ঢাকা, বুধবার 25 April 2018, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ৮ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খরচ বার্ষিক ১ কোটি

নয় নয় করেও গ্রামের জমির পরিমাণ প্রায় ১১ বিঘে, আর সেখানেই প্রতিদিন রীতিমতো যাকে বলে কি না পাত পেড়ে খাে প্রায় সত্তরটি সারমেয়। এই জমি থেকে যে আয় হয়, তাতে চলে এইসব সারমেয়ের যাবতীয় ভরণপোষণ। গুজরাটের মেহসানার কাছে পাঞ্চোত গ্রামের ঘটনা এটি। মেহসানার রাধাণপুর বাইপাসের ধারে এই জমির দাম প্রায় প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই জমি রীতিমতো উর্বর চাষের জমি, প্রতিবছরই আয় উঠছে বার্ষিক নিলামে। আর এভাবেই আয় করে চলেছে মধু কি পতি কুতারিয়া ট্রাস্ট। এই ট্রাস্টের মোট বার্ষিক আয়ের তেকে এক কোটি টাকা কুকুরদের খাবার জন্য বরাদ্দ হয়। পতিদার গোত্রের কৃষকদের দ্বারা প্রায় ৭ বছর আগে এই পরিচালন সমিতির কাজ শুরু হয়েছিল।
তখন জনা পনেরো ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয় সারমেয়দের রোটলা তৈরির জন্য। রোটলা হল মিলেটের রুটি। তার পর একে একে প্রজন্মর পর প্রজন্ম স্বেচ্ছায় এইসব সারমেয়র খাওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে। এমনকী রোটলা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মিলেট সরবরাহ হয় যে আটাকল থেকে মালিকও কোনও পয়সা নিতেন না। ২০১৫ সালে প্রথমবারের জন্য তৈরি হয় রোটলা ঘর। সেখানকার দায়িত্বে রাখা হয় দুজন স্থানীয় মহিলাকে, যারা প্রতিদিন ২০-৩০ কেজি মেলেটের রোটলা তৈরি করেন।
তারপর সন্ধে সাড়ে সাতটা বাজলেই গ্রামের লোকেরা ঘুরে ঘুরে সারমেয়দের রোটলা দিতে থাকে, এমনকী পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিতে তাদের জন্য বরাদ্দ অতিরিক্ত একটি করে লাড্ডু। তবে শুধু সারমের সেবাতেই এই ট্রাস্ট এখন নিয়োজিত নয়। পাখিদের জন্য কয়েকশো কিলো করে শস্য মজুত রাখছে, গরুদের জন্য পশু পাসপাতালে তৈরি হয়েছে বার্ন ইউনিট। অবলা প্রাণিদের দেখাশোনার দায়িত্বও তাঁরা কয়েকবছর ধরে পালন করে আসছেন।
ট্রাস্টির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ছাগনভাই প্যাটেল জানান, এই ট্রাস্টির পথচলা তখন শুরু হয়েছিল তখন অনেক বিত্তবান পরিবারই তাদের জমি দান করেছিল। পরে অনেক পরিবার খাজনা দিতে অপারগ হওয়ায় অকাতরে জমি দান করতে থাকে। যদিও জমির মালিকানা পূর্বের মালিকদের হাতেই আছে। তবে প্রত্যেকেই খুশি পশুদের হিতার্থ জমি দিতে পেরে।
আপাতত ট্রাস্টির লক্ষ্য, ভবিষ্যতে সারমেয়সহ বিভিন্ন রকমের পশুমে উন্নত পরিষেবার আওতায় আনা। আর প্রবীণদের আশা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এভাবে সারমেয়দের খেতে দিয়ে, অবলা প্রাণীদের চিকিৎসা করে গ্রামের ঐতিহ্যকে বয়ে নিয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ