ঢাকা, বুধবার 25 April 2018, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ৮ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কৌশল পাল্টে এখন ফোন করলেই মাদকদ্রব্য হোম ডেলিভারি

 

খুলনা অফিস: খুলনায় কৌশল পাল্টে এখন ফোন করলেই মাদকদ্রব্য হোম ডেলিভারি দিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে মাদক বেচাকেনার স্পটগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বেশি টাকার বিনিময়ে হোম ডেলিভারি দেয়া হচ্ছে। এতে মাদকের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার তরুণ যুবসমাজ।

জানা যায়, খুলনার বিভিন্ন স্পটে তিন শতাধিক ব্যক্তি মাদক ব্যবসায় জড়িত উল্লেখ করে সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে তালিকা পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই তালিকায় খুলনার প্রভাবশালী কয়েকজনের নাম থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মাদক প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে মাদকবিরোধীরা। এতে রাতারাতি কৌশল বদলে ফেলেছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

খুলনার চরেরহাট বস্তি এলাকার বাসিন্দা বিল্লব হাসান জানান, ইদানিং মাদক ব্যবসায়ীরা কয়েকটি ছোট ছেলেকে এই কাজে নিয়োগ দিয়েছে। বাইরের এলাকা থেকে মাদক কিনতে এলে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের পর এই ছেলেদের মাধ্যমে সুকৌশলে মাদক পৌঁছে দেয়া হয়। এছাড়া মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে করেও বিভিন্ন স্থানে মাদক পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। নগরীর শেখপাড়া, সোনাডাঙ্গা বউবাজার ও আউটার বাইপাসে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

তথ্য অনুযায়ী, আকারে ছোট ও বহনে সুবিধাজনক হওয়ায় খুলনায় বর্তমানে ইয়াবা পাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। হোম ডেলিভেরিতে ইয়াবা পাচার ঠেকাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। 

জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে গোপনে এই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা কখনো ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, ইউনিফর্ম পরা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ইজিবাইক চালক ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার ছদ্মবেশে মাদকসেবীদের কাছে মাদক পৌঁছে দেয়।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মহানগরীর সদর, লবণচরা, হরিণটানা, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর, ২নং কাস্টমঘাট, সার্জিক্যাল ক্লিনিক এর পাশে, দৌলতপুর বাজার, বিএল কলেজ রোড, চরেরহাট, পূজাখোলা, শিল্প ব্যাংক এর পেছনের বস্তি, নিউমার্কেট, ফুলবাড়ীগেট রেলবস্তি এলাকায় ছোট ছোট আকারের মাদক সেলস সেন্টার গড়ে উঠেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে প্রভাবশালী ব্যক্তি, পুলিশ ও পুলিশের সোর্স পরিচয়ে লোকজন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান জানান, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি তালিকাভুক্তদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, জনবল কম থাকায় অভিযানে কিছুটা বিঘœতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে নিয়মিতভাবে পুলিশ ও র‌্যাব মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের নির্মূলে অভিযান পরিচালনা করছে।

ইয়াবা, গাঁজা ও মাদক বিক্রির টাকাসহ মেয়ে-জামাই গ্রেফতার : বাবা খুলনার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী খোকন শেখ ওরফে গাঁজা খোকন গাঁজাসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতারের মাত্র চার দিনের মাথায় তার মেয়ে-জামাইকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা ও মাদক বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাতে নগর গোয়েন্দা পুলিশ নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া জাকারিয়া রোডস্থ আফরোজা সুলতানার ভাড়া বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-খোকন শেখ ওরফে গাঁজা খোকনের মেয়ে খুশি আক্তার (১৮) এবং তার স্বামী সুমন সরদার ওরফে ব্লেড বাবু (২২)।

ডিবির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এএম কামরুল ইসলাম পিপিএম জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে রোববার রাতে খুলনা থানাধীন টুটপাড়া জাকারিয়া রোড, ৩০নং ওয়ার্ড, আফরোজা সুলতানা, স্বামী-সেলিম এর বাসার ২য় তলায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভাড়াটিয়া আসামি সুমন সরদার ওরফে বাবু, পিতা-আব্দুর রউফ এবং তার স্ত্রী খুশি আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বসতঘর ঘরে অভিযান চালিয়ে ১০৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০৫ গ্রাম গাঁজা এবং মাদকদ্রব্য বিক্রির এক হাজার ২৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে ১৯ এপ্রিল গাঁজাসহ পুলিশ গ্রেফতারকৃত খুশির বাবা গাঁজা খোকনকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ