ঢাকা, বুধবার 25 April 2018, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ৮ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যা শুনলে শরীর আঁতকে উঠে

জাফর ইকবাল : এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যা শুনলে শরীর আঁতকে উঠে। আমাদের সমাজের চারপাশে হরহামেশা এসব ঘটনা ঘটেই চলেছে। এবারের রয়েছে সেরকম কিছু আয়োজন।
পাকস্থলী থেকে লাইটার উদ্ধার: পেরেক, সুই, গজ, চামচসহ নানান ধরনের উদ্ভট জিনিস পেট থেকে উদ্ধার করার খবর আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। তবে এবার চীনের এক ব্যক্তির পেটে অস্ত্রোপচার করে বের করা হয়েছে লাইটার! চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদু শহরে বসবাসকারী এই ব্যক্তি ভুলে একটি লাইটার গিলে ফেলেন। তারপর এক-দুইদিন নয়, টানা বিশ বছর পাকস্থলীতে লাইটার নিয়ে তিনি দিব্যি সুস্থ ছিলেন। একদিনের জন্যও তিনি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি।
তবে কিছুদিন আগে পেটে অসহ্য ব্যথা নিয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, তার পেটের ভিতরে একটি লম্বাটে ধরনের বস্তু রয়েছে। নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন, ওই লম্বাটে জিনিসটি প্রকৃতপক্ষে একটি লাইটার! দশ মিনিটের একটি জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাকস্থলী থেকে তা বের করে আনা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।
ফোন পাচারকালে বিড়াল আটক: পৃথিবীর সব দেশের কারাগারেই কয়েদিদের গোপনে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ঘটনা কম-বেশি শোনা যায়। কারাগারের বাইরে যোগাযোগ করার জন্য তারা নানা অবৈধ উপায়ে মোবাইল ফোনের ব্যবস্থা করে। তবে কোস্টারিকার লা রিফর্ম কারাগারের বন্দিরা মোবাইল ফোন ভেতর থেকে বাইরে পাচার কিংবা বাইরে থেকে ভিতরে আনা-নেওয়ার কাজে অভিনব এক পন্থা বেছে নিয়েছে। এই কাজে তারা ব্যবহার করছে প্রশিক্ষিত বিড়াল।
সম্প্রতি কারাগারের দ্বাররক্ষীরা মোবাইল পাচারের কাজে নিয়োজিত একটি বিড়াল আটক করেছে। কোস্টারিকার বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় আটককৃত বিড়ালটির গলা এবং বুকের মাঝখানে একটি মোবাইল ফোন ও একটি চার্জার বাঁধা রয়েছে। কিন্তু এত উপায় থাকতে মোবাইল ফোন পাচারের কাজে বিড়াল কেন? দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে,  মানুষের মাধ্যমে কারাগারে মোবাইল ফোন পাঠানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ একজন দর্শনার্থীকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষা করে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। অন্যদিকে একটি বিড়াল বিনা বাধায় কারাগারে প্রবেশ করতে পারে। ফলে মানুষ থেকে এই কাজে বিড়ালই বেশি নির্ভরযোগ্য।
কুকুরের গুলিতে প্রেমিকা আহত: মাঝ রাত। শুনশান নীরবতার চাদরে মোড়ানো চারদিক। শোবার ঘরে গভীর  ঘুমে আচ্ছন্ন ফ্লোরিডার ব্রেইন মারফি ও তার প্রেমিকা । পোষা কুকুরের জ্বালাতনে হঠাৎ ঘুম ভাঙল মারফির। ভাবলেন কুকুরটিকে পাশের ঘরে রেখে আসবেন। কুকুর রাখতে গিয়েই যত বিপত্তির শুরু। গলার বেল্ট ধরে টেনে তিনি কুকুরটিকে পাশের ঘরে নিয়ে যান। কিন্তু কুকুরটির তেমন ইচ্ছে ছিল না। কুকুরটি পুনরায় শোবার ঘরে ফিরে আসে। এরপরই বিকট আওয়াজ ও বারুদের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।
তড়িঘড়ি করে শোবার ঘরের লাইট জ্বালায় মারফি। এবং এরপর যা দেখলেন তাতে হতবাক হয়ে পড়লেন পঁচিশ বছর বয়সি এই যুবক। রক্তে ভেসে যাচ্ছে শোবার ঘর আর বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছে তার প্রেমিকা। কী ঘটেছে বুঝে উঠতে কিছুটা সময় লেগে যায় তার। দ্রুত রক্ত বন্ধ করার জন্য প্রেমিকার পায়ে তোয়ালে বাধতে গিয়েই তিনি প্রথম বুঝতে পারেন পোশা কুকুরটিই এই অঘটনের জন্য দায়ী। দৌড়ে যখন কুকুরটি শোবার ঘরে ঢুকেছিল তখন বিছানার পাশে রাখা পিস্তলের ট্রিগারে কুকুরের পায়ের চাপ লাগে। সেফটি ক্যাচ চালু না থাকায় গুলি বেরিয়ে গিয়ে সরাসরি লাগে মারফির প্রেমিকার পায়ে।
মারফির প্রেমিকা বর্তমানে সুস্থ আছেন। চিকিৎসা নিচ্ছেন স্থানীয় একটি হাসপাতালে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে মামলা করেনি।
ডিপ ফ্রিজে: পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে অপরাধীরা নানা রকম ছল চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে থাকে। পালিয়ে বেড়ায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। তবে পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে ক্রিস্টোফার শান যেটা করেছেন সেটা একই সাথে বিস্ময়কর এবং হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ক্রিস্টোফার পেশায় মাদক ব্যবসায়ী। মারিজুয়ানা, হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদক বিক্রয় করেন তিনি। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে নাম রয়েছে এই মাদক বিক্রেতার।
গত মার্চে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া পুলিশ দপ্তরে একটি ফোন কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি ক্রিস্টোফারের লুকিয়ে থাকার ঠিকানা জানায়। ঠিকানার সূত্র ধরে ওই বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ক্রিস্টোফার একটি ব্যাগে মাদক নিয়ে লুকিয়ে পড়ে।
পুলিশ তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকে বাড়ির ভেতর। অবশেষে তাকে পাওয়া যায় বাড়ির নিচতলায় রাখা একটি ডিপ ফ্রিজের ভেতর। ফ্রিজ থেকে টেনে বের করা হয় তাকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় সাতাশ ব্যাগ মারিজুয়ানা, সাত ব্যাগ হেরোইন।বর্তমানে ক্রিস্টোফার ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
আর মাদক বিক্রি করবে না এই মর্মে তার কাছ থেকে চল্লিশ হাজার মার্কিন ডলারের একটি বন্ডে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ