ঢাকা, বুধবার 25 April 2018, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ৮ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রেকর্ড দাম বৃদ্ধিতে অস্থির মুদ্রাবাজার

স্টাফ রিপোর্টার : রেকর্ড দাম বৃদ্ধিতে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে মুদ্রাবাজার। দেশের ব্যাংকগুলোতে নগদ মার্কিন ডলারের মূল্য ৮৬ টাকায় উঠেছে। আমদানি পর্যায়ের ডলারের দর উঠেছে ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা। ডলারের দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ব্রিটিশ পাউন্ডের দামও। গতকাল পাউন্ডের দর বেড়ে হয়েছে সর্বোচ্চ ১২১ টাকা।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, আমদানি বেড়ে গেছে। পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা বেড়েছে। এছাড়া ডলারের বাজারে কারও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ব্যাংকগুলো ইচ্ছেমত দাম বাড়াচ্ছে। ডলারের দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীদেরও খরচ বেড়েছে। টাকা ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমদানিকারকরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী দেশের পণ্য ও সেবা উভয়ের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে। তাই সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতিতে একের পর এক রেকর্ড করছে দেশ। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) মোট বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৯৭ হাজার কোটি টাকার বেশি।
নগদ ডলারের মূল্য সবচেয়ে বেশি উঠেছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে (এফএসআইবিএল)। ব্যাংকটিতে গতকাল প্রতি ডলারের দাম দাঁড়ায় ৮৬ টাকা। বিদেশি খাতের সিটি এনএ নগদ টাকায় ডলার বিক্রি করছে ৮৫ টাকা ৭৫ পয়সা, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে ৮৫ টাকা ৭০ পয়সা, ব্যাংক আল ফালাহ ৮৫ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেশিরভাগ ব্যাংকই ৮৫ টাকায় ডলার বিক্রি করছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্ত:ব্যাংক গড় হিসাবে গতকাল প্রতি ডলারের বিক্রয়মূল্য ছিল ৭৯ টাকা ৯৫ পয়সা।
একইভাবে ব্রিটিশ পাউন্ডের দামও বেড়েছে ব্যাংকগুলোতে। গতকাল মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংক প্রতি পাউন্ড বিক্রি করেছে ১২১ টাকায়। নগদ টাকায় সব চেয়ে কম দামে ডলার বিক্রি করছে ইস্টার্ন ব্যাংক। ব্যাংকটির নগদ ডলার বিক্রি করছে ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা। ব্যাংকগুলোর চেয়ে মানিএক্সচেঞ্জ হাউজগুলোতে কম দামে ডলার বিক্রি করছে বলে জানা গেছে। রাজধানীর পল্টনে চকবাজার মানিএক্সচেঞ্জে গতকাল প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এদিকে ডলারের দাম বাড়ায় সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়োজিত অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সর্তক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ডলারের দর যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ