ঢাকা, বুধবার 25 April 2018, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ৮ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না মানবতার শত্রু সু চি

২৪ এপ্রিল, ব্যাংকক পোস্ট : সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য আসিয়ান সম্মেলনে জোটভূক্ত দেশগুলো রোহিঙ্গা প্রশ্নে সরব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি। সরকারের মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তার স্থলে প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট সম্মেলনে মিয়ানমারের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেবেন।

অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও আসিয়ান সম্মেলনে জোরালোভাবে রোহিঙ্গা সংকটের প্রশ্ন উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

আসিয়ানের মানবাধিকার বিষয়ক আন্ত-রাষ্ট্রীয় কমিশন-এআইসিএইচআর এর মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রতিনিধি সদস্যভূক্ত দেশগুলোকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আরও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ ওঠা মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে আসিয়ান দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ দাবি করেছে তারা। গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন রেহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় জাতিগত নিধন ও গণহত্যার আলামত পেলেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা নিপীড়নের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সেনাবাহিনীর সমান্তরালে সু চিও রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ অস্বীকার করে আসছেন। এই ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার মুখে পড়েন সু চি। বহু সম্মাননা কেড়ে নেওয়া হয় তার।  

চাপ কিংবা সমালোচনার ভয়েই সু চ আসিয়ান সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সরকারের মুখপাত্র জ তাই সংবাদমাধ্যমকে সু চির স্থলে সদ্য শপথ নেওয়া প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট-এর সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা জানাতে গিয়ে কোনও কারণ উল্লেখ করেননি। তবে গত সপ্তাহে সরকারের ইউনিয়ন বিষয়ক মন্ত্রী থাং তান জানিয়েছিলেন, দেশের  ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামলাতে হচ্ছে। বহুদিন পর্যন্ত তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে দেওয়া বিবৃতিতে রোহিঙ্গা নিধনকে ‘অভ্যন্তরীণ জাতিগত সহিংসতা’ আখ্যা দেওয়া হয়। মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে  রোহিঙ্গা ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির গোপন আলোচনার খবর দেয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। শেষ দিনের সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ওই আলোচনাকে গঠনমূলক দাবি করেন। বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আজ একটি দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছি। অং সান সু চি এই বিষয়ে দীর্ঘ সময় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন।’ রোহিঙ্গা সংকটকে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি এবং এখন পর্যন্ত এটা বলা যায়ৃ আমাদের বৈঠকে খুবই গঠনমূলকভাবে আলোচনা হয়েছে’, বলেন টার্নবুল।

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে আসিয়ান নেতাদের মধ্যে মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।

সংকট উত্তোরণের তাগিদ দেন অন্যান্য নেতারাও। সম্মেলনস্থলের ভেতরে সংকট প্রশ্নে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ হয়ে গেলেও বাইরে সু চির বিরুদ্ধে উত্তাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার দাবি ধ্বনিত হয় সেই প্রতিবাদী বিক্ষোভ থেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ