ঢাকা, বুধবার 25 April 2018, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ৮ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশে মানবাধিকার বলতে কিছু নেই

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, দেশে মানবাধিকার বলতে কিছু নেই। নেই আইনের শাসন। গণতন্ত্র অনুপস্থিত। বুঝতে হবে এমতাবস্থায় রাজনীতি করা কতো কঠিন। অথচ কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য গণতন্ত্র খুবই জরুরী। গণতন্ত্রের সংজ্ঞাই হলো মন খুলে কথা বলতে পারা। আমরা তার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। এদিকে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের ঘরে বাইরে বিপদ সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যাপক আ স ম মোস্তফা কামালের পরিচালনায় সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, ঢাকা মহানগর সভাপতি ফরিদ উদ্দিন, কৃষিবিদ সুমন, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। বর্তমান স্বৈরশাসক সরকার গণতন্ত্রের ভান ধরেছে। বর্তমান অবস্থা থেকে যদি গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে না পারি তাহলে মুক্তিযুদ্ধাদের অপমান করা হবে। যদি স্বৈরশাসকের ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে যারা যুদ্ধ করেছিলেন তারা কি প্রশ্ন করবে না ‘এ জন্য কি আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম?’
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বেকে বলে বেড়াচ্ছি বাংলাদেশে এখন বিশাল গণতন্ত্র রয়েছে। এমন বিশাল গণতন্ত্র যে সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪ আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় এবং বাকি ১৪৬ আসনে ৫ শতাংশ ভোটও পড়ে না।
মঈন খান বলেন, পৃথিবীর দুইশ দেশের মধ্যে ভারত আমাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় সাহায্য করেছিল। এ জন্য ভারতের প্রতি আমার কৃতজ্ঞ। ‘কিন্তু তারা সামান্য ভুলের কারণে এ বন্ধুত্ব হারাতে চায়। তাদের চিন্তা করতে হবে এ বন্ধুত্ব কেন হারাচ্ছে। আমার বিশ্বাস দুটি দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব না করে দু’দেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে সেটা আজীবন টিকবে।
সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই উল্লেখ করে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এত বুদ্ধিমান যে তারা নিজেদেরকে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী মনে করে কিন্তু তারা জানে না তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ভেতরে রাখলেও বিপদ, বাইরে রাখলেও বিপদ, তাকে হসপিটালে নিলেও বিপদ, কারাগারে নিলেও বিপদ, বিদেশে পাঠাতে চাইলেও বিপদ, এ জন্য সরকার ফাঁপরে আছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আর আন্দোলন আপনারা এত সহজে করতে পারবেন না। যদি নির্বাচনের তিন মাস আগে আন্দোলন করতে চান তাহলে কি কঠিন আন্দোলন করতে পারবেন? পারবেন না। কারণ তার তিন মাস পরে তো নির্বাচন, সরকার যদি নির্বাচন দেয়, তখন আপনারা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, আন্দোলন করবেন কীভাবে ? আন্দোলন করতে হলে আগে থেকেই করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, গাজীপুর-খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হবে। সেখানে সরকার এমপি-মন্ত্রী পাঠাবে, সেটাই আইন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের যিনি আছেন, তিনি এক ব্যক্তির শাসক, তিনি যেটা করবেন সেটাই আইন, সমস্ত প্রশংসা তার প্রাপ্য আর আমরা তার চামচামি করে বেড়াবো, এটাই আইন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ