মধু মহৌষধ ও প্রাকৃতিক সম্পদ। মধু দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে মৌয়ালদের মধু আহরণ করতে গিয়ে বাঘ, সাপ, কুমিরের সাথে জীবন বাজি রেখে এবং ভয়ঙ্কর বনদস্যুদের চাঁদা, মুক্তিপণ মাথায় নিয়ে সুন্দরবনে মধু আহরণ করতে হয়। এ বছর কোন হয়রানি ছাড়াই বন বিভাগ থেকে পাস পারমিট নিতে পেরেছে বলে জানিয়েছে পেশার সাথে জড়িত মৌয়ালরা। গত ১ এপ্রিল থেকে মধু আহরণের মওসুম শুরু হয়েছে। ৩১ মে পর্যন্ত মধু আহরণ চলবে। বন বিভাগের বিভিন্ন স্টেশন থেকে মৌয়ালরা পাস পারমিট নিয়ে বনে যাচ্ছে। খুলনা, সাতক্ষীরাসহ উপকূল এলাকার ১০/১২টি উপজেলার মৌয়ালরা বিভিন্ন মহাজনের অধীনে মধু সংগ্রহ করতে যাচ্ছে। এদের দাবি সরকার কিংবা কোন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে সুদ ছাড়া ঋণের ব্যবস্থা করতে পারলে তাদের পেশায় ভালভাবে টিকে থাকতে পারতো। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মওসুমে পশ্চিম বন বিভাগ থেকে মধু ১৭৫০ কুইন্টাল ও ৪৪০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য মাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা রেঞ্জে মধু ৭০০ কুইন্টাল ও ১৭৫ কুইন্টাল মোম এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে মধু ১০৫০ কুইন্টাল এবং ২৬৫ কুইন্টাল মোম। এ বছর বড় ধরনের কোন বিপর্যয় না হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মধু আহরণের আশা করছে বনবিভাগ। মধু সংগ্রহের জন্য যে সব বনজীবী মাওয়ালীরা বনে প্রবেশ করছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের জন্য সব থেকে বড় আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে সুন্দরবনের মূর্তিমান আতঙ্ক বনদস্যু। মৌয়ালরা জানায়, সুন্দরবনের বাঘ, কুমিরের মুখ থেকে রেহাই পেলেও রেহাই পাওয়া যায় না মানুষরূপী ভয়ংকর বনদস্যুদের হাত থেকে। বনদস্যুরা নৌকা প্রতি মোটা অঙ্কের টাকা মৌয়ালদের কাছ থেকে আদায় করে থাকে। মৌয়ালরা আরো জানায়, তারা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন নিয়ে বনে মধু আহরণের জন্য প্রবেশ করে থাকে। বিভিন্ন স্থানে অর্থ দেয়ায় কারণে বন থেকে মধু সংগ্রহ শেষে বাড়ি ফিরে এসে হিসাব করে দেখা যায় তাদের আয়ের থেকে খরচ বেশি এমনই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে অনেক মৌয়াল। তারপরও মৌয়ালরা নানা সমস্যা মাথায় নিয়ে সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ করতে যাচ্ছে। খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এস এম শোয়াইব খান বলেন, গত ১ এপ্রিল থেকে মধুর পারমিট দেয়া শুরু হয়েছে তা চলবে মে মাস পর্যন্ত। তিনি আরও বলেন, মৌয়ালদের নিরাপত্তার জন্য বনবিভাগের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করা হবে। সুন্দরবনে বনজীবী মৌয়ালরা মধু আহরণে বনের ভেতর নির্বিঘ্ন চলাচল করতে পারে তার জন্য প্রশাসনিকভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের (ডিএফও) মো. বশিরুল-আল মামুন বলেন, এ বছর দুই সপ্তাহের জন্য মধুর পারমিট দেয়া হয়েছে। যাতে দীর্ঘদিন কোন মৌয়ালী সুন্দরবনে থেকে কোন অপরাধ না করতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ