ঢাকা, বুধবার 25 April 2018, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ৮ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্যাগে তরুণীর লাশের খন্ডাশ ঘটনার তদন্ত এগোচ্ছে না

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার কুতুবখালীর প্রধান সড়কে একটি ট্রলি ব্যাগের ভেতর থেকে এক তরুণীর মৃতদেহের খন্ডাশ উদ্ধার করা হয় গত ১১ এপ্রিল বুধবার। ওই তরুণীর দেহের কোমর থেকে নিচের অংশ ব্যাগে ভরা ছিল। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করে। এ মামলা হওয়ার পর দু’সপ্তাহ পেরিয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। আজ পর্যন্ত ওই তরুণীর পরিচয় না পাওয়ায় হত্যাকা-ের কারণ এবং জড়িতদের খুঁজে বের করতে পারেনি পুলিশ। যার কারণে ওই হত্যাকা-ের তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই।
জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তোফায়েল আহমেদ গত সোমবার বলেন, “ওই তরুণীর দেহের উপরের অংশ পাওয়া যায়নি। কোনো পোশাকও ছিল না। কেউ থানায় এসেও অভিযোগও করেনি। তাই কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছে না।”
 যে স্থানে ব্যাগটি পাওয়া গিয়েছিল, ওই এলাকার বাসিন্দা ফারুক নামে একজন বলেন, “সম্ভবত নিহত নারী অন্য কোনো এলাকার। হত্যার পর ব্যাগে ভরে কোনো গাড়িতে এনে লাশের খ-াংশ এখানে রেখে যায়।” তিনি বলেন, “সেদিন সড়কের পাশে একটি বড় ব্যাগ দেখে মানুষ জড়ো হয়। একজন কৌতূহলবশত ব্যাগের চেইন খুলতেই মৃতদেহ দেখতে পায়।”
ফারুক বলেন, যে ব্যাগটি ছিল, তা ভ্রমণের সময় ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের ব্যাগ বহন করলে কারও সন্দেহ হওয়ার কথা নয়।
ব্যাগটি কুতুবখালী রাস্তার দক্ষিণপাশে ছিল। এখানে সিলেট, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাস থেকে মানুষ নামে। এ থেকে ফারুকের ধারণা, অন্য কোথাও হত্যার পর লাশের খ-াংশ মহাসড়কের পাশে এনে ফেলা হয়।
তদন্ত না এগোলেও পুলিশ ‘বসে নেই’ দাবি করেছেন পরিদর্শক তোফায়েল। তিনি বলেন, “প্রতিদিন ফলোআপ করছি- দেহের বাকি অংশ দেশের কোথাও পাওয়া গেল কি না। সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে মেসেজ দেয়া হয়েছে।”
ওই দিন ঘটনাটি জানাজানির পর ডেমরা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতেখারুল আলম জানিয়েছিলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় খবর পেয়ে পুলিশ কুতুবখালী প্রধান সড়কের পাশে পড়ে থাকা ট্রলি ব্যাগের ভেতর থেকে দেহখ-টি উদ্ধার করে। “আনুমানিক ২২ বছর বয়সী নারীর কোমর থেকে নিচের অংশ ব্যাগে পাওয়া গেছে।” নিহতের পরিচয় খোঁজা হচ্ছে জানিয়ে তিনি সেদিন বলেন, “পরিচয় পাওয়া গেলে হত্যাকা-ের কারণ জানা যাবে।”
 সেদিনই ময়না তদন্তের জন্য তরুণীর দেহখ- স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ মর্গে পড়ে আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ