ঢাকা, বুধবার 25 April 2018, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ৮ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে তুরাগ বাসে নারীকে যৌন হয়রানি ॥ ৩ জনের ৩ দিনের রিমান্ড

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকায় তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গুলশান থানা-পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম গোলাম নবী গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তিনজন হলেন ওই বাসের চালক রোমান, বাসের ভাড়া আদায়কারী মনির ও বাসচালকের সহকারী নয়ন।
গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার ওঝা তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বাসের হেলপার নয়ন ও চালক রোমান ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লীল কথা বলার পাশাপাশি যৌন হয়রানি করেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। তবে রোমান ও নয়ন বলেছে, তারা এমন ঘটনায় জড়িত নন। আসামীর আইনজীবী ইকবাল হোসেন ও হাতেম আলী এ মামলাকে মিথ্যা মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে রোমান, মনির ও নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, তুরাগ পরিবহনের গাড়িচালক ও তার সহকারী তাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করলে কৌশলে তিনি তাদের খপ্পর থেকে বেরিয়ে আসেন। ওই ঘটনায় ওই ছাত্রীর স্বামী রোববার বিকেলে বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলাও করেন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জানানোর পরই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। তারা রোববার যাত্রাবাড়ী থেকে আবদুল্লাহপুরগামী তুরাগ পরিবহনের বাসগুলো উত্তরায় পৌঁছালেই সেগুলো থামিয়ে দেন। বাসের যাত্রীদের অন্য বাসে তুলে দিয়ে চালককে তাদের ক্যাম্পাসের কাছে বাস চালিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য করেন এবং বাসের চাবি কেড়ে নেন।
চলন্ত বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির পতিবাদে তুরাগ পরিবহনের ৩৫টি বাস আটকে রেখে প্রতিবাদ করেন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত বাসচালক ও তার সহকারীকে গ্রেপ্তারে তারা গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। ব্যর্থ হলে আটকে রাখা বাসের কোনো ক্ষতির দায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নেবে না বলে ঘোষণাও দেন তারা। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পরই সোমবার রাতে বাসগুলো পুলিশকে বুঝিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ